হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) – পর্ব ১

coSam ১১১


হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) এক অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। যেমন ছিলেন অসাধারণ পণ্ডিত, তেমনি ছিলেন অকুতোভয়। তরীকতপন্থীদের মধ্যমণি। আবার সুফী সমাজেরও শিরোমণি। তাঁর সহিঞ্চুতা, ধর্মনিষ্ঠাও কিংবদন্তী-তুল্য। তিনি খোরাসানের অধিবাসী ছিলেন।

কথিত আছে, হযরত আবু বলখী (রঃ) চল্লিশবার হজ্জ করেন। একটানা বেশ কয়েক বছর মাথার তলায় বালিশ দেননি। একবার বায়তুল্লাহ হেরেম শরীফে নামাজ পড়াকালীন তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর স্বপ্ন দেখে, জান্নাতের একদল হুর তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। কিন্তু তিনি তখন আল্লাহ্‌র প্রেমে বিভোর। অন্য কিছুর প্রতি আসক্তি নেই। হুরগণ বললেন, আপনি আমাদের গ্রহণ করলেন না শুনলে আমাদের অন্য সঙ্গিনীরা বিদ্রূপ করবে। তখন জান্নাতের কর্মকর্তা রেযওয়ান ফেরেশতা তাঁদের বললেন, তোমরা এ মুহুর্তে তাঁকে বিরক্ত করো না। তিনি এখন আল্লাহ-প্রেমে মশগুল। তিনি যখন জান্নাতে আসবেন, তখন তোমরা সবাই তাঁর পরিচারিকা সেজে এসো। তখন তাঁকে পাওয়া যাবে।

হযরত ইবনে জাল্লা (রঃ) প্রায় তিন হাজার দরবেশ তাপসের সান্নিধ্যে আসেন। তাঁদের মধ্যে চার জনকেই তাঁর প্রধান বলে মনে হয়েছে। সে চার জনের মধ্যে আবার আবু তুরাব (রঃ)-ই হলেন সর্বপ্রধান। ইবনে জাল্লা (রঃ) আরও বলেন, মক্কা শরীফে তাঁকে সতেজ ও প্রফুল্ল অবস্থায় দেখে তিনি একবার প্রশ্ন করেন, আপনি কোথায় যান? উত্তরে হযরত তুরাব (রঃ) বলেন, কখনও বাগদাদে, কখনও বা মক্কা শরীফে।

শোনা যায়, তাঁর কোন শিষ্য একমাস উপবাস থেকে অসহিষ্ণু হয়ে অন্য একটি লোকের কাছে তরমুজের ছোলার জন্য অনুরোধ করেন। হযরত তুরাব (রঃ) তাঁকে ব্যবসা করার নির্দেশ দেন। কেননা, তাঁর পক্ষে মারেফত হাসিল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র সঙ্গে আমার এই চুক্তি যে, তিনি যখন কোন অবৈধ বস্তুর দিকে হাত বাড়াবেন, তখন আল্লাহ্‌ তা থেকে তাঁকে রক্ষা করবেন।

তিনি বললেন, কোনদিন তাঁর মনে কোন কামনার উদ্রেক হয়নি। তবে একবার এক প্রান্তর অতিক্রম করার সময় তাঁর মনের গরম রূটি ও ডিম ভাজা খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। আর তা যাতে তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়, তাঁর জন্য তিনি দ্রুত পা চালান। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে তিনি পথ ভুল করলেন। কিছুক্ষণ পরে একদিক থেকে একদল লোক দৌড়ে এসে তাঁকে চোর বলে

ধরে ফেলল। কোন কথা বলার সুযোগই দিল না। শুরু হল নির্যাতন। দুশ চাবুক পড়ল তাঁর ওপর। প্রাণ যায় যায়। তখন তাদের দলের এক বৃদ্ধ এসে তাঁকে চিনে ফেলে হায় হায় করে ওঠলেন। এ এরা কী করেছে! কাকে মেরেছে এভাবে! বৃদ্ধ তাঁর পরিচয় দিলেন। আর সবাই লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা চাইল। কিন্তু তিনি বললেন, এ লাঞ্ছনাকে আমি জীবনের সৌভাগ্য বলে মনে করি। কেমনা, আমার প্রবৃত্তি আজ বেশ শায়েস্তা হয়েছে।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু তুরাব বলখী (রঃ) – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত ইমাম শাফেয়ী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী