সায়ীর তরীকা ও মাসায়েল | আমার কথা
×

 

 

সায়ীর তরীকা ও মাসায়েল

coSam ৩১


সায়ীর তরীকা ও মাসায়েলঃ

(সাফা ও মারওয়া নামক দু'টি পাহাড়ের মাঝে বিশেষ নিয়মে সাতটা চক্কর দেয়াকে সারী বলা হয় ।)
* তওয়াফ ও তার আনুষঙ্গিক কার্যাবলী শেষ করার পর সারী করার উদ্দেশ্যে ছাফা পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে তওয়াফে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী চুমু দিযে যাবেন। এটা মােস্তাহাব। এটা হবে নবম চুমু দেয়া।
* তওয়াফের পর বিলম্ব না করেই সায়ী করা সুন্নাত।
* সায়ী করার জন্য বাবুস সাফা” অর্থাৎ, সাফা দরজা দিয়ে বের হওয়া মোস্তাহাব। অন্য যে কোন দরজা দিয়ে বের হওয়া জায়েয। মনে রাখতে হবে এখান থেকে বের হওয়ার সময় মসজিদ থেকে বের হওয়ার নিয়ম ও দুআগুলােও আমল করতে হবে।  
* সাফা পাহাড়ের এতটুকু উঁচুতে উঠবেন যেন বাবুস সাফা দিয়ে কা'বা শরীফ নজরে আসে, এর চেয়ে বেশী উপরে উঠা নিয়মের খেলাফ বরং এতটুকুই উপরে উঠা সুন্নাত।
* কাবা শরীফ নজরে আসলে কাবার দিকে নজর করে দুআ করার সময় যে রকম হাত উঠানাে হয় সে রকম করে দুই হাত কাঁধ বরারব উঠিয়ে (কান পর্যন্ত হাত উঠানাে ভুল এবং সুন্নাতের খেলাফ) তিন বার আওয়াজ সহকারে নিম্নোক্ত দুআ পড়ুন । এটা মােস্তাহাব।
তারপর আস্তে দুরূদ শরীফ পাঠ করে নিজের জন্য এবং সকলের জন্য দুআ করুন। এটাও দুআ কবুল হওয়ার স্থান।
* সায়ীর নিয়ত করে নেয়াও উত্তম।
* অতঃপর দুআ কালাম পাঠ করতে করতে মারওয়ার দিকে অগ্রসর হােন। যথাসম্ভব মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে সায়ী করার চেষ্টা করবেন। স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকুন। মাঝখানে সবুজ দুই স্তম্ভ নজরে পড়বে, এই স্তদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানটুকু পুরুষের জন্য কিছুটা দ্রুত গতিতে চলা সুন্নাত..একেবারে দৌড়ে নয়। নারীগণ এ স্থানেও স্বাভাবিক গতিতে চলবেন।
অর্থাৎ, হে আমার রব, তুমি ক্ষমা কর এবং রহমত দান কর, তুমিতাে সবচেয়ে বেশী মর্যাদাশালী। সবচেয়ে বড় মেহেরবান!
পুরুষগণ ভীড়ের কারণে দ্রুত চলা সম্ভব না হলে ভীড় কমার অপেক্ষা করবেন। এই মধ্যবর্তী স্থানটুকু পার পাওয়ার পর আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে চলতে মারওয়া পাহাড়ে পৌছান। মারওয়া পাহাড়ের সামান্য উঁচতে উঠে কাবামুখী হয়ে পূর্বের ন্যায় হাত উঠিয়ে তিনবার নিম্নোক্ত দুআ পড়ুন এবং অন্যান্য দুআ করুন। এই মারওয়া পাহাড়েও বেশী উপরে উঠা নিষেধ।
* সাফা থেকে এই মারওয়া পর্যন্ত আপনার এক চক্কর হয়ে গেল। আবার বেএখান থেকে সাফা পর্যন্ত পূর্বের নিয়মে যাবেন তাতে দ্বিতীয় চক্কর হয়ে যাবে। এভাবে সাত চক্কর দিবেন, তাতে মারওয়ার উপর এসে আপনার সপ্তম চক্কর শেষ হবে। সাফা থেকে আবার সাফা পর্যন্ত এক চক্কর হিসেব করবেন না, তাতে চৌদ্দ চক্কর হয়ে যাবে সেটা ভুল।
* মহিলাগণ মাসিক অবস্থায় সায়ী করতে পারেন। তবে পবিত্র হওয়ার পরই সায়ী করা সুন্নাত।
* সায়ীর চক্কর কয়টা হল এ নিয়ে সন্দেহ হলে কমটা ধরে নিয়ে বাকীটা পুর্ণ করতে হবে।
* উপরে দ্বিতীয় তলায় এবং ছাদেও সায়ীর জন্য ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানেও সায়ী করা যেতে পারে।
* সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষ হওয়ার পর মসজিদে হারামের ভিতর এসে দুই রাকআত নফল নামায পড়া মােস্তাহাব, যদি মাকরূহ ওয়াক্ত না হয়। এ পর্যন্ত আপনার সায়ীর কার্যাবলী শেষ হল। যদি এটা আপনার উমরার সায়ী হয়ে থাকে তাহলে এখন আপনি মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছেটে এহরাম খুলতে পারেন।

সূত্রঃ আহকামে যিন্দেগী

পরবর্তী গল্প
ইমাম নিযুক্ত করার নীতি ও মাসায়েল

পূর্ববর্তী গল্প
তওয়াফের তরীকা ও মাসায়েল

ক্যাটেগরী