হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ২

coSam ১১৭


হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তারপর একদিন এক নদীর তীরে বসে ভাবতে শুরু করলেন, সত্যিই তিনি এক সিদ্ধপুরুষ, না হলে বিনা সম্বলে এতদূর পথ তিনি এলেন কি করে? হঠাৎ পেছনে এক বজ্রনাদ ওহে অহঙ্কারী, অহঙ্কার ত্যাগ কর। শব্দ শুনে তিনি পেছনের দিকে তাকালেন। দেখলেন, দাঁড়িয়ে আছেন হযরত

আবু বকর কেতানী (রঃ)। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ তিনি আল্লাহর দরবারে তওবা করলেন।

হযরত আবু বকর কেতানী যখনই মনে করতেন, তাঁর কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে তখনই কাবা ঘর তওয়াফ করে আল্লাহর দরবারে স-কাতর প্রার্থনা জানাতেন। তাতে আল্লাহ পাক তাঁর ত্রুটি দূর করে দিতেন। ক্রমে ক্রমে আল্লাহর সঙ্গে তাঁর এমনই নৈকট্য আসে যে, দোয়া করার কথা তাঁর মনেও থাকত না। তখন আল্লাহ নিজেই বলতেন, আমি যখন তোমার বন্ধু হয়েছি, তখন আমাকে ডাকার কি দরকার?

হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর প্রতি অপ্রসন্ন ছিলেন এই কারণে যে, তিনি যদি কেলাফাতের দায়িত্ব মুয়াবিয়ার ওপর তুলে দিতেন, তা হলে এত রক্তপাত ঘটত না। যদিও রাসূল (সাঃ)-এর ঘোষণা অনুযায়ী হযরত আলী (রাঃ) খুব বড় বীর এবং সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, আর মুয়াবিয়া দাঁড়িয়ে ছিলেন গবেষণা জনিত ভুলের ওপর। তিনি তখন ছিলেন সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে। হঠাৎ এক রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন, রাসূল (সাঃ) চার খলীফাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কাছে এসে আলিঙ্গন করলেন। তারপর হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে সনাক্ত করলেন। এভাবে নবীজীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত ওসমান (রাঃ)-কেও সনাক্ত করলেন। সব শেষে রাসূল (সাঃ) যখন হযরত আলী (রাঃ)-এর পরিচয় জানতে চাইলেন, তখন হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) তাঁর প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ করতেন বলে লজ্জাবশতঃ কিছুই বলতে পারলেন না। তখন  নবীজী নিজেই বললেন, ইনি তোমার ভাই আলী। তখন তিনি হযরত আলী (রাঃ)-এর সঙ্গে আলিঙ্গন করলেন। অতঃপর রাসূল (সাঃ) হযরত আলী  (রাঃ)-কে রেখে অন্যদের নিয়ে চলে গেলেন। আলী (রঃ) বললেন, চল, আমরা বু-কুবাইস পর্বত ভ্রমণ করে আসি। হযরত কেতানী (রঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেন। আর সেখান থেকে কাবা শরীফ দর্শন করলেন। ঠিক এ সময় তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গেল। জেগে দেখলেন সত্যিই তিনি রয়েছেন বু-কুবাইস পর্বত শিখরে। আর অনুভব করলেন, হযরত আলী (রাঃ)-এর প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র বিরূপ ধারণা নেই।

একদিন এক জ্ঞানী ব্যক্তি বাবে বনী শায়বা থেকে বের হয়ে হযরত কেতানী (রঃ)-কে বললেন, মাকামে ইব্রাহীমের কাছে একজন হাদিসবিদ হাদিস ব্যাখ্যা করছেন। চলুন, শুনে আসি। তিনি বললেন, ঐ মুহাদ্দিস কোন কোন সনদ থেকে হাদিস বয়ান করেন জানেন কি? জ্ঞানী বললেন হযরত আব্দুর রহমান (রঃ), হযরত মুআম্মার (রাঃ) এবং হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) প্রমুখের নাম উল্লেখ করলেন। হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) বললেন, আমার মন তো স্বয়ং আল্লাহর তরফ থেকে হাদিস বর্ণনা করে থাকে। জ্ঞানী ব্যক্তি বললেন, আপনার এ কথার সত্যতা প্রমাণ করতে পারবেন তো? তিনি জবাব দিলেন, প্রমাণ এই যে, আমি আপানকে চিনি। আপনি হযরত খিজির (আঃ)। তাঁর কথা শুনে হযরত খিজির (আঃ) বললেন, আমার এতদিন ধারণা ছিল, দুনিয়াতে এমন কোন ওলী নেই যাকে আমি জানি না, অথচ তিনি আমাকে খুব ভাল করেই চেনেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু বকর কেতানী (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী