হযরত আবু নসর সাররা (রঃ) | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু নসর সাররা (রঃ)

coSam ৮৫


হযরত আবু নসর সাররাজ (রঃ) দরবেশগণের ময়ূর বা দরবেশগণের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নামে পরিচিত ছিলেন। নামেই বোঝা যায়, শরীয়তে বা মারেফাতে তিনি কতখানি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। বস্তুতঃ তাঁর গুণবৈশিষ্ট্য অবর্ণনীয়। আত্ম-নিগ্রহ ও কঠোর সাধনায় তিনি এক শিখরস্পর্শী সাধক ছিলেন। লোমহ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থের তিনি রচয়িতা।

তুস শহরে হযরত আবু নসর (রঃ)-এর বসবাস ছিল। হযরত সাররী সাকতী (রঃ) ও হযরত সহল (রঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।

এক রমজানে মাসে তিনি বাগদাদে আসেন। সেখানে এক বড় মসজিদের নির্জন কক্ষে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তা ছাড়া দরবেশগণের ইমামতি করার দায়িত্বও তাঁকে দেয়া হয়। ঈদুল ফিতর পর্যন্ত তিনি বাগদাদের মসজিদে অবস্থান করেন। তারাবীর নামাজে তিনি পাঁচবার কুরআন খতম করেন। তাঁর খাবার ছিল প্রতি রাতে এক টুকরো রুটি। পরিচারক তাঁর ঘরের দরজায় রেখে যেত। ঈদের দিন ঐ পরিচারক তাঁর ঘরে ঢুকে দেখতে পায় ত্রিশ দিনের ত্রিশ টুকরো রুটি ঘরের মধ্যে জমা আছে।

শীতের রাত শিষ্যদের নিয়ে তিনি মারেফাত তত্ত্ব আলোচনা করছেন। পাশেহ আগুন জ্বলছে। হঠাৎ দেখা যায়, তিনি ভীষণ উত্তেজিত। আর হঠাৎই সেজদা করলেন জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে। কিন্তু সেজদা থেকে মাথা তুললে দেখা গেল একটি পশমও পোড়েনি। তিনি বললেন, আল্লাহর দরবারে যিনি নিজের মান-সম্ভ্রম উৎসর্গ করেছেন, আগুন তাঁর ক্ষতি করতে পারে না। তিনি আরও বললেন, আল্লাহ প্রেমিকের বুকে যখন প্রেমের আগুন প্রবল আকার ধারণ করে, তখন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্তরের আর সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে।

তিনি বলেন, আমি ইবনে সালেম থেকে শুনেছি, নিয়ত আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত, আর নিয়ত শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই করতে হয়। নামাজে দাঁড়াবার পর যে সব অবাঞ্ছিত ব্যাপার ঘটে তা শুধু নিয়তের ত্রুটির কারণেই ঘটে থাকে।

তিনি বলেন, আদবের থেকে লোককে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

১. দুনিয়াদারঃ এদের আদব কথার সারল্য ও মাধুর্য রক্ষা করা। বাদশাহ বা মালিকের গুণ বড় করে প্রকাশ করা।

২. ধার্মিকঃ এদের আদব হৃদয়ের পবিত্রতা রক্ষা করা, হৃদয়ে আল্লাহর মারেফাত সংরক্ষণ করা, ইদ্রিয়সমূহকে কষ্ট দেয়া, প্রবৃত্তি সংযত রাখা, রিপুর কামনা প্রকাশ না করা।

৩. আল্লাহর বিশিষ্ট দাসগণঃ এদের আদব সময়ে সদ্ব্যবহার করা, প্রতিশ্রুতি পুর্ণ করা, রিপুর কামনার প্রতি দৃষ্টি সংকোচ করা, আল্লাহর দরবারে কোন কিছুর প্রার্থনা করা, তাঁকে সদা-সর্বদা হাজির জানা ও তাঁর নৈকট্য অর্জন করা এবং অবস্থায় শিষ্টতা শালীনতা বজায় রাখা।

তিনি বলেন, যে জানাজা আমার কবরের নিকট আনা হবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।

বর্তমান সময়েও তুসে এর প্রচলন আছে। জানাজা কবরের কাছে আনার নিয়ম হল, জানাজার নামাজ আদায় করে লাশ তাঁর কবরে এনে কিছুক্ষণ রেখে তারপর দাফন করা হয়।

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু বকর ওয়াসেতী (রঃ) – পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু ইয়াকুব ইবনে ইসহাক নহর জওয়ান (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী