হযরত আবূ জন্দলের উপস্থিতি | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবূ জন্দলের উপস্থিতি

coSam ১২৬


সোহায়লের নেতৃত্বে কুরাইশ প্রতিনিধি দল ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সন্ধির শর্তসমূহ নির্ধারিত হয়ে লিপিবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সবেমাত্র সন্ধিপত্র লেখার প্রস্তুতি চলেছে। এমন সময় আবু জন্দল নামক মুসলমান লৌহ শৃংখলাবদ্ধ অবস্থায় আলোচনা সভায় হাজির হন।

এ আবূ জন্দল আর কেউ নন, কুরাইশ প্রতিনিধি সোহাইলের পুত্র। ইসলাম কবূলের অপরাধে আত্মীয়বর্গ তাঁকে ইসলাম ত্যাগে বাধ্য করার করার জন্য লৌহ শৃংখলা বন্ধ করে অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছিল। আবূ জন্দলকে দেখেই সোহাইল বলে উঠল-মুহাম্মদ! সন্ধিমর্ত রক্ষার প্রথম পরীক্ষা সমুপস্থিত শর্তানুসারে আপনি আবূ জন্দলকে কুরাইদের হাতে সমর্পণ করতে বাধ্য। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) অনেকভাবে সোহাইলকে বুঝালেন, অনুরোধ করলেন আবূ জন্দলকে ফেরত দানের দাবী প্রত্যাহার করতে, কিন্তু সোহাইল কিছুতেই মানতে রাজি নয়।

তখন নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবূ জন্দল (রাঃ) কে মক্কায় ফিরে যেতে বলেন। সাহাবায়ে কিরাম এ করুন দৃশ্য দু'চোখে দেখতে পারছিলেন না। তাঁরা উত্তেজিত হয়ে উঠছেন। আবূ জন্দল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরামকে তাঁর দেহের ক্ষতস্থানসমূহ দেখিয়ে বলছেন, এ অবস্থায় আমাকে কুরাইশদের হস্তে ফিরিয়ে দেয়া হলে সেখানে ইসলাম পরিত্যাগের জন্য আমার উপর আবার অত্যাচার চলতে থাকবে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন গভীর বেদনাহত স্বরে আবূ জন্দলকে বলেন, আবূ জন্দল! তোমার পরীক্ষা নিত্যান্তই কঠিন সন্দেহ নেই, আল্লাহর নামে ধৈর্য ধারণ করে ও শক্তি সঞ্চয় করে এসব সহ্য করে যাও। মহান আল্লাহ অতি শীঘ্রই তুমি ও তোমার ন্যায় উপৎপীড়িত অত্যাচারিত মুসলমানদের মুক্তির একটা উপায় করে দিবেন।

আমরা কেবল মাত্র সন্ধির শর্ত স্থির করেছি, তাই এর অমর্যদা করা অসম্ভব। এসব বলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবূ জন্দলকে কুরাইশদের নিকট সমর্পণ করেন।

পরবর্তী গল্প
জঙ্গে হুসাইন

পূর্ববর্তী গল্প
সকল আরব গোত্রের সম্মিলিত শত্রুতা

ক্যাটেগরী