সালমান ফারসীর চরিত্র | আমার কথা
×

 

 

সালমান ফারসীর চরিত্র

coSam ৩৫


মহামতি সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) এর বহু প্রশংসা সূচক উপাধী ছিল। তার একটি ছিল ছালেহ আমাল (উত্তম কর্মী)। সালমান ছিলেন একজন মহা জ্ঞানী। কিন্তু তার জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন। সংসার বিমুখ, সরল এবং ত্যাগী ভোগ লিপ্সাহীন। সালমানের একটি চাদর ছিল। এই চাদরে করে তিনি লাকড়ী সংগ্রহ করতে অর্ধাংশ ব্যবহার করতেন ঘুমাবার জন্য এবং অর্ধাংশ গায়ে দিতেন।

(তাবাক ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ৮৭)। তার ছিল মাত্র একটি জুব্বা। কখনও এটি গায়ে দিয়ে ঘুমাতেন। বেশ ভূষা এবং এক চাদরে সালমানকে একজন ফকির বা শ্রমিকের বেশি মনে হত না। গোত্রের এক ব্যক্তি তার গবাদী পশুর জন্য খাদ্য ক্রয় করেন।

সালমান দেখে লোকটি তাকে একজন ভাড়ায় খাটা শ্রমিক মনে করেন। এবং তার পর খাবার বাড়ীতে পৌছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে সালমান ফারসী বোঝ মাথায় তুলে ক্রেতার সঙ্গে চললেন। তখন সালমান (রাঃ) ছিলেন মাদাইনের (পোরস্যের) গভর্ণর। রাস্তায় পথচারীসালমানের মাথায় বোঝা দেখে সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিজেদের মাথায় নেয়ার জন্য টানাটানি করতে থাকেন।

কুলির এত সম্মান দেখে লোকটি একজনকে জিজ্ঞাসা করল। এ শ্রমিক কে? লোকজন উত্তর দিল তিনি তো রাসূলুল্লাহর প্রিয় সাহাবী সালমান ফারসী (রাঃ)। পশু খাদ্য ক্রেতা লজ্জিত হয়ে সালমানকে বলল আমি তো আপনাকে চিনতে পারিনি।

আপনাকে আর কষ্ট করতে হবে না। এই বলে পশুর খাদ্যের বোঝা টানতে লাগল। কিন্তু সালমান (রাঃ) তা হস্তান্তর করলেন না।

বললেন আপনার বোঝা বহন করা উদ্দেশ্য হল আমার সাওয়াব লাভ করা। তাই আপনার বাড়ি পর্যন্ত না পৌছিয়ে আমি এ বোঝা নামাব না। (তোবকাত চতুর্থ খন্ড,পৃঃ ৮৮৪ সিয়ারুস সাহাবা, ২য় খন্ড, ৯১ পৃঃ)।

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
সালমান ফারসী (রাঃ) এর বাসগৃহ

পূর্ববর্তী গল্প
সালমান ফারসীর বহুবিধ অবদান ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশ পালন

ক্যাটেগরী