হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – শেষ পর্ব

coSam ৮৭


হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ)-এর উপদেশ বাণীঃ

(১) রোজ কিয়ামতে যেমন আল্লাহ ছাড়া কোন সাহায্যকারী থাকবে না, তেমনি দুনিয়াতেও তিনি ছাড়া আমাদের কোন সাহায্যকারী আছে বলে মনে করো না।

(২) সৃষ্ট বস্তুর প্রতি আসক্তি আযাবস্বরূপ। সংসারের প্রতি আসক্ত মানুষের সংসর্গ অবলম্বন করা পাপ, আর তাদের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করা অপমানের কারণ।

(৩) তিনি বলেন, ত্যাগ বদান্যতা আর উপদেশ অপেক্ষা উপকারী বস্তু আর কিছুই নেই।

(৪) যিনি কিছু পেয়ে বা না পেয়ে সর্বসহায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন, তিনিই সর্বত্যাগী।

(৫) জীবনের একটি মুহূর্ত ও আল্লাহর যিকির থেকে বিরত থেকো না। বিপদে ধৈর্য অবলম্বন কর। আর আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সন্তুষ্ট থাক।

(৬) তাসাউফ হল মানুষের উন্নত চরিত্রের নিদর্শন। যার চরিত্র বেশী উন্নত, তার তাসাউফও তত বেশী উন্নত।

৭. আল্লাহর ওলীগণ প্রকাশ্যে বন্দীস্বরূপ, কিন্তু ভেতরে আসলে তাঁরা স্বাধীন মানুষ।

৮. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা বা তওবা হল ছয়টি জিনিসের সমষ্টিবাচক নাম। যথাঃ (১) পূর্বাকৃত পাপের জন্য মনে মনে অনুতাপ করা, (২) ভবিষ্যতে আর যাতে পাপেলিপ্ত হতে না হয় তার জন্য সজাগ থাকা, (৩) আল্লাহর যে হক নষ্ট হয়েছে তা পূরণ করা, (৪) মানুষের যে হক নষ্ট হয়েছে তা আদায় করা, (৫) অবৈধ খাদ্য খেয়ে শরীরের সে মেদ-মাংস বৃদ্ধি হয়েছে তা ক্ষয় করে ফেলা ও (৬) পাপের মিষ্টতা যেমন আস্বাদন করা হয়েছে, ঠিক তেমনি শরীর ও মনকে সাধারণ তিক্ততা ভোগ করতে দেয়া।

(৯) নির্ভরতার প্রকৃত পরিচয় হল জ্ঞান এবং সিদ্ধ একীনের অনুবর্তী হওয়া।

(১০) সুফী তিনিই, যিনি এবাদত কঠিন মনে করেন না।

(১১) মানুষ যখন আন্তরিকভাবে তওবা করে, তখন তার জন্য আল্লাহর ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত হয়।

(১২) আল্লাহ তাঁর প্রিয় দাসদের হাজত নিজেই পূর্ণ করেন।

(১৩) রিপুর কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করা ও আল্লাহর কাজের থেকে সরে থাকার জন্য অনুতাপ-অনুশোচনা করা যাবতীয় এবাদত থেকে উত্তম।

(১৪) তোমার চোখে যতক্ষণ না তন্দ্রা নেমে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শয়ন করো না।

(১৫) যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার পেটে খুব বেশী ক্ষুধার উদ্রেক না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আহার করো না। আর যতক্ষণ কথা বলার খুব বেশী প্রয়োজন না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত কথা বলো না।

(১৬) কাম দৈত্য-দানবের লাগামস্বরূপ। যে কাম দমন করে রাখে, সে যেন দৈত্য-দানবকে পরাভূত করল।

১৭. আল্লাহ ও মানুষের হক আদায় করা, ন্যায়নিষ্ঠা অক্ষুণ্ণ রাখা ও সত্য-সততা ঠিক রাখা এই তিনটি হল ধর্মের ভিত্তিস্বরূপ। হক আদায় করা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ, ন্যায়নিষ্ঠা বজায় রাখা অন্তরের কাজ। কেননা, ন্যায়-অন্যায়ের অনুভূতি অন্তরের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর সত্য ও সততা রক্ষা জ্ঞানের কাজ।

(১৮) রাত শেষের বাতাস এমন এক স্নিগ্ধ বস্তু, যার অবস্থান আল্লাহর আরশের নিচে। আর তা প্রত্যুষে পৃথিবীতে প্রবাহিত আল্লাহর বান্দাদের কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনা সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে দেয়।

হযরত কেতানী (রঃ)-এর অন্তিম মুহূর্তে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন আমলের ফলে আল্লাহ আপনাকে এমন মর্যাদা দান করেন? তিনি বললেন, যদি আমার জীবনের শেষ মুহূর্তে ঘনিয়ে না আসত, তা হলে আমি এ প্রশ্নের উত্তর দিতাম না। কিন্তু বিদায় নিচ্ছি বলে বলি, আমি একটানা চল্লিশ বছর আমার অন্তরের পাহারায় রয়েছি। আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছু অন্তরে প্রবেশ করতে চাইত, তা সবই আমি দূর করে দিয়েছি। এর ফলে ক্রমে ক্রমে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, আমার অন্তর আল্লাহ ব্যতীত অন্য যেকোন বস্তুকে একেবারে ভুলে গিয়েছিল।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফজল (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ৩

ক্যাটেগরী