হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – শেষ পর্ব

coSam ১২৩


হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৯ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তাঁর শেষ বিদায় ছিল বড় অস্থিরতাযুক্ত। তিনি নিজের হাতে ছাই, ধুলো বালি নিয়ে মাথায় মাখতে লাগলেন। এ অস্থিরতার কারণ হিসেবে বললেন, ইবলীসকে আমার দারুণ ঘৃণা, দারুণ হিংসা। আর হিংসা ও ঘৃণার আগুনে আমার অন্তর জ্বলছে। আমি দারুণ তৃষ্ণার্ত চাতকের মত তাকিয়ে আছি। তৃষ্ণায় আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার প্রভু আল্লাহ্‌ আমার তৃষ্ণা দূর করলেন না। তিনি রোজ কিয়ামত পর্যন্ত তোমার ওপর আমার অভিসম্পাত বলে তাঁকে অভিশাপের উপহার দান করলেন। অথচ এদিকে আমি এত উদগ্রীব যে, আমার বন্ধুর কাছ থেকে অভিশাপের মতো ঘৃণিত উপহার পেলেও আমি শান্ত ও আনন্দিত হবো। কিন্তু আমার তাও হল না। ইবলীশ আমার বন্ধুর কাছ থেকে একটা কিছু পেয়ে গেল।

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তিনি আবার বললেন, দু’রকমের হাওয়া বয়। রহমতের এবং গজবের। যার ওপর রহমতের হাওয়া বয়, তার মনের ইচ্ছা সহজে পূর্ণ হয়, আর যার ওপর গজবের হাওয়া বয়ে যায়, তা হলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। পার্থিব দুঃখ-কষ্ট ধ্বংসের মোকাবিলায় কিছুই নয়।

মৃত্যু আসন্ন জেনে তিনি ওজু করিয়ে দিতে বললেন। ওজুর সময় ভুল করে তাঁর দাঁড়ি খেলাল করা হল না। তিনি তা স্মরণ করিয়ে দিলেন। আর তা করা হল। তারপর তিনি নিচের দু’টি পংক্তি পাঠ করলেন।

যে গৃহে তুমি আছ, সে গৃহে আলোর প্রয়োজন নেই।

যেদিন সবই সপ্রমান হাজির হবে, সেদিন আমি তোমার দর্শনপ্রার্থী।

কথিত আছে, তাঁর মৃত্যুর আগেই বহু লোক জানাজার জন্য উপস্থিত হয়। তিনি তা বুঝতে পেরে বললেন, বড় আশ্চর্য জীবিত ব্যক্তির জানাজা পড়ার জন্য মৃত ব্যক্তিরা উপস্থিত। লোকে বলল, আপনি কালেমা তাইয়্যেবা পড়ুন। তিনি বললেন, যখন অন্য কোন প্রভুই নেই, তখন আমি কার অস্তিত অস্বীকার করব? লোকে বলল, এটা শরীয়তের রীতি। অতএব আপনি কালেমা পড়ুন। তিনি বললেন, প্রেমিক বাদশাহ বলেন, আমি ঘুষ নিই না। অতঃপর এক ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে কালেমা পাঠ করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, জীবিতকে কালেমা পড়াতে এসেছে মৃতরা। কিছুক্ষণ পরে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, প্রেমিকের সঙ্গে মিলন ঘটছে। তাঁকে প্রাণ সঁপে দিয়েছি। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

কথিত আছে, মৃত্যুর পর এক ব্যক্তি স্বপ্নযোগে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, মুনকার-নকীরের প্রশ্নের উত্তরে আপনি কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার প্রভু কে? আমি জবাব দিলাম যিনি আপনাদের এ অন্যান্য সব ফেরেশতাকে আদেশ দিয়েছিলেন আমার পিতা আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য, তিনিই আমার প্রভু। জবাব শুনে ফেরেশতাদ্বয় এ কথা বলতে বলতে চলে গেলেন যে, লোকটি তো আদম সন্তানদের সবার পক্ষ থেকেই প্রশ্নের জবাব দিয়ে গেল।

আর একজন তাঁকে স্বপ্নের মধ্যে প্রশ্ন করেন, আপনি পরকালের বাজার কিরূপ দেখতে পেলেন? তিনি জবাব দেন, এ বাজার অনাড়ম্বর। কেননা এখানে দগ্ধীভূত কলিজা ও বিচূর্ণিত হৃদয়বিশিষ্ট লোকদের ভিড়। তাঁরা তাদের কলিজার আরাম প্রদান করা আর হৃদয়ের জোড়া লাগাবার কাজে ব্যস্ত। এ কাজ শেষ হল তারা আল্লাহর দীদার লাভ ছাড়া অন্য কোন দিকে ভ্রক্ষেপ করবে না।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আবুল আব্বাস সাইয়ারী (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৯

ক্যাটেগরী