হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ) – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ) – পর্ব ১

coSam ১৪৬


হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ) একাধারে একজন অগ্রণী আলেম ও তাপস। সত্যের আলোকদিশারী। বহু দিন মক্কায় অবস্থান করে তিনি অধ্যাত্ম সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন। দীর্ঘজীবী এই দরবেশ একশ ত্রিশ বছর বয়সে নিশাপুরে পরলোকগমন করেন।

তাঁর জীবনের প্রথম পর্যায়ে নিবিড় সাধনায় উৎসর্গকৃত। এই কঠোর সাধনায় কাল মোটামোটি ত্রিশ বছর। তখন তাঁর মরীর কঙ্কালসার হয়ে ওঠে। বস্তুতঃ তাঁর শরীরে তখন মানুষের আকার ছিল না।

ত্রিশ বছর পর জনসমাজের কাজ করার নির্দেশ পেয়ে তিনি মক্কা শরীফে যান। মক্কার বিদগ্ধ মানুষ এই জীর্ণ-শীর্ণ মানুষটিকে সাদরে বরণ করেন। তাঁর নির্জন অরণ্য তপস্যার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি বনে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার বিপদ দেখে তিনি ফিরে এসেছেন। যে চাওয়া নিয়ে তিনি সেখানে যান, তা পাননি। কেননা সেটি আল্লাহর হাতে।

তাঁর নির্জন সাধনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তাঁর ধ্যানমগ্ন অবস্থায় এমন সব ঘটনা ঘটত, যা দেখে অন্য লোক তাকে অলৌকিক কাণ্ড বলে ভাবত। অথচ অলৌকিকতাকে কবীরা গুনাহর চেয়ে মন্দ বলে তিনি মনে করতেন। একমাত্র যিকিরের লোভেই তিনি চাইতেন, তাঁর যেন ঘুম না আসে। এই উদ্দেশ্যে তিনি কখনও কখনও গভীর গর্তের মুখে পিচ্ছিল পাথরের যদিও মৃত্যুর হাত থেকে দৈবক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন।

একদিন তিনি তাঁর বন্ধু হযরত আবুল ফুরাস (রঃ)-এর কাছে গিয়ে দেখেন তিনি ঘুমিয়ে আছেন। হঠাৎ তাঁর মনে হয়, যদি একটু ঘি পাওয়া যেত তাহলে তিনি বন্ধুর জন্য কিছু খাবার তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু সেটা মনে হতেই ঘুমের মধ্যে বন্ধু বলে উঠলেন, কোন কথা নেই। ঘিয়ের কথা ভুলে যাও। কথাটা তিনি তিনবার বললেন। বন্ধু ঘুম থেকে জেগে উঠলে তিনি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, স্বপ্নে তাঁরা দুই বন্ধু বসে আছেন এক রাজপ্রাসাদে আল্লাহর দীদার লাভের আশায়। কিন্তু হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ)-এর দিকে তাকিয়ে দেখেন তাঁর হাতে ঘি রয়েছে। তাই হাত থেকে ঘি ফেলে দিতে বলেছিলেন।

একবার এক ব্যক্তি তাঁকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পাইয়ে দেবার কথা বললে তিনি জানান, আল্লাহ ছাড়া তাঁর কোন কামনা নেই। আর কারও সাহায্যও তাঁর দরকার নেই। আগে তাঁর বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ কোন নির্দিষ্ট স্থানে থাকেন। পরে তাপস নগরী বাগদাদ সফর করার পর তাঁর ধারণা বদলে যায়। তিনি উপলদ্ধি করেন, আল্লাহ কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিরাজ করেন না। তিনি স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে। তখন তিনি মক্কার দরবেশগণের কছে পত্র দেন যে, তিনি নতুনভাবে ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করেছেন। কথাটি বর্ণনা করেছেন হযরত আবু বকর ফাওয়াক (রঃ)।

একদিন তিনি তাঁর সেবককে জিজ্ঞেস করেন, যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তোমার প্রভু কী অবস্থায় আছেন? তো তুমি তার কি জবাবে দেবে? সেবক বলল, বলব, আদিতে তিনি যে অবস্থায় ছিলেন? সেবক বলল, আমি বলব, এখন তিনি যে অবস্থায় আছেন। তাঁর উত্তরে হযরত ওসমান (রঃ) খুব চমৎকৃত হলেন।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ) – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন


পরবর্তী গল্প
হযরত আবু ওসমান সাঈদ ইবনে সালাম মাগরেবী (রঃ) – শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু ইসহাক ইব্রাহীম শায়বানী (রঃ) – শেষ পর্ব

ক্যাটেগরী