হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ৩ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ৩

coSam ১১৩


হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কিছুদিন পরে এই দলটি চড়াও হল এক বাণিজ্য- কাফেলার ওপর। ডাকাত সর্দারের নির্দেশ এল, বড় ব্যবসায়ীর সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তাকে বধ করতে হবে। আর তার ভার পড়ল নবনিযুক্ত লোকটির ওপর। সে ভাবতে লাগল অযথা লোকটিকে প্রাণে মেরে কী লাভ! মালপত্র যা ছিল, সবই তো হস্তগত হয়েছে। ডাকাতরা যে কত নৃশংস, অকারণে এরা যে কত নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, এসব কথা তার মনে আলোড়ন সৃষ্টি করল। আর সে মন বিদ্রোহীও হয়ে ওঠল। এদের এই জঘন্য ও মারাত্নক অন্যায়কে কিছুতেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত ডাকাত সর্দারকেই সে খূন করার সিদ্ধান্ত নিল।

বণিক বধের আদেশ পালিত হয়নি বলে ডাকাত সর্দার এবার লোকটিকে তেড়ে এসে

গালি-গালিজ দেয়। লোকটি বলল, আল্লাহর আদেশ পালন না করে আমি তোমার আদেশ পালন করব ভেবেছে। বলেই, সে অতর্কিতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার শিরচ্ছেদ করল। অবস্থা দেখে দলের অন্যান্য ডাকাত যে যে দিকে পারল, হতবুদ্ধি হয়ে দৌড়ে পালাল। রেখে গেল যাবতীয় লুটের মাল।

হৃতসর্বস্ব বণিকরা অদূরে বসে সব দেখছিল। তারা এবার এগিয়ে এসে লোকটিকে ধন্যবাদ জানাল এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ অর্ধেক মাল তাকে উপহার দিল। আর অচিরেই সে ধনী হয়ে গেল। এই ভাবে হযরত খাযরুইয়ার (রঃ) নির্দেশ সফল হন।

তিনি একবার গেছেন এক সাধকের সাধনালয়ে। পরনে জীর্ণ বসন। দরবারে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা তাঁর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেন। কিছুক্ষণ পরে ওখানকার কুয়ার পানি তোলার বালতির দড়ি ছিড়ে গেল। বালতি পড়ে গেল। কুয়ার তলায়। চেষ্টা করেও তা আর ওঠানো গেল না। স্নাও ও ওযুর জন্য বেশ অসুবিধা দেখা দিল। তখন তিনি সাধককে বললেন, আপনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন বালতি ওঠে আসবে। না হয় আমাকে অনুমতি দিন, আমিই প্রভুর কাছে মিনতি জানাই। দরবেশ অনুমতি দিলেন। দেখা গেল, তাঁর মোনাজাতের সঙ্গে সঙ্গে পানির নিচ থেকে বালতিটি ভেসে ওঠল। আর দরবার – শুদ্ধ লোক এই অভাবনীয় ব্যাপার দেখে তাজ্জব বনে গেল। এবার তিনি সকলের পরম শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠলেন। তিনি দরবেশকে বললেন, তিনি যেন তাঁর শিষ্যদের উপদেশ দেন কোন মুসাফিরকে তাঁরা যেন কখনও এভাবে অবজ্ঞা না করেন।

হযরত আহমদ (রঃ) একবার এক স্বপ্নে দেখেন, সব মানুষ গাধা ও গরুর মত ঘাস খাচ্ছে। তাঁর স্বপ্নের বিবরণ শুনে একজন বললেন, আপনি তখন কোথায় ছিলেন? তিনি বললেন, আমিও অবশ্য তাদের সঙ্গে ছিলাম। তবে তফাতটা এই যে, তারা ঘাস খাচ্ছিল, হাসছিল আর আনন্দ করছিল। নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কোন অনুভূতি ছিল না। আর আমি রুটি খাচ্ছিলাম আর হাঁটুতে মাথা গুঁজে নিজের দুরবস্থার কথা ভাবছিলাম।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) –শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ২

ক্যাটেগরী