সালমান (রাঃ) এর জিকর | আমার কথা
×

 

 

সালমান (রাঃ) এর জিকর

coSam ১০৪


সালমান (রাঃ) যা জানতেন তা আমলে পরিণত করতেন। তিনি একদল মুসলিমের সঙ্গে উপবিষ্ঠ ছিলেন। তারা সকলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর জিকির করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তিনি তাদের নিকটে থামলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা মন দিয়ে কি পাঠ করছিলে? তারা বললেন-হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমরা জিকির করছিলাম।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, যে শব্দগুলো উচ্চারণ করছিলে তাই করতে থাক। অবশ্যই আমি দেখছিলাম যে, আল্লাহর অনুকম্পা ও আশিষ তোমাদের উপর বর্ষিত হচ্ছে। আমি অবশ্যই তোমাদের সাথে এর অংশীদার হতে চাই।

তারপর তিনি বললেন- প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তোমাদের মত লোক আল্লাহ আমার উম্মতের মধ্যে তৈরী করেছেন। তোমাদের মধ্যে প্রশান্তি ও আমার অন্ত করণে সবর অনুভব করতে আল্লাহ আমাকে নিদেশ দিয়েছেন।

বরাইদা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, আমার রব চার ব্যক্তিকে ভালোবাসার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এরা হলেন - আলী, আম্মার, মিকদাদ ও সালমান। (আল-ইসতিয়াব, ২য় খণ্ড পৃঃ ৬৩৬)। আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, জান্নাত তিন ব্যক্তির জন্য প্রতীক্ষা করে। তারা হলেন আলী, আম্মার ও সালমান ৷ (উসদুল গাবা, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৩১)।
সালমান (রাঃ) ছিলেন তার বিশ্বাসে অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ ৷

যখন তিনি অগ্নী উপাসক ছিলেন তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ অগ্নী পূজারী খ্রীষ্টান থাকাকালে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ সংসার ত্যাগী খ্রীষ্টান। ইসলাম গ্রহণ করার পরেও তিনি হন ইসলামের পরিপূর্ণ নমুনা এবং খাঁটি মুসলিম।

সুলাইমান (রাঃ) অভিজাত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধি এবং জ্ঞান যা সালমানকে দিয়েছেন তা দিয়ে বিশাল ফারস্য সম্রাজ্যের উচ্চ স্তরে ক্ষমতাশীল এবং প্রাচুর্যময় জীবন যাপন করতে পারতেন।

কিন্ত সত্যের আবেদন ও ক্ষুধা তার মধ্যে ছিল প্রবল। সত্যের সন্ধানে তিনি আরামপ্রদ এবং সুখী জীবন যাত্রার সকল সম্ভাবনা পরিহার করে স্বেচ্ছায় গৃহ হারা হন। সুদীর্ঘ কাল তিনি দাসত্বের নির্মম শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলেন।

হযরত উসমানের খিলাফতকালে ৩৬ হিজরীতে ৭৭ বছর বয়সে মাদাইন শহরে সালমান ফারসী (রাঃ) জান্নাতের পথে ইহকালের মায়া পরিত্যাগ করে মহাপ্রয়ান করেন। হুজাইয়ফা ইবনুল ইয়ামানের পাশে তাকে দাফন করা হয়। মাদাইনে এখনও তার মাজার আছে।

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী 

পরবর্তী গল্প
নির্যাতীত হযরত বিলাল (রাঃ)

পূর্ববর্তী গল্প
নিয়মিত সালাত

ক্যাটেগরী