হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ২ | আমার কথা
×

 

 

হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ২

coSam ১০৮


হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ১ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এই মহিমান্বিত মানুষটি হল হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ)।  বখলের এক মহান সাধক, বহু ধর্মগ্রন্থের রচয়িতা।  আল্লাহর প্রতি অন্তহীন নির্ভরতা ছিল তাঁর একটি বিশিষ্ট গুণ।  বহু জ্ঞান-তাপসের কাছ থেকে তিনি মারেফত বিদ্যা লাভ  করেন।  তিনি নিজেই বলেছেন, এক হাজার সাত’জন পীরের কাছে থেকে বিদ্যার্জন করেন।  তাঁর নিজের শিষ্য সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না।  তাঁদের অন্যতম হলেন সমকালের বিখ্যাত জ্ঞান-সাধক হযরত হাতেম ইবনে আসাম (রঃ)।  তরীকত ও হাকীকত শাত্রে তাঁর শিক্ষাগুরু ছিলেন হযরত ইব্রাহীম আদিহাম (রঃ) প্রসঙ্গক্রমে তিনি মন্তব্য করেন, বহু মাশায়েখের কাছে শিক্ষা গ্রহন করেছি, প্রচুর পুস্তকও অধ্যয়ন করেছি।  আর এটুকু জেনেছি যে, আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উপায় চারটি জিনিসের নিহিত।  যথাঃ (১) রুজির ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা, (২) যেকোন কাজের মধ্যে সরলতা বজায় রাখা, (৩) শয়তানের সাথে শত্রুতা রাখা।  (৪) মৃত্যুর জন্য পাথের সংগ্রহ করা। 

আল্লাহর প্রতি তাঁর অপরিসীম নির্ভরতাঁর কথা আগেই বলা হয়েছে।  তিনি এই নির্ভরতাঁর শিক্ষা পান সামান্য একটি ভৃত্যের কাছ থেকে।  একবার বলখে ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।  দুর্ভিক্ষ-পীড়িত মানুষ যখন দিশেহারা তখন দেখা যায় একটি ভৃত্য দিব্যি আমোদ-আহলাদে মত্ত।  হযরত শাকীক (রঃ) তাঁকে বললেন, দেশ ধ্বংস হতে চলেছে আর তুমি আনন্দে মতোয়ারা, তোমার কি? কোন চিন্তা ভাবনা নেই।  তিনি বলেন, আমার মনিবের গোলাভরা শস্য, আমার আবার ভাবনা কি? এ কথার তাঁর টনক নড়ে।  সামান্য একজন ভৃত্য যদি তাঁর মনিবের ওপর এতখানি নির্ভশীল হতে পারে, তাহলে সর্বশক্তির আধার যিনি, বিশ্বজগতের একচ্ছত্র অধিপতি, সেই আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা না করে থাকা যায়? ভৃত্যের কথায় আল্লাহর দরবারে তিনি নির্ভরশীলতাঁর মোনাজাত করলেন।

তাঁর এই আল্লাহ-নির্ভরতাঁর একটি উধাহরণ দিয়েছেন তাঁর শিষ্য হযরত হাতেম ইবনে আসাম (রঃ) একবার এক জেহাদে দু’জনেই অংশগ্রহণ করেন।  প্রচণ্ড লড়াই চলছে।  দু’পক্ষের নিক্ষিপ্ত শরে আকাশ আচ্ছন্ন।  হঠাৎ তিনি হাতেম (রঃ)- কে বলেন, এ পরিস্থিতিতে তুমি নিজের অবস্থা কিরুপ মনে করছ।  মনে হয় তুমি স্ত্রীর সঙ্গে গত রাতের সুখ-শয়নের কথা ভাবছ।  কথাটি বলেই তিনি তাঁর খেরকাটি বালিশের মতো কর তাঁর ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন।    

রণভূমিতে আল্লাহর প্রতি চরম নির্ভরতা না থাকলে এটি সম্ভব হত না।  আর সে নির্ভরতা ছিল বলেই তাঁর কোন বিপদ ঘটল না। 

এক মজলিশে তিনি ভাষণ দিচ্ছেন।  হঠাৎ শহরে ভীষণ শোরগোল।  শত্রু  কর্তৃক শহরে আক্রান্ত।  হযরত শাকীক (রঃ) তৎক্ষণাৎ মজলিস থেকে বেরিয়ে এলেন আর বাতেনী শক্তি নিয়ে যুদ্ধ করে শত্রুদের প্রতিহত করলেন।  ঠিক এই সময় এক শিষ্য তাঁর হাতে এনে দিলেন একটি সুগন্ধি ফুল।  তিনি সেটির ঘ্রান নিতে লাগলেন।  এ দৃশ্য দেখে কেউ কেউ বলে উঠেন, বা রে কাণ্ড! সুসলমানের শত্রু  হানা দিয়েছে শহরে, আর মুসলমানের ইমাম ফুলের সুবাস গ্রহণে মশগুল।  হযরত শাকীক (রঃ) বললেন, তা ঠিক।  যারা মোনাফেক, তাঁর ফুলের সুবাস নেওয়াই দেখতে পায়, কিন্তু শত্রুর পরাজয়ের খবর রাখে না।  একদিন ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জনতার উদ্দেশ্য বললেন, তোমরা যদি মৃতের মতো হও তাহলে কবরস্থানে চলে যাও।  আর যদি পাগল হয়ে থাক তাহলে পাগলাগারদে যাও।  যদি কাফের হয়ে থাক তাহলে দারুল হরবে বাস কর।  আর যদি বিশ্বাসী বান্দা হও তবে আল্লাহর পথ অবলম্বন কর।

সূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া

হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ৩  পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ৩

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আবু আলী শাকীক বখলী (রঃ) – পর্ব ১

ক্যাটেগরী