হযরত আদম (আঃ)- এর শোক | আমার কথা
×

 

 

হযরত আদম (আঃ)- এর শোক

coSam ৪৭৮


হযরত আদম (আঃ) মক্কা শরীফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর হাবিলকে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি। এরপর তার সন্তানদেরকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন। একজন বলল, গত কয়েক দিন থেকে সে কোথায় গেছে বলতে পারব না। অবশেষে হযরত আদম (আঃ) হাবিলের খোঁজ না পেয়ে তার নিদ্রা ত্যাগ করে সর্বক্ষণ কেবল হাবিলের চিন্তাই বিভোর থাকেন।

এ সময় জিব্রাইল (আঃ) বললেন, হাবিলকে কাবিল খুন করে অমুকস্থানে কবরস্ত করে রেখেছে। এ কথা শোনামাত্র হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) অঝোর ধারায় কাঁদতে শুরু করেন এবং জিব্রাইল (আঃ) কে বললেন, আমরা তার কবর দেখতে চাই। আরও বললেন, আমি কাবিলের প্রতি খুবই অসুন্তুষ্ট। জিব্রাইল (আঃ) সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, আপনারা কান্নাকাটি করবেন না।

আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। একথার পর জিব্রাইল (আঃ) আদম ও হাওয়া (আঃ) হাবিলের কবরের নিকট নিয়ে যান। আদম (আঃ) কবর দেখে বলেন, কাবিল হাবিলকে খুন করলে তো এখানে রক্ত ঝরত। হযরত জিব্রাইল (আঃ) বললেন, হাবিলের রক্ত যমীন শোষণ করে নিয়েছে। একথা শুনে হযরত আদম (আঃ) বললেন, লা'নত যে যমীনের ওপর, যে যমীন আমার সন্তানের রক্ত শোষণ করে নিয়েছে।

আদম (আঃ) এর লা'নত বাক্য শুনে কাবিলের শোষণ করা রক্ত যমীন উগড়ে দেয়। হযরত আদম ও হযরত হাওয়া (আঃ) হাবিলের কবর খুঁড়ে দেখেন, তার মস্তক থেকে মগজ বের হয়ে গেছে এবং সারা দেহ রক্ত সিক্ত হয়ে আছে। এ অবস্থা দেখে হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ) আবার অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তাঁদের কান্নায় আসমানের সকল ফেরেশতারাও কাঁদতে  শুরু করে। অবশেষে হযরত আদম (আঃ) হাবিলের লাশ কবর থেকে বের করে সিন্দুকে ভরে স্বগৃহে নিয়ে আসনে।

হযরত ইবনে আব্বার (রাঃ) থেক বর্ণিত আদম (আঃ) চল্লিশ দিন পর্যন্ত  সিন্দুকটি বিভিন্ন স্থানে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেন। যেখানেই সিন্দুকটি নিয়ে যেতেন সে স্থানই এ জুলুম অত্যাচারের ঘটনা দেখে আহাজারি করত। চতুস্পদ জীব, পাখী এবং কীটপতঙ্গ এ অবস্থা দর্শনে কান্নাকাটি করত আর বলত মানব জাতি থেকে দূরে সরে থাকা উচিত। এসব অকৃতজ্ঞ জালেমরা আপন ভাইকে পর্যন্ত খুন করে। এরপর হযরত আদম (আঃ) হাবিলের লাশ নিজের বসবাসের স্থানে দাফন করেন।

বাবিলের মৃত্যু সময় পর্যন্ত আদম (আঃ) এর সন্তান ছিল সর্বমোট একশ' বিশ জন এবং একমাত্র হাবিল ব্যতীত আর কেউই তখন পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেনি। পুত্র সন্তানরা সকলে হযরত আদম (আঃ) এর নিকট এসে বলল, আমাদের কিছু সম্পদ দিন যাতে আমরা ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে উপার্জন করে খেতে পারি। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) প্রত্যেককে একেক মুষ্টি করে সোনা রুপা এনে দেন। হযরত আদম (আঃ) বলেন, সোনা রুপা দিয়ে কিভাবে তারা ব্যবসা বাণিজ্য করবে?

গায়েব থেকে শব্দ এল, এ সোনা রুপা পাহাড়ে নিক্ষেপ করুন। আপনার সন্তানরা প্রয়োজন অনুপাতে সেখান থেকে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করবে। তাতে কিয়ামত পর্যন্ত এ সোনা রুপা শেষ হবে না।


পরবর্তী গল্প
হযরত আদম (আঃ) এর ইন্তেকাল

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত আদম (আঃ) নবী না রাসূল ছিলেন

ক্যাটেগরী