সোজা শ্বশুর বাড়ী | আমার কথা
×

 

 

সোজা শ্বশুর বাড়ী

coSam ১৭৫


হাবলুর বিয়ে হয়েছে কয়েক যুগ আগে , কিন্তু জীবনে আজও শ্বশুর বাড়ী যাওয়া হলো না তার । একদিন হঠাৎ ওর ঘড়ে শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার ভূত চাপলো । হঠাৎ যদি মরে যায়, তবে শ্বশুর বাড়ী যাওয়াটা আর হবে না ।

হাবলু শ্বশুর বাড়ীর পথ চেনে না তাই মায়ের কাছে পথনির্দেশ নিতে গেল। মা হাত ইশারায় বললেন , এইভাবে সোজা যাও ...।

যা হোক, মায়ের দেখানো সোজা পথে হাবলু যাত্রা শুরু করল। ও পথ চলছে একদম সোজা , এক তিলও এদিক - ওদিক ঘুরছে না। করল । পাছে যদি শ্বশুর বাড়ীর পথ হারিয়ে যায়?

অনেক দূর যাবার পর পথ অন্য দিকে ঘুরে গেছে। তবে হাবলুকে তো ঘুরলে চলবে না। তাই ও সোজা নিশানা বজায় রেখে পথ থেকে নেমে পড়ল ।

কিছুদূর গিয়ে সামনে একটি দীঘি পড়ল। কেমনে এবার সোজা যাবে হাবলু? দীঘি ঘুরে ওপাশ দিয়ে গেলে তো পথ হারিয়ে যাবে। না, সোজাই যাবে সে। হাবলু দীঘিতে নেমে সাঁতরিয়ে সোজা ওপারে উঠল। একটু জিরিয়ে গায়ের পানিগুলো শুকিয়ে নিল। আবার হাবলু সোজা চলা শুরু করল।

এবার হাবলুর সামনে পড়ল একটি গরুর পাল। একটু ঘুরে গেলে হয়, কিন্তু ওকে তো ঘুরলে চলবে না। কারণ, মা যে বলেছেন, এইভাবে সোজা যাও...। হাবলু গরুর পালের মধ্যে প্রবেশ করে যথাসম্ভব গরুদের সরিয়ে সোজা যেতে চেষ্টা করল। কিন্তু একটা বদমেজাজী গরুর হাবলুর এ বাদশাহী চাল পছন্দ করল না। জনাব গরু সাহেব তেড়ে এসে হাবলুকে বেশ করে গুতিয়ে দিল। একপাশে পড়ে হাবলু ভাবল- সোজা যাওয়া তো খুব কষ্টের ব্যাপার! তবে এতদূর যখন এসেছে, তখন যে করেই হোক সে শ্বশুরবাড়ী যাবেই যাবে। নিরাশ না হলে হাবলু  আবার সোজা চলা শুরু করল।

মাঠ ছাড়িয়ে সে এক তাল খেজুর বনে এসে পড়ল। দুর্ভাগ্য, হাবলুর সোজা নিরাশার সামনে পড়ল মস্ত বড় এক তাল গাছ। এখন তো মহাবিপদ! তাল গাছকে ডিঙ্গিয়ে কিভাবে যাবে হাবলু? আবার গাছ ঘুরে গেলে তো পথ হারিয়ে যাবে, শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হবে না। সোজা পথ চলায় এত বাঁধা! না! আজ তাকে শ্বশুরবাড়ি যেতেই হবে। সে দেখে শুনে সোজা গাছ বেয়ে উপরে উঠা শুরু করল। ওপরে উঠে আবার অপর পাশ দিয়ে নামলে সোজা নিশানা ঘুরে যাবেন না। সোজা পথ বজায় থাকবে হাবলুর।

কিন্তু গাছের মাথায় উঠে হাবলু এক গ্যাঁড়াকলে পড়ল। আপন পাশ দিয়ে পাতা ধরে নামতে গিয়ে হাবলুর দুই পা গাছ থেক ফসকে গেল। হাতে ধরা থাকল নাগাল পাতা। পাতার ডগা খুব লম্বা হওয়ায় হাবলু পা দিয়ে কোনমতে গাছের নাগাল পেল না। এখন উপায়? এত উঁচু থকে পড়লে তো নির্ঘাত শ্বশুরবাড়িও বউসুদ্ধ হারাতে হবে। তাছাড়া এভাবে ঝুলে থাকাও বা কতক্ষণ যায়- হাবলু পড়ল মহাবিপাকে। তবে কি হাবলুর শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ী যাওয়া-ই হবেনা।

সহসা সে কিছুদূরে চেয়ে দেখে, এক গায়ক গজল গেয়ে হাতির পিঠে চড়ে যাচ্ছে। হাবলু উদ্দেশ্যে সজোরে চিৎকার শুর করল। অবাক কাণ্ড দেখে গায়ক গাছের কাছে এল। সে হাবলুর ঝুলে থাকা বরাবর নীচে হাতিটা দাঁড় করিয়ে হাতির পিঠে দাঁড়াল তাকে নামানোর জন্য। যেই সে আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে হাবলুর পা দুটো ধরল, ঠিক সেই মুহূর্তে আজব ঘটনা ঘটে গেল। আঙ্গুলের চাপে পিটে ব্যথা পেয়ে হাতি দিল দৌড়। আর গায়ক অগত্যা হাবলুর পা ধরে ঝুলে রইল। ফলে হাবলুর বিপদ বেড়ে গেল। সে ভাবল- ছিলাম একা, একে ডেকে যে বিপদ ডবল হলো? গায়ক চিন্তা করছে, একে বাঁচাতে এসে কেন মরতে গেলাম?

যা হোক, দুজনের ভার হাবলু একা আর কতক্ষণ রাখতে পারে? দারুণ দৃশ্য, গায়ক ঝুলে আছে হাবলুর দুপা ধরে, আর হাবলু আছে তালপাতাকে ধরে। ছেড়ে দিলেই দুজনের অনিবার্য শ্বশুরবাড়ীসহ সবাই হারাতে হবে।

হঠাৎ হাবলু বলল- গায়ক ভাই গজল শুরু কর, দেখ কেউ আসে কিনা। বুদ্ধিটা মন্দ নয়। গায়ক সুরেলা গলায় গজল ধরে টান দিল। সুরের মুর্চ্ছনায় পরিবেশ বিমোহিত হয়ে গেল। গজল শুনে হাবলুর কষ্ট লাঘব হতে শুরু করল। ক্রমে গজলের সুরে হাবলু এমন আত্মহারা হয়ে গেল যে, সে ভুলে গেল যে, তারা গাছে ঝুলে আছে। পাগলপারা হাবলুর মনে নেই যে, হাবলু পাতা ধরে ঝুলে আছে এবং হাবলু গায়ে ঝুলে আছে আরেক হাবলু। মন্ত্রমুগ্ধের মত বলে উঠল- তোমার গলায় এত সুন্দর সুর! সেই সাথে আবেগের অতিশয্যে বাহ বাহ বেশ বলে সজোরে হাতে তালি দিল হাবলু।  

এরপর কি হলো? এক জোড়া তাল পড়ল! মানে গাছ থেকে দুই হাবলু ধপাশ...! গায়কের সুরেলা গজল থেমে গেল। হাবলুর সোজা পথ চলা ঘুচে গেল। তাই যাওয়া হলো না আর হাবলুর শ্বশুরবাড়ী।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি

পরবর্তী গল্প
অপরূপ ব্যাখ্যা

পূর্ববর্তী গল্প
দুষ্ট বুদ্ধির পরিণাম

ক্যাটেগরী