হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ১

coSam ১২৩


হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) সেকালের এক স্বনাম-ধন্য সাধক। শুধু সাধক নন, শুধু অলৌকিক শক্তির অধিকারী নন, তিনি সু-লেখক ও বটে। বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথম হযরত হাতেম আসাম (রঃ)-এর সান্নিধ্যে থেকে কালা-তিপাত করেন।

খোরাসনের বলখের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। সাধারণতঃ সৈনিকদের পোশাক পরতেন। তাঁর বিবাহের ঘটনা বেশ চমকপ্রদ। স্ত্রী ফাতিমা ছিলেন এক বিত্তশালীর কন্যা। তিনি স্বয়ং হযরত আহমদের (রঃ) তাঁর এ আবেদন প্রত্যাখান করেন। কিন্তু নিরাশ না হয়ে ফাতিমা আবারও তাঁর কাছে এই বলে লোক পাঠান যে, সত্য পথের পথিক হিসাবে মানুষকে সৎপথ দেখানো আপনার একান্ত কর্তব্য। আর কেউ যদি সুপথে চলার আগ্রহ পোষণ করে থাকে, তবে তাকে বাধা দেওয়াও আপনার একান্ত আপনার উচিত নয়। হযরত আহমদ আর দ্বিরুক্তি না করে তাঁর আবেদনে সাড়া দেন। তিনি তাকে পত্নীত্বে বরণ করেন। অতঃপর পতি-পত্নী উভয়েই সাধনমার্গে চলতে থাকেন।

তাঁর সম্বন্ধে বিখ্যাত সাধক হযরত আবু হাফস বলেন, তাঁর মতো সত্য সাধক, ন্যায়-নিষ্ঠ সৎ সাহসী ব্যক্তি আর কাউকে দেখছি না। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, আহমদ খাযরুইয়ার (রঃ) অনুপস্থিতিতে মানুষ সৎ সাহস ও মনুষ্যত্বের পরিচয়ই লাভ করত না।

তিনি একবার সস্ত্রীক হযরত বায়েজীদ (রঃ)-এর দরবারে যান। তাঁর স্ত্রী এই মহাতাপসের সঙ্গে যখন কথাবার্তা বলেন, তখন তাঁর মুখের ওপর কোন পর্দা ছিলনা। তাতে হযরত আহমদ (রঃ) বড় ক্ষুব্ধ হন। স্বামীর মনোভাব বুঝতে পেরে শ্রদ্ধেয়া ফাতিমা বললেন, আপনি আমার পরম শ্রদ্ধেয়া মুরশিদ। আপনার দ্বারা যৌন কামনা চরিতার্থ করি। আর হযরত বায়েজীদ (রঃ)-এর কাছে আল্লাহর নৈকট্যের সন্ধান করি। তিনি আমার সঙ্গ চান না। কিন্তু আপনি আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। এটিই বাস্তব।

হযরত আহমদ (রঃ) অতঃপর আর কোন দিন এ নিয়ে উচ্চ বাচ্য করেননি। ফাতিমাও বায়েজীদের (রঃ) সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতেন।

কিছুদিন পরে তিনি হঠাত দেখতে পান, ফাতিমার হাতের তালুতে মেহেদী লাগানো আছে। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যতদিন আমার কোন অঙ্গের ওপর আপনার দৃষ্টি পড়েনি, ততদিন আপনার দরবারে যাতায়াত করা আমার কাছে ছিল আনন্দজনক। কিন্তু আজ যখন তা পড়েছে, তখন এখানে আসা আর সম্ভব নয়। তা আমার জন্য হারাম হয়ে গেল। এই বলে স্বামীসহ সেখান থেকে তিনি উঠে আসেন। পরে তাঁরা নিশাপুরে চলে যান।

একবার নিশাপুরে এলেন হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মাআয (রঃ)। তাঁকে বাড়ীতে দাওয়াত জানানোর জন্য স্বামী-স্ত্রী শলা-পরামর্শ করলেন ফাতিমার ইচ্ছা, দাওয়াতের আয়োজন ভালোভাবেই করা হোক। ছাগল, মেশক আম্বর, জাফরান চাই, বিশ ঝুড়ি খেজুর চাই ইত্যাদি। কথাটা হযরত আহমেদ (রঃ)-এর তেমন বোধগম্য হল ফাতিমা বুঝিয়ে বললেন, পরম সম্মানিত অতিথির আগমনে পাড়া-প্রতিবেশীদের দাওয়াত করতে হবে। একটা কুকুরকেও বাদ দেওয়া যাবে না। হযরত আহমদ (রঃ) স্ত্রীর এ প্রস্তাব মেনে নিলেন। তার নির্দেশমত সবকিছুর আয়োজন করা হল। হযরত বায়েজীদ (রঃ) যথার্থ বলেছেন, যদি তোমাদের কোন নারী বেশী বীরকে দেখার ইচ্ছা হয়, তাহলে আহমদ খাযরুইয়ার (রঃ) পত্নী ফাতিমাকে দেখে নাও।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আহমদ খাযরুইয়া বলখী (রঃ) – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী