হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৫ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৫

coSam ২৩৩


হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

প্রথম দিকে তিনি বড় কান্নাকাটি করতেন। এ বিষয়ে হযরত জুনায়েদ (রঃ) বলতেন, আল্লাহ্‌ আবু বকর (রঃ)-কে এক আমানত সোপর্দ করেছেন। তাঁর ইচ্ছা এই, সে যেন এর খিয়ানত না করে। এই জন্য আল্লাহ্‌ তাঁকে এরূপ কান্নার মধ্যে যুক্ত রেখেছেন। কেননা, আবু বকরের অস্তিত্ব দুনিয়াতে আল্লাহ্‌র কুদরতের একটি খাঁটি নিদর্শন।

একদিন হযরত জুনায়েদ (রঃ)-এর দরবারে হযরত আবু বকর (রঃ)-এর সততা, সাধনা, সাহসিকতা ইত্যাদি বিষয়ে বহু গুণগান করা হয়। আবু বকর (রঃ) তখন সেখানে উপস্থিত। তাঁর প্রশংসা শুনে হযরত জুনায়েদ (রঃ) বললেন, তোমরা যা বলছ, আবু বকর ঠিক তাঁর বিপরীত অকর্মা, অসভ্য লোক-ভালো কাজে ওর বড় গাফিলতি। অতঃপর আবু বকর (রঃ)-কে তিনি দরবার থেকে বের করে দেন। তারপর শিষ্যদের বলেন, তোমরা আবু বকরের সামনে তাঁর যে প্রশংসা করলে, আসলে তা প্রশংসা নয়। বরং তরবারি দিয়ে হত্যা করার তুল্য। এই প্রশংসা তার নফসকে এমন স্তরে নিয়ে যেত যা নিশ্চিতরূপে তার ধ্বংসের কারণ হত। সেই অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবার জন্য লজ্জা দিয়ে তাঁকে দরবার থেকে বের করে দিয়েছি। বস্তুত আমার এ ভূমিকা তার ধ্বংসের বিপক্ষে ঢালস্বরূপ।

হযরত আবু বকর (রঃ) যখন নির্জন এবাদতে যেতেন, তখন সাথে নিতেন কয়েক খণ্ড কাঠ। আলস্য দেখা দিলে ঐ কাঠ দিয়ে নিজেকে তিনি নিগ্রহ করতেন। আর কাঠগুলি ভেঙে যেত। অবশেষে দেয়ালে দেহকে ঘা দিয়ে নফসে সঠিক পথে আনতেন।

একদিন এক নির্জন কক্ষে তিনি ধ্যানে বসেছেন। কেউ একজন তার সাথে কথা আছে বলে দরজা খুলতে বললেন। তিনি দরজা খুলে না দেয়ায় লোকটি বলল, দরজা খুলে দেখ, আবু বকর এসেছে। তিনি বললেন, যিনিই আসুন, এমনকি স্বয়ং হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) এলেও দরজা খুলে এবাদত নষ্ট করব না। অতএব, আপনি সে-ই হোন, আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে চলে যান।

চল্লিশ বছর ধরে তিনি ইচ্ছা পোষণ করতেন যেন এক পলকের জন্য হলেও আল্লাহ্‌র সঙ্গে তার নিবিড় সংযোগ ঘটে। ইচ্ছা হত, তিনি যদি একটি পাহাড়ের মধ্যে এমনভাবে ঢুকে যেতে পারতেন, যাতে সৃষ্টিজগত তাঁর খোজ-খবর পেত না। নিজেকে ইহুদী অপেক্ষাও অধম বলে তাঁর মনে হত। কেননা তিনি নফস, দুনিয়া, ইবলীস ও অন্যান্য বাসনার বিপদ-বিপর্যয়ে আবদ্ধ। তিনি বলতেন, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তিনটি বিপদ। যথাঃ তাঁর অন্তর থেকে আল্লাহ্‌ দূরীভুত। ২. তাঁর অন্তরে নাহক বস্তু আশ্রয় নিয়েছে। ৩. তাঁর নফস একেবারে ফকির ও বিদ্রোহী হয়ে গেছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, দুনিয়াটা হল প্রেমের জায়গা, আর পরকাল হল নেয়ামতের। কাজেই এ দুটি স্থানের তুলনায় হৃদয় উত্তম। কেননা, হৃদয় হল আল্লাহ্‌র মারেফাতের স্থান।

একাবার তিনি শরীর থেকে নতুন পোশাক খুলে পুড়িয়ে দিলেন। লোকে বলল, বিনা কারণে কোন জিনিস নষ্ট করা নিষিদ্ধ। তিনি বললেন, পবিত্র কুরআন বলে, যে জিনিসের দিকে তোমাদের মন আকৃষ্ট হবে, তোমাদের সঙ্গে তাকেও আগুনে পোড়াব। আমার মন এখন এই নতুন পোশাকের দিকে খুবই আকৃষ্ট হয়েছিল, তাই তা আমি পুড়িয়ে ফেললাম।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৬ পড়তে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৬

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু বকর শিবলী (রঃ) – পর্ব ৪

ক্যাটেগরী