হযরত আইউব (আঃ)

হযরত আইউব (আঃ) দীর্ঘ আঠার বছর পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় কষ্টভোগ করে কাটিয়েছেন। তিনি যখন অসুস্থ ছিলেন তখন সবাই তাকে ত্যাগ করে চলে গেছে। অবশেষে ভাইদের মধ্যে দুজন সকাল-সন্ধ্যা তার খবরা-খবর নিতেন। একদিন তাদের একজন অন্যজনকে বলল, হযরত আইউব এমন পাপ করেছেন, যা পৃথিবীতে অন্য কেউ করেনি। অন্যজন বলল, সেই গুনাহ কি? প্রথম জন এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলল, আঠার বছর পর্যন্ত আল্লাহ্‌ পাক তার উপর রহমত নাজিল করেননি এবং তাকে রোগমুক্ত করেন নি।

হযরত আইউব (আঃ) তাদের এ আলোচনা শুনে বললেন, এমন গুনাহর কথা আমার স্বরণ হচ্ছে না। তবে একবার দুব্যক্তিকে ঝগরারত অবস্থায় আল্লাহ্‌র জিকির করতে দেখে আমার নিকট খারাপ লেগেছিল যে, তারা ঝগড়ার সময় আল্লাহ্‌র জিকির করছে।

হযরত আইউব (আঃ) অসুস্থ অবস্থায় যখন এস্তেঞ্জায় যেতেন তখন তার স্ত্রী তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যেতেন এবং হাজত শেষ হওয়ার পর আবার যথাস্থানে নিয়ে আসতেন। একদিন তিনি এস্তেঞ্জজায় যাওয়ার পর হযরত জিব্রাঈল (আঃ) আগমন করে বললেন, আপনি যমীনের উপর পদাঘাত করুন। হযরত আইউব (আঃ) তাই করলেন। সাথে সাথে সেখানে ঠান্ডা পানির ফোয়ারা সৃষ্টি হয়ে গেল। তিনি ঐ পানিতে গোসল করে তা পান করলেন। সাথে সাথে তার দেহের যাবতীয় রোগ দূর হয়ে আগের তুলনায় আরো সুন্দর স্বাস্থ্য ফিরে পেল। এদিকে তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন হযরত আইউব (আঃ) স্ত্রীর নিকট ফিরে গেলে স্ত্রী তাঁকে চিনতে না পেরে বললেন, আল্লাহ্‌ তোমার উপর রহম করুন, তুমি কি আল্লাহ্‌র নবী হযরত আইউব (আঃ) কে দেখেচ? আল্লাহ্‌র শপথ তিনি যখন সুস্থ ছিলেন, তখন তার স্বাস্থ ও সৌন্দর্যের সাথে একমাত্র তোমাকেই তুলনা করা চলে। স্ত্রীর কথা শুনে হযরত আইউব (আঃ) বললেন, আমিই তোমার সেই স্বামী। তিনি স্বামীর পরিচয় পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আল্লাহ্‌ পাকের শুকুর আদায় করলেন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।