হজ্ব উপলক্ষে মক্কায় ইয়াসরিবের প্রতিনিধি দলের আগমন | আমার কথা
×

 

 

হজ্ব উপলক্ষে মক্কায় ইয়াসরিবের প্রতিনিধি দলের আগমন

coSam ১১৯


কুরাইশদের সাথে চুক্তির উদ্দেশ্যে আনাস বিন রাফের নেতৃত্বে যে খাযরাজী প্রতিনিধি দল মক্কায় এসেছিল, তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (স) ইসলাম গ্রহনের আহ্বান জানান। তাতক্ষণিকভাবে তারা সাড়া দেয়নি বটে, কিন্তু এ আহ্বানের তাদের অর্ন্তজগতে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁরা ইয়াসরিবে পৌছে নবী করীম (স)-এর উপদেশ এবং ইসলামের প্রতি আহ্বান সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করতে থাকেন। আলোচনার ফলে সর্বসাধারণের মনে ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে নানাবিধ কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

ইয়াসরিবীরা পূর্ব হতেই শুনে আসছিল, আখেরী নবীর আবির্ভাবকালে অতি সন্নিকটে। বিশেষ করে আওস ও খাযরাজ বংশীয়দের সাথে যখন কোন ব্যাপারে ইহুদীদের ঝগড়া বিবাদ বাধত তখন তাঁরা বিরোধীদেরকে এ বলে শাসাত যে, আখেরী নবীর আর্বিভাব ঘটলে তাঁর সহায়তায় আমরা তোমাদেরকে নির্মূল করে ছাড়ব।

এভাবে সারা ইয়াসরিব ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে একটা আলোচনায় সুত্রপাত হয়। পরবর্তী বছরই আবার হজ্ব উপলক্ষে মক্কায় ছয়জন ইয়াসরিব বাসী মক্কায় সন্নিকটে আকাবা নামক স্থানে বসে নবী (স)-এর সাথে কথাবার্তা বলছেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাদের পরিচয় নিয়ে জানতে পারলেন, এরা মদীনাস্থ খাযরাজ বংশীয় লোক। তিনি এসব বহিরাগতকে একটু স্থির হয়ে তাঁর বক্তব্য শুনার অনুরোধ জানান। তাঁরা এ প্রস্তাবে রাজি হলে তিনি অতি সহজ সরল ভাষায় তাদেরকে ইসলামের শিক্ষা ও সততার কথা বুঝিয়ে দেন। শেষে কোরআনের কয়েকটি আয়াত পাঠ করে তিনি তাদেরকে ইসলামে দাখিল হওয়ার আহ্বান জানান।

ইয়াসরিবের এসব লোক যদিও পৌত্তলিক ছিল, কিন্তু ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে তাদের একেবারে অজানা ছিল না। ইয়াসরিবস্থ ইহুদীদের মুখে তাঁরা বিভিন্ন উপলক্ষে শেষ নবী সম্পর্কিত আলোচনা শুনেছে। তদুপরি আনাস বিন রাফের নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধি দলও মদীনায় গিয়ে সর্বসাধারণের মাঝে ইসলাম এবং ইসলামের নবী সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা করে। কাজেই রাসূলুল্লাহ (স) এর বক্তব্যে তাঁর পরিচিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত হতে কোন অসুবিধাই হয়নি। ফলত ইয়াসরিবস্থ এ দলের আট জন লোকই রাসূলুল্লাহ (স)-এর কাছে ইসলামে দীক্ষিত হন। এ আট জন হলেন-

(১) আসআদ বিন যোরারা ইনি নবীজী (স)-এর হিজরতের কয়েক মাস পরেই ইহধাম ত্যাগ করেন। সর্ব প্রথম মদীনার গোরস্থান জান্নাতুল বাকীতে সমাধিস্থ হওয়ার সৌভাগ্য তাঁরই হয়। (২) রাফে বিন মালেক বিগত দশ বছরে কোরআনের যে অংশটুকু নাযিল হয়েছিল নবীজী (স) সে অংশটুকু প্রথম সাক্ষাতে রাফে বিন মালেকের হাতে সমপর্ণ করেন। মদীনায় গমন করে স্থান-কাল-পাত্র অনুসারে ইয়াসরিববাসীর কাছে প্রচার করতেন। ইনি বদর যুদ্ধে শহীদ হন। (৩) আবুল হায়সাম বিন তকাইয়্যেহান। (৪) কোতবা বিন আমের। (৫) আওফা বিন হারেস। (৬) জাবের বিন আবদুল্লাহ (৭) ওকবা বিন আমের (৮) আমর বিন আবদে হারেসা। 

পরবর্তী গল্প
আকাবার প্রথম বায়আত

পূর্ববর্তী গল্প
আনসারদের উদারতা

ক্যাটেগরী