হযরত আমর ইবনে মুররাহ জুহানী (রাঃ) কর্তৃক নিজ কওম কে দাওয়াত প্রদান – ১ম পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত আমর ইবনে মুররাহ জুহানী (রাঃ) কর্তৃক নিজ কওম কে দাওয়াত প্রদান – ১ম পর্ব

coSam ৫৯


হযরত আমর ইবনে মুররাহ জুহানী (রাঃ) বলেন, আমরা জাহিলিয়াতের যুগে নিজ কওমের জামাতের সহিত হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলাম। মক্কায় অবস্থানকালে স্বপ্নে দেখিলাম যে, কা'বা শরীফ হইতে একটি নূর উপরে উঠিয়া ছড়াইয়া পড়িয়াছে এবং ইয়াসরাব (অর্থাৎ মদীনার) পাহাড় ও জুহাইনার আশআর নামক পাহাড়কে আলোকিত করিয়া দিয়াছে। সেই নূরের ভিতর হইতে আমি এক আওয়াজ শুনিতে পাইলাম যে, অন্ধকার কাটিয়া গিয়াছে, আলো ছড়াইয়া পড়িয়াছে এবং খাতামুল আম্বিয়া প্রেরিত হইয়াছেন।

তারপর আবার সেই নূর চমকাইল, আমি এইবার সেই নূরের আলোতে হীরা শহরের মহলগুলি ও মাদায়েনের শ্বেতমহল দেখিতে পাইলাম এবং নূরের ভিতর হইতে এক আওয়াজ শুনিতে পাইলাম যে, ইসলাম প্রকাশ লাভ করিয়াছে, মূর্তিসমূহ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করা হইয়াছে। আমি ভয়ে ঘুম হইতে জাগিয়া গেলাম এবং কওমের লোকদেরকে বলিলাম, খোদার কসম, কোরাইশদের এই গোত্রে বিরাট কিছু ঘটিবে। আমি তাহাদিগকে আমার স্বপ্নের কথা বলিলাম।

তারপর দেশে ফিরিবার পর এই সংবাদ আসিল যে, আহমাদ নামক এক ব্যক্তি পয়গমরূপে প্রেরিত হইয়াছেন। অতএব আমি রওয়ানা হইলাম এবং তাঁহার নিকট পৌঁছিয়া আমার স্বপ্নের কথা বলিলাম। তিনি বলিলেন, হে আমর ইবনে মুররাহ আমি সমগ্র বান্দাদের প্রতি প্রেরিত নবী। আমি তাহাদিগকে ইসলামের প্রতি আহবান করিতেছি এবং তাহাদিগকে খুনের হেফাজত, আত্মীয়তার সম্পর্কে বজায় রাখা, এক আল্লাহর এবাদত করা, মূর্তি পূজা বর্জন করা, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ও বার মাসের এক মাস অর্থাৎ রমজান মাসের রোজা রাখার হুকুম করিতেছি। যে ব্যক্তি মানিয়া লইবে সে বেহেশত পাইবে। আর যে অমান্য করিবে সে দোযখে যাইবে। হে আমর, ঈমান আনয়ন কর আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দোযখের ভয়াবহ আযাব হইতে নিরাপত্তা দান করিবেন। হযরত আমর (রাঃ) বলেন, আমি বলিলাম, আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ ব্যতিত কোন মাবুদ

নাই এবং নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল এবং আপনার আনিত হালাল-হারাম সকল বিষয়ের প্রতি ঈমান আনিলাম। যদিও অনেক কওমের নিকট ইহা মন্দ লাগিবে। তারপর আমি কয়েক লাইন কবিতা পড়িয়া শুনাইলাম যাহা আমি তাঁহার নবুওয়াতের সংবাদ পাওয়ার পর রচনা করিয়াছিলাম। আমাদের একটি মূর্তি ছিল। আমার পিতা সেই মূর্তির সেবা করিতেন। আমি সেই মূর্তি ভাঙ্গিয়া ফেলিলাম এবং এই কবিতা আবৃতি করিতে করিতে নবী কারীম (সাঃ)-এর খেদমতে রওয়ানা হইলাম।

অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, আল্লাহ তায়ালা সত্য এবং পাথর নির্মিত মূর্তি পরিত্যাগে আমি সর্বপ্রথম। আমি পায়ের গোছার উপর লুঙ্গী উঠাইয়া হিজরতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইয়াছি। (ইয়া রাসূলাল্লাহ) আমি আপনার খেদমতে পৌঁছিবার জন্য দুর্গম পথ ও কঠিন জমিন অতিক্রম করিতেছি। (এই সকল কষ্ট স্বীকার করা) এইজন্য, যেন আমি সেই মহান ব্যক্তির সাহচর্য লাভ করিতে পারি যিনি ব্যক্তিগত ও বংশগত উভয় দিক হইতে সকল মানুষ অপেক্ষা উত্তম এবং যিনি সকল মানুষের মালিকের রাসূল, যিনি আসমানের উপর আছেন।

হযরত আমর ইবনে মুররাহ জুহানী (রাঃ) কর্তৃক নিজ কওম কে দাওয়াত প্রদান – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আমর ইবনে মুররাহ জুহানী (রাঃ) কর্তৃক নিজ কওম কে দাওয়াত প্রদান – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর দাওয়াত প্রদান

ক্যাটেগরী