হযরত আইয়ুব (আঃ) এর নবুয়তী ও সম্পদ-১ম পর্ব

হযরত আইয়ুব (আঃ) ছিলেন অতি উদার, দানশীল ও মিষ্ট ভাষী। তাঁর বাসস্থান ছিল সিরিয়ায়। তিনি হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর বড় ভাই হযরত আইমের বংশধর। তিনি হযরত ইউসুফ (আঃ) এর ছেলের ঘরের নাতনী বিবাহ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল রহিমা। তিনি আহারের সময় দশ জন এতিম, মিসকিন অথবা গরীব নিয়ে আহার করতেন। দানশীলতার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনান্য।

 কোন ভিক্ষুক বা দরিদ্র ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে কোন দিন খালি হাতে ফেরত যায়নি। তাঁর ন্যূনতম দান ছিল একটি মেষ বা ছাগল। ধন সম্পদে তিনি ছিলেন সিরিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তি। চল্লিশ হাজারের ঊর্ধ্বে ছিল মেষ ও ছাগল। প্রাই সাত হাজার ছিল উট। পাঁচ হাজার ছিল গরু ও ঘোড়া। কয়েকশ ছিল ফলের বাগান। বড় বড় ইমারত ছিল তাঁর ছেলেমেয়েদের বসবাসের স্থান।

 নগদ টাকা ও স্বর্ণ মুদ্রার কোন হিসআব ছিল না। এ সমস্ত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি দিবারাত্র আল্লাহর এবাদাতে মশগুল থাকতেন। দ্বীনের একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত তিনি কারো সাথে দেখা করতেন না। তাঁর স্ত্রী পুত্র কন্যা সকলেই ছিলেন উচ্চমানের ধর্মপরায়ণ। উম্মতের মধ্য থেকে কতক লোক নবীর সকল সহায় সম্পদ দেখাশুনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন।

নবীদের পক্ষে এত ধন সম্পদের মালিক হওয়া এক নজির বিহীন ঘটনা। এ জন্য ধর্মদ্রোহীরা ছিল তাঁর প্রধান বিরোধী। তারা নানা ভাবে নবীর সাথে শত্রুতা করত। তাঁর বদনামি করত এবং বিভিন্ন রকম ক্ষতির চেষ্টা করত। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা যার সাহায্যকারী তাঁর ক্ষতি করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই শত্রুদের শত্রুতার কারনে নবীর ধন-সম্পদ উত্তরোত্তর আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ কারীদের তারা কয়েকবার আত্মসাৎকারী, চোর ইত্যাদি বলে বিতাড়িত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এ গুলোর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন না।

তিনি তাঁর ন্যায়পরায়ণ উম্মতদেরকে ভাল ভাবে চিনতেন। তাই শত্রুদের কথায় নবী কখনই বিভ্রান্ত হতেন না।

শয়তান চিরদিন নবীদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এসেছে। তাদের ক্ষতি সাধন শয়তানের আদি ধর্ম। হযরত আইয়ুব (আঃ) – এর ক্ষেত্রেও শয়তান কঠিন চেষ্টা চালিয়ে যেতে ভুল করেনি। হযরত আইয়ুব (আঃ) সম্বন্ধে সর্বদা সে মানুষের নিকট বলে বেড়াত, “আইয়ুবকে আল্লাহ ধন, সম্পদ ও সুখ-স্বাছন্দ দিয়েছেন বলে তিনি দিন রাত্রি এবাদাতে মশগুল থাকেন এবং মানুষের নেক আমল, সৎ জীবন যাপন করার ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার দাওয়াত দিয়ে থাকেন।

যদি আইয়ুবের ধন সম্পদ না থাকত তাহলে সে আদৌ এ সমস্ত কাজে আত্মনিয়োগ করত না। পরিশ্রম করে যদি তাঁর রুজি যোগাড় করতে হত, তাহলে এবাদাত দূরের কথা অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করত না। শয়তানের এ ধরনের প্রচারে দেশের অধিকাংশ মানুষ বিভ্রান্ত হয়।  তারা মানুষরূপী শয়তানকে নেতা বানিয়ে এক বিরাট ষড়যন্ত্রকারী দল তৈরি করল।

একদা এ ষড়যন্ত্রকারী মানুষেরা হযরত আইয়ুব (আঃ) – এর নিকট গিয়ে বলল, হে নবী, আপনি ত ধন সম্পদের বন্দেগী করে থাকেন। যদি আপনার এ ধন সম্পদ না থাকত তাহলে আপনাকে আর এ কাজে পাওয়া যেত না। অতএব আল্লাহকে বলুন, আমাদেরকে এভাবে ধন সম্পদ দান করুন। তাহলে আমরাও আপনার ন্যায় একজন উঁচু মানের এবাদাতকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারব।

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী

হযরত আইয়ুব (আঃ) এর নবুয়তী ও সম্পদ-২য় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।