হযরত আবু সাঈদ খাযযার (রঃ) – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু সাঈদ খাযযার (রঃ) – শেষ পর্ব

coSam ১০৩


হযরত আবু সাঈদ খাযযার (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তিনি বলেন, আল্লাহ সকলের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করেন। অতএব, তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করা দরকার। যিনি আল্লাহকে নিজের প্রতি এহসানকারী বলে মনে না করেন, তিনি কখনও আল্লাহর সঙ্গে প্রেম করতে পারেন না। তিনি বলেনঃ

(১) সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীন। দারেস অন্তরে তাঁর ছায়া প্রতিফলিত হলে আল্লাহ ছাড়া সব দূরীভূত হয়।

(২) অভিজ্ঞতা বা বিচক্ষণতা দৃষ্টি দিয়ে দেখলে মূলত তা আল্লাহর জ্যোতির আলোকেই দেখা হয়। তাঁর জ্ঞানের মূল্য আল্লাহ। কাজেই তাতে ভুল-ভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। বরং তাঁর মুখ থেকে বের হয়, তা আল্লাহর কথা বটে।

(৩) আল্লাহর দাসগণের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যিনি আল্লাহর কালামসমূহ প্রকাশে খুবই দক্ষ, পারদর্শী। তাঁরা বাকপটুও বটে। কিন্তু আল্লাহর ভয়ে একেবারে নির্বাক।

(৪) অন্তরে যার আল্লাহর মারেফাত, তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ছাড়া কোন কিছুই দেখতে পান না। আল্লাহর কালাম ছাড়া কারও কথা তাঁর কানে প্রবেশ করে না। আর আআলহ ছাড়া কারও দিকে মুখও করে না।

(৫) আল্লাহ ছাড়া অন্য সব বস্তু থেকে মনকে মুক্ত এবং পবিত্র রাখা ও তাঁর ধ্যানে মগ্ন থাকাকেই শান্তি।

(৬) ধ্যান তিন প্রকার। যথাঃ (ক) জিভের যিকির, অন্তর অনুপস্থিত, (খ) জিভের যিকির ও সেই সঙ্গে অন্তরের উপস্থিত (এটি সফল ও পুণ্যযোগ্য), (গ) ধ্যানে হৃদয় নিমগ্ন কিন্তু জিভ নির্বাবক। (এর মূল্য একমাত্র আল্লাহই জানেন।)

(৭) সবকিছু থেকে সম্পর্ক শূন্য হয়ে শুধু আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ার নামই তওহীদ।

(৮) তত্ত্ব জ্ঞানী পূর্ণতাপ্রাপ্তির পূর্বে পার্থিব বস্তুর কামনা করে। পূর্ণতা-প্রাপ্তির পর আর এ অবস্থা থাকে না। তখন সবকিছু তারই মুখীপেক্ষী।

(৯) যার নৈকট্য প্রাপ্তি হয় তাকে ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর কোন কল্পনা মনে আসে না। এলেও তার দিকে দৃষ্টি যায় না। এটিই হল নৈকট্যের নিদর্শন।

(১০) আমল ছাড়া কোন কিছুর যিনি মুখাপেক্ষী নন, বরং সবকিছু তারই মুখাপেক্ষী, তিনিই হলেন আরেফ- বা তত্ত্বজ্ঞানী।

(১২) যিনি আরেফ- আল্লাহর পথে অবিরাম ক্রন্দনশীল। অতঃপর তিনি যখন তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হন, তখন তাঁর অন্তর হতে সবকিছু বিলীন হয়ে যায়।

(১৩) সাধকের আনন্দ সাধনাতেই। অন্য কিছুতে তাঁর শান্তি নেই।

(১৪) মনে-প্রাণে আল্লাহ নির্ভরতাই হল প্রকৃত তাওয়াক্কুল।

(১৫) নিরেজ ও আল্লাহর মধ্যে মিলনের বাঁধা যিনি দূর করতে পারেন না, তার তাকওয়া, মোরাকাবা, কাশফ ও মোশাহাদা প্রভৃতি কিছুই সফল হয় না।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু সাঈদ খাযযার (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত ইয়াহইয়া মাআয (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু সাঈদ খাযযার (রঃ) – পর্ব ৩

ক্যাটেগরী