হযরতের মক্কায় প্রত্যাবর্তন | আমার কথা
×

 

 

হযরতের মক্কায় প্রত্যাবর্তন

coSam ১০০


ওতবা ও শায়বা ভ্রাতৃদ্বয়ের আঙ্গুর বাগানে আনার পর যায়েদের সেবা শুশ্রুষায় নবীজী (সাঃ) কিছুটা চলৎশক্তি ফিরে পান এবং মক্কাভিমুখে রওয়ানা করেন। অত্যাচার নির্যাতন কবলিত দেহে দীর্ঘ ষাট / সত্তর মাইল পথ অতিক্রম করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মক্কার নিকটস্থ নাখলায় উপনীত হয়ে কিছু দিন বিশ্রাম গ্রহণ করেন। অবশ্য এছাড়া উপায়ান্তরও ছিল না। কেননা, মক্কাবাসীর ভীষণ অত্যাচারে তায়েফবাসীর সহযোগিতা লাভের আশায় তিনি তথায় গমন করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে যুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা নগরে প্রবেশ করতে চাইলে হযরত যায়দ ইবনে হারেসা (রাঃ) সেখানকার অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, একটা প্রতিবিধান না করে, নগরে প্রবেশ করা ঠিক হবে না। তিনি যায়দের কথা যুক্তিসঙ্গত মনে করলেন এবং মক্কা নগরে প্রবেশের পূর্বেই একটা প্রতিবিধান ব্যবস্থা করার জন্য নাখলায় থেকে যান।

মক্কায় কোন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে আশ্রয় দিতে সম্মত আছেন কিনা তা জানার জন্য তিনি মক্কায় লোক পাঠান। পর পর দুই জনের কাছে থেকে আশ্রয় দানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হলে জোবায়র ইবনে মোতয়েমের কাছে দূত পাঠান হয়। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুরোধে সাড়া দিয়ে লোক মারফত তাঁকে মক্কায় প্রবেশের আহ্বান জানান।

অপর দিকে স্বগোত্রের সব সামর্থবান পুরুষকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হবার নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে গোত্রের সকল সামর্থবান পুরুষ সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসলে যোবায়ের স্বয়ং অশ্ব পৃষ্ঠে আরোহণ করে তাদের অগ্রে অগ্রে গমন করেন। মহাত্না যোবায়রের সশস্ত্র সেনাদল কাবা শরীফের কাছে উপনীত হয়।

এ সময় কুরাইশরাও কাবা শরীফের কাছে সমবেত হয়েছিল। মোতয়েম তার দীর্ঘ বাহু উর্দ্ধে উচিয়ে জলদ গম্ভীর স্বরে ঘোষণা করলেন- সাবধান! মুহাম্মদকে আমি অভয় দান করেছি। সুতরাং এ ব্যাপারে আর কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। মহাত্না মোতয়েমের জলদগম্বীর ঘোষণা শুনে উপস্থিত কুরাইশরা ব্যথিত চিত্তে কাবা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় হিজরতের পর বদর যুদ্ধের পূর্বেই মহাত্না মোতয়েম ইহধাম ত্যাগ করেন। 

 

পরবর্তী গল্প
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দ্বিতীয় বিয়ে

পূর্ববর্তী গল্প
তায়েফবাসীর অত্যাচার

ক্যাটেগরী