হযরত আইয়ুব (আঃ) এর কঠিন পরীক্ষা– পর্ব ৪

হযরত আইয়ুব (আঃ) এর কঠিন পরীক্ষা – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত আইয়ুব (আঃ)- স্ত্রীর খরব শুনে খুব ভারাক্রান্ত হয়ে রইলেন। সেদিন সন্ধ্যাবেলা স্ত্রী তাঁর নিকট ফিরে আসলে তিনি প্রথমে তাঁর সাথে কোন কথা বলেন নাই। স্ত্রী স্বামীর অবস্থা দেখে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাঁর নিকট কথা না বলার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি কোন উত্তর দিলেন না। তাঁর পথ্যাদি নিয়ে আসলে তাও তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন রহিমা হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর পা ধরে তাঁর মনঃক্ষুণ্ণের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। হযরত আইয়ুব (আঃ)- তখন বললেন, তুমি নষ্টা, তুমি চোর, চুরির দায়ে তোমার মাথার চুল মানুষ কেটে দিয়েছে। এ যাবত তুমি চুরি করে উপার্জন করে তা দ্বারা আমাকে আহার করিয়েছ। আমি না জেনে তা খেয়েছি। এখন আর তোমার উপার্জন খেতে রাজি নই। রহিমা স্বামীর কথা শুনে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলেন এবং আল্লাহ্‌র দরবারে আরজ করে বললেন, হে মহান প্রভু! তুমি সব কিছু জান। আমি কি উদ্দেশ্যে কি করেছি। কিছুই তোমার অগোচর নয়। এমতবস্থায় আমার স্বামীকে মিথ্যা অভিযোগ শুনিয়ে যারা বিভ্রান্ত করল তাঁদের বিচার তুমি কর। আর আমার স্বামীকে সঠিক ঘটনা অবগত কর। হে রাব্বুল আলামীন! আমি এ বিষয় কোন মানুষের নিকট ধর্না দিতে যাব না। একমাত্র তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক তোমার দরবারে আমার আরজ জানালাম। যদি আমি খাঁটি হই তবে আমার স্বামীর সন্তুষ্টি ফিরিয়ে দাও। আর যদি আমি পাপী হই তবে তুমি আমাকে শাস্তি প্রদান কর। হযরত রহিমার আরজ হযরত জিব্রাইল (আঃ) সেখানে অবতীর্ণ হয়ে হযরত আইয়ুব (আঃ)-কে জানিয়ে দিলেন, আপনার স্ত্রী সৎ ও নেককার।

শয়তান দরবেশের ছুরতে আপনাকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে রহিমার কুৎসা বর্ণনা করেছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি কোনরূপ দোষী নয়। আপনি তাঁর প্রতি খুশী হয়ে যান, তাঁর পরিবেশিত খাদ্য গ্রহণ করুন। হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর বক্তব্য শুনে হযরত আইয়ুব (আঃ) রহিমাকে কাছে ডেকে বললেন, রহিমা আমাকে ক্ষমা কর। শয়তান মিথ্যা খবর দিয়েছে। যা আমি বুঝতে সক্ষম হই নি। তুমি আমার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হইও না। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমি আর কখনই তোমার প্রতি রাগ করব না। হযরত রহিমা স্বামীর মুখে এ ধারনের কথা শুনে খুশী হলেন এবং পূর্ণ উদ্যমে স্বামীর সেবা-যত্ন আরম্ভ করলেন।

হযরত আইয়ুব (আঃ)-এর অবস্থা দিন দিন আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে দেখে বিবি রহিমা খুবই উৎকণ্ঠা হলেন। তিনি দিবারাত্র কেঁদে কেঁদে আল্লাহ্ দরবারে স্বামীর মুক্তির জন্য আরজ করতেন। হযরত আইয়ুব (আঃ)- একদিন রহিমার ক্রন্দন শুনে বললেন, রহিমা! কেঁদনা আল্লাহ্‌র খুশিতে খুশী থাক। আল্লাহ্‌র নবীগন যেমন উঁচু মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাঁদের পরিক্ষাও তেমন অতি কঠিন হয়ে থাকে। বর্তমানে আমার উপর আল্লাহ্‌র পরীক্ষা চলছে।

যদি আমরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারি তা হলে আল্লাহ্‌ তা’য়ালার সকল নেয়ামত লাভ করা, ভোগ করা, সহজ সাধ্য হবে। অতএব তুমি আর না কেঁদে আল্লাহ্‌র দরবারে শুকরিয়া আদায় কর। তিনি যে এ অবস্থায় আমাদের ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেছেন, ইহা তাঁর অসীম রহমতের এক বিশেষ নজির। হযরত রহিমা নবীর কথায় আস্থা আনেন।

বিবি রহিমা প্রতিদিন নিয়মিত শ্রমের বিনিময়ে কিছু উপার্জন করে জীবিকার ব্যবস্থা করেন। শয়তান যখন নবীকে হযরত রহিমা সম্বন্ধে অভিযোগ করে কোন সুফল পেল না তখন সে একজন বৃদ্ধ মানুষের ছুরত ধরে একদিন রহিমাকে পথিমধ্যে জিজ্ঞেস করল, কি মা! তোমার এমন দুরাবস্থাগ্রস্থ দেখা যাচ্ছে কেন? হযরত রহিমা বললেন, আমার স্বামী খুব অসুস্থ, তাঁর শরীরে ঘা হয়েছে, তাতে পোকা জন্মেছে। তাঁর শরীরের রক্ত, মাংস পোকায় খেয়ে হাড় বের করে দিয়েছে।

 তাই তাঁকে নিয়ে আমি দিবারাত্র খুবই অসুবিধার মধ্যে আছি। একথা শুনে বৃদ্ধ বলল, আমি এ ঘা ও ক্ষতের একটি অমোঘ ওষুধের কথা তোমাকে বলে দিতে পারি। যদি তোমার স্বামীকে না জানিয়ে এটা ব্যবহার করতে পার। তাহলে একদিনের মধ্যে এ রোগ থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হবে। বিবি রহিমা বললেন, হুজুর! তাহলে দয়া করে ওষুধের নাম আমাকে বলে যান। আমি এটা ব্যবহারের চেষ্টা করব। তখন বৃদ্ধ বলল, এ ওষুধ সম্বন্ধে যদি তোমার স্বামীকে পূর্বে অবগত কর তাহলে সে ব্যবহার করতে অস্বীকার করতে পারে।

অতএব যদি তুমি তাঁকে না জানিয়ে ব্যবহার করতে পার তাহলে সে অবশ্যই আরোগ্য লাভ করবে। অতপর বৃদ্ধ বিবি রহিমাকে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করল। বিবি রহিমা বললেন, আমার স্বামীর নাম হযরত আইয়ুব (আঃ)। তিনি আল্লাহ্‌ তা’য়ালার একজন নবী। তিনি প্রথম জীবনে খুব সম্পদশালী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আল্লাহ্‌ তা’য়ালার নিকট হতে বালামুছিবত চেয়ে এনেছেন। এখন তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত। বৃদ্ধ বিবি রহিমার কথা শুনে বলল, তাঁকে যখন গ্রামের মানুষেরা গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে আমি তখন একবার তাঁকে দেখেছি। হ্যাঁ তাঁর জন্য উপযুক্ত ওষুধ আমার জানা আছে।

সূত্রঃ কুরআনের শ্রেষ্ঠ কাহিনী

হযরত আইয়ুব (আঃ) এর কঠিন পরীক্ষা – পর্ব ৫ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।