হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৩

coSam ৯৮


হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তরুণ সত্যিই বড় লজ্জিত হয়ে হযরত যুননুন (রঃ)- এ কাছে ফিরে এলেন। তিনি সবই জানতেন। তাই বললেন, তোমাকে ইসমে আজম শেখাবার ব্যাপারে পর পর সাতবার আল্লাহর কাছে অনুমতি চেয়েছি। পাইনি। শেষে ইঁদুর দিয়ে তোমাকে পরীক্ষা করার অনুমতি পেলাম। পরীক্ষায় বোঝা গেল, এ ব্যাপারে তিনি আমাকে অনুমতি দেননি কেন। এখন তুমি দেশে ফিরে যাও। পরে সময়মত আবার এস।

মর্মাহত বিষণ্ণ তরুণ তখন কাতর প্রার্থনা জানালেন, বিদায় বেলায় আমাকে কিছু উপদেশ দিন হুজুর। হযরত তাঁর এ প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। তাঁকে তিনটি উপদেশ দিলেন। তিন শ্রেণীর উপদেশ। উত্তম, মধ্যম ও অধম। উত্তম উপদেশটি হল, এলেম কালাম যা তিনি শিখছেন সব মন থেকে মুছে ফেলতে হবে। নিজেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ বা মূর্খ বলে মনে করতে হবে। তাহলে তাঁর মধ্যে যে যবনিকা রয়েছে তা দূর হয়ে যাবে।

মধ্যম উপদেশ, তিনি তাঁর দীক্ষাগুরুকেও ভুলে যাবেন। কারও কাছে কখনও বলবেন না যে, আমার পীর অমুক বা তিনি আমাকে একথা বলেছেন। কেননা, এ ধরণের কথাবার্তার মধ্যেও আত্মগৌরব বা অহমিকা প্রচার করা হয়।

অধম উপদেশ, মানুষকে আল্লাহর দিকে ও হেদায়েতের পথে ডাক দিতে হবে।

তরুণ ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে বললেন, তিনি প্রথম উপদেশটি পালন করতে পারবেন না। আর দ্বিতীয় উপদেশটিও তাঁর পক্ষে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। অবশ্য আল্লাহর ইচ্ছা হলে তৃতীয়টি তিনি অবশ্যই পালন করবেন। হযরত যুননুন (রঃ) বললেন, এর মধ্যেও শর্ত রয়েছে, এ কাজে নিজের বা শ্রোতাদের প্রতি তোষণনীতি চলবে না। কোন পার্থিব উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ওয়াজ-নসীয়ত করবেন।

তরুণ তাঁর এ নির্দেশ অবশ্যই মেনে চলবে, একথা বলে স্বদেশে ফিরে গেলেন।

দেশে ফিরে হযরত যুননুন (রঃ)-এর নির্দেশমত তিনি এলমে মারেফাতের প্রচার শুরু করেন। সেদেশে তখন এলেম মারেফাতের কোন চর্চা ছিল না। সুতরাং সমাজের সঙ্গে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠল। তাঁরা তরুণের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করলেন। ফলে তিনি একা হয়ে গেলেন। কোথাও মাহফিলের আয়োজন হলে সেখানে আর শ্রোতা পাওয়া যায় না। অবস্থা দেখে তিনি সেখান থেকে  চলে যাবার মনস্থ করলেন। কিন্তু তাঁকে বাঁধা দিলেন এক বৃদ্ধা মহিলা। বললেন, আল্লাহকে খুশীর করার জন্যই তুমি ওয়াজ-নসীহত করবে, মানুষকে নয়। হযরত যুননুন (রঃ)-এর কাছে তুমি এরকম অঙ্গীকারই করেছ। তোমার কথা কে শুনল আর কে শুনল না তাতে তোমার  তোমার কি যায় আসে? অতএব তুমি এখান থেকে চলে যেতে পার না।

তরুণের চৈতন্যেদয় হল। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুতরাং তাঁকে তাঁর কাজ করে যেতেই হবে। করলেনও তাই। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে আল্লাহকে খুশী করার জন্যই তিনি ওয়াজ নসীহতের চর্চা চালিয়ে গেলেন। এই অসামান্য তরুণই হলেন ইতিহাসখ্যাত জ্ঞান-তাপস হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ)।

আল্লাহর পথে মানুষকে তিনি যে ডাক দিলেন, সে ডাকে এক-দুই করে ফিরে এল অসংখ্য মানুষ। এমনকি অসৎ প্রকৃতির অসামাজিক মানুষ। এরকম এক যুবকের নাম আবদুল ওয়াহেদ যায়েদ। বংশের কলঙ্ক, কুলাঙ্গার। একদিন সে হযরত ইউসুফ (রঃ)-এর এক সভায় উপস্থিত ছিল। হযরত তখন বক্তৃতা দিচ্ছেন-উপায়ন্তর না দেখে কোন মানুষ যেমন কোন মানুষকে ডাকে, তেমনি আল্লাহ পাকও আপন রহমতে পাপী লোককে ডাকেন। তাঁর এই কথাটি শুনেই আবদুল ওয়াহেদ বিচলিত হয়ে পড়ে। আর যা তার পরনে ছিল পোশাক, টুপি সবকিছু ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ছুটে গেল কবরস্থানের দিকে। সেখানে পড়ে রইল তিন দিন ধরে অচৈতন্য অবস্থায়।

হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ৪

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইউসুফ ইবনে হুসাইন রাযী (রঃ) – পর্ব ২

ক্যাটেগরী