হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (রাঃ) কে দাওয়াত প্রদান | আমার কথা
×

 

 

হযরত আলী ইবনে আবি তালেব (রাঃ) কে দাওয়াত প্রদান

coSam ১৪৭


ইবনে ইসহাক (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, নবী কারীম (সাঃ) ও হযরত খাজিদা (রাঃ) নামাজ পড়িতেছিলেন। এমন সময় হযরত আলী (রাঃ) সেখানে আসিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, হে মুহাম্মাদ ইহা কি? নবী কারীম (সাঃ) বলিলেন, ইহা আল্লাহর দ্বীন যাহা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করিয়াছেন এবং উহা প্রচার করিবার জন্য আপন রাসূলগণকে পাঠাইয়াছেন। আমি তোমাকে এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতেছি, যাঁহার কোন অংশীদার নাই; তাঁহার এবাদত কর ও লাত, ওযযার এবাদতকে অস্বীকার কর। হযরত আলী (রাঃ) বলিলেন, ইহা এমন একটি বিষয় যাহা আমি আজকের পূর্বে কখনও শুনি নাই। সুতরাং আমি আবু তালেবকে জিজ্ঞাসা না করিয়া কোন সিদ্ধান্ত লইব না। রাসূল (সাঃ) ইহা পছন্দ করিলেন না যে, দ্বীন সম্পর্কে তাঁহার পক্ষ ইহতে প্রকাশ্যে ঘোষণার পূর্বে তাহা ফাঁস হইয়া যাক। অতএব তিনি বলিলেন, হে আলী, যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর তবে গোপন রাখ।

হযরত আলী (রাঃ) এই অবস্থায় সেই রাত্র কাটাইলেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাঁহার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ ঢালিয়া দিলেন। তিনি সকালবেলা রাসূল (সাঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেন, হে মুহাম্মাদ, গতকাল আমাকে কি বলিয়াছিলেন? রাসূল (সাঃ) বলিলেন, সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতিত কোন মাবুদ নাই, তিনি এক তাঁহার কোন অংশীদার নাই, আর লাত ও ওযযার অস্বীকার কর এবং যেসব কিছুকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা হয় উহাদের সহিত সম্পর্ক ছিন্ন কর। সুতরাং হযরত আলী (রাঃ) তাহাই করিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করিলেন। তারপর তিনি আবু তালেবের ভয়ে রাসূল (সাঃ)-এর নিকট গোপনে আসা যাওয়া করিতেন এবং নিজের ইসলাম গ্রহণকে গোপন রাখিলেন, প্রকাশ করিলেন না।

হাব্বাহ ওরানী (রহঃ) বলেন, আমি হযরত আলী (রাঃ) কে একবার মিম্বরে বসিয়া এত অধিক হাসিতে দেখিয়াছি যে, এরুপ আর কখনও দেখি নাই। হাসির দরুণ তাঁহার সম্মুখের দাঁতগুলি প্রকাশ হইয়া গিয়াছিল। অতঃপর তিনি (হাসির কারণ স্বরূপ) বলিলেন, আবু তালেবের কথা আমার মনে পড়িয়া গিয়াছিল। একদিন আমি বাতনে নাখলা নামক স্থানে রাসূল (সাঃ)-এর সহিত নামাজ পড়িতেছিলাম। এমন সময় আবু তালেব সেখানে উপস্থিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ভাতিজা, তোমরা কি করিতেছ? রাসূল (সাঃ) তাহাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা যাহা করিতেছ উহাতে কোন অসুবিধা নাই, তবে (সিজদার সময়) আপনি নিতম্বদ্বয় উপরে উঠানো আমার দ্বারা কখনও সম্ভব হইবে না। হযরত আলী (রাঃ) পিতার কথায় আশ্চর্য হইয়া হাসিলেন। তারপর বলিলেন, আয় আল্লাহ, আপনার নবী ব্যতিত এই উম্মতের কোন বান্দা আমার পূর্বে আপনার এবাদত করিয়াছে বলিয়া আমার জানা নাই। এই কথা তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করিয়া বলিলেন, অন্যান্য লোকদের অপেক্ষা সাত বছর পূর্বে আমি নামাজ পড়িতে আরম্ভ করিয়াছি। (আহমাদ, আবু ইয়ালা)

সূত্রঃ হায়াতুস সাহাবা


পরবর্তী গল্প
হযরত আহমদ সাওয়ারী (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবুল হাসান বুশঙ্গী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী