হযরত আবু হামজা খোরাসানী (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু হামজা খোরাসানী (রঃ) – পর্ব ১

coSam ১২৫


খোরাসানের বিখ্যাত সাধক হলেন হযরত আবু হামজা খোরাসানী (রঃ)। আল্লাহর প্রতি অবিচল নির্ভরতাই ছিল তাঁর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর কঠোর সাধনাও ছিল কিংবদন্তীতুল্য। আবার অলৌকিক শক্তিসম্পন্নও ছিলেন তিনি। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় তিনি নির্জন এবাদতে মগ্ন থাকতেন। তাঁর সঙ্গে হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রঃ) ও হযরত আবু তুরাব (রঃ)- এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

একদা তিনি চলেছেন এক প্রান্তরে। আল্লাহর প্রতি তাঁর অপরিসীম নির্ভরতা ছিল বলেই তিনি কারও কাছে কিছু প্রার্থনা করবেন না বলে স্থির করেন। অবশ্য, তাঁর বোন পাথেয়স্বরূপ কিছু রূপার মুদ্রা দেন। বোনকে খুশী করার জন্যই তিনি তা গ্রহণ করেন। মনের সায় ছিল না। এখন পথে নেমে তাঁর মনে এল বিরুক্তি। তিনি নিজের মনকে বললেন, রে মন! তোর কি কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই? থাম ছাড়াই যিনি আকাশকে শূন্য স্থির রেখেছেন তিনি কি রূপোর টাকা কয়টি ছাড়া তোর পাথেয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারতেন না। বলেই, মুদ্রাগুলি ফেলে দিলেন। আর হঠাৎ পড়ে গেলেন একটি কুয়ার ভেতরে।

তাঁর অবশ্য কোন আঘাত লাগল না। একবার মনে হল, তিনি জোরে চিৎকার করে উঠবেন। কেউ এসে তাঁকে উদ্ধার করবে। কিন্তু কারও কাছে কিছু চাইবেন না বলে যেহেতু তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অতএব, চুপ করে রইলেন। কিছুক্ষণ পরে, কুয়ার পাশ দিয়ে যেতে যেতে এক পথিক ভাবল, অসাধারণবশতঃ কেউ কুয়ার মধ্যে পড়ে যেতে পারে। তাই সে কাঁটা ও ডালপালা দিয়ে কুয়ার মুখটি বন্ধ করে দিল। হযরত হামজা (রঃ) সব দেখলেন কিন্তু কিছু বললেন না। এ সময় তাঁর প্রবৃত্তি একবার কেঁদে উঠে আল্লাহর আয়াত উচ্চারণ করল, তুমি তোমার নিজে থেকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেও না।

তাতে দমে না গিয়ে হযরত হামজা (রঃ) নসফকে শাসন করলেন। বললেন, তোর তোষামোদে আমি ভুলছি না। নির্ভরতা এর চেয়ে অনেক বেশী মহান। যিনি আমাকে কুয়ার বাইরে রক্ষা করেন, তিনি কুয়ার ভেতরেও রক্ষা করতে পারেন। তিনি চুপচাপ বসে রইলেন।

কিছুক্ষণ পরে একটি বাঘ এসে হাজির। সে করল কি, কুয়ার মুখের ডালপালা সরিয়ে পেছনের পা দুখানি কুয়ার ভেতরে ঝুলিয়ে দিয়ে, সামনের পা দুখানি দিয়ে কুয়ার কিনারা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরল। এই দৃশ্য দেখে নসফ আবার চাঙ্গা হয়ে উঠল। ইচ্ছা হল বাঘের পা দুখানি চেপে ধরেন। কিন্তু মনে মনে বললেন, না, আমি একটি তুচ্ছ বেড়ালের সাহায্য নিতে যাব কেন? তখন অদৃশ্য শব্দ শোনা গেল, হে আবু হামজা! এ তোমার রীতি-বিরুদ্ধে মনোভাব।

তুমি এ বাঘের পা ধরে বের হয়ে এস। আর তাই তোমার জন্য উচিত হবে। এরূপ ঘোষণা শুনে তিনি বাঘের পায়ের সাহায্যে কুয়া বাইরে এলেন। তখন আবার ধ্বনিত হল অদৃশ্য শব্দ। আমার ব্যবস্থা কেমন সুন্দর দেখলে! খোদা বাঘ দ্বারাই তোমাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করলাম। তুমি

যখন আমার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করেছ, তখন আমিও অভাবনীয়রূপে মৃত্যুর কোল থেকে তোমাকে ছিনিয়ে আনলাম। বাঘটি চলে গেল।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু হামজা খোরাসানী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইব্রাহীম ইবনে দাউদ রুকী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী