সাদাকা ও উপটৌকন | আমার কথা
×

 

 

সাদাকা ও উপটৌকন

coSam ৩২


সালমান (রাঃ) বর্ণনা করেছেন সেদিন বিকেল বেলা আমি কিছু খেজুর সংগ্রহ করে আল্লাহ্‌র নবী (সাঃ) কুবা পল্লীতে যেখানে অবস্থান করছিলেন তথায় গমন করি। আমি তার নিকটস্থ হয়ে বললাম আমি শুনেছি আপনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি। আপনার সঙ্গীগণও এখানে অপরিচিত এবং অভাবী। আমি কিছু “সাদকা” আপনার জন্য নিয়ে এসেছি।

অন্যদের থেকে এ সাদকায় আপনার প্রয়োজনই বেশি। “সাদকা” শব্দটি শুনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন এবং তার সঙ্গীদেরকে বললেন খেজুরগুলো খাওয়ার জন্য। সাদকা শব্দ শুনে রাসূলুল্লাহর প্রতিক্রিয়ায় সালমানের হৃদয়েও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হল। তিনি স্মরণ করলেন যে, পাদ্রী নতুন নবীর যে আলামত বলেছিলেন তার একটি তো পাওয়া গেল।

এর পর রাসূলুল্লাহ কুবা থেকে মদীনায় আসলেন। সালমান (রাঃ) আরেক দিন আর কিছু খাবার নিয়ে রাসূলের কাছে গেলেন এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং বিনয়ে জানালেন যে, তিনি কিছু হাদীয়া এনেছেন যা সাদকা নয়।

এবার রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) জিনিসগুলো গ্রহণ করলেন। সকলকে খেতে দিলেন এবং নিজেও কিছুটা খেলেন। সালমান (রাঃ) ভাবলেন- নতুন নবীর নবুওয়্যতের অন্তত দু'টি আলামততো পাওয়া গেল। কয়েকদিন পর সালমান (রাঃ) আবার মদীনায় রাসূলুল্লাহর নিকট গমন করলেন। তিনি একটি জানাযার সঙ্গে বাকিউল দারকাদে গমন করছিলেন।

সুযোগ হলে এক সময় সালমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্‌র সম্মুখ হতে পিছনে আসলেন। আল্লাহর নবী তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তার গাঁয়ের চাদর একটু সরিয়ে দিলেন। সালমান (রাঃ) মাহার-ই-নবুওয়াত দেখে তাতে চুম্বন করলেন এবং কেঁদে ফেললেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে সম্মুখে এনে বসালেন। মহানবীর নির্মল সততা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সালমান (রাঃ) ছিলেন অতি মুগ্ধ এবং মোহিত। মহানবীর সঙ্গে দ্বিতীয়বার সাক্ষাতের সুযোগে সালমান (রাঃ) হয়েছিলেন মনমুগ্ধ এবং শিহরিত।

নিজের কাজ থেকে ছুটি নিয়ে সালমান (রাঃ) মহানবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে একটি কবরস্থানে তিনি তার সাক্ষাৎ পেলেন। সালমান (রাঃ) তখন সত্যের সন্ধানে তার দীর্ঘ সফরের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলেন এবং এ মজলিশেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। পবিত্র কালিমা পাঠ করে সালমান দ্বীন ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। তার একটি নতুন পরিচয় তিনি লাভ করেন।

কেউ তাকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে সালমান (রাঃ) বলতেন, “আমি সালমান (রাঃ)। আমি ইসলামের সন্তান। আদমের আওলাদের মধ্য হতে আমি একজন।” (যাহাবী  সিয়ারু আলামীন; ১ম খন্ড; পৃষ্ঠা ৫০৬-৫১০; ইবনে সাদ, তাবাকাত, চতুর্থ খন্ড, পৃঃ ৭৫-৭৯; উসদুল গাবা, ২য় খন্ড পৃ, ৩২৮-৩৩০)। “তাওহীদের মূল শিক্ষা বাল্যকাল হইতেই সালমানের অন্তরে প্রোথিত হইয়া গিয়েছিল।

ইহার প্রভাব ও প্রেরণায় উদ্ভুদ্ধ  হইয়াই তিনি পরবর্তীতে দ্বী ন-ই হানিফ সত্য ধর্ম) এর অনুসন্ধানে শ্যামসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন এবং অবশেষে দাসরূপে মদীনায় পৌছেন। (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৪ খন্ড, ২য় ভাগ; পৃঃ ১০০)।

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী 

পরবর্তী গল্প
ইসলাম গ্রহণ ও মুক্তিপণ

পূর্ববর্তী গল্প
মহানবীর কুবায় আগমন

ক্যাটেগরী