সরল জীবন যাত্রা | আমার কথা
×

 

 

সরল জীবন যাত্রা

coSam ৫৪


দুনিয়ায় কোন বস্তুর প্রতি সালমানের আকর্ষণ ছিল না। বালিশ রূপে সালমান ২ খানি ইট ব্যবহার করতেন। এর পরেও সালমান (রাঃ) রোদন করতেন এই বলে রাসূলুল্লাহ্‌ বলেছেন-মানুষের ছামান-পত্র একজন মুসাফিরের ছামানের অধিক যেন না হয়।

আর আমার এ অবস্থা। (মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল; পঞ্চম খণ্ড, পৃঃ ৪৩৮-৩৯)। মৃত্যুকালনি অসুস্থতার সময়ে সা'দ ইবনে আবি ওযাক্কাস সালমান (রাঃ) ফারসীকে দেখতে যান। সা'দকে (রাঃ) দেখে সালমান রোদন (রাঃ) শুরু করলেন সা'দ তাকে সান্তনা দিয়ে বলেন “হে আবু আব্দুল্লাহ ! তোমার ক্রন্দনের কি আছে? আল্লাহ্‌র রাসূল (সাঃ) তোমার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর হাত থেকে তুমি হাউজ-ই কাউসার অমৃত পান করবে।

জান্নাতে সঙ্গী- সাথীদের সঙ্গে শীঘ্রই তোমার সাক্ষাৎ হবে। সালমান (রাঃ) বলেন আল্লাহ্‌র কসম। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না।

দুনিয়ার কোন মোহ আমার মধ্যে নেই। আমি ক্রন্দন করছি এ জন্য যে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) আমার নিকট থেকে একটি অঙ্গীকার নিয়েছিলেন ৷ আমার আসবাব পত্র যে একজন মুসাফিরের সামান হতে বেশি না হয়। অথচ আমার চারি দিকে কত স্বর্ণ রয়েছে। এ বলে তিনি তার আসবাবপত্রের দিকে ইঙ্গিত করলেন৷

হযরত সা'দ বলেন, “যে আসবাব পত্রকে সালমান স্বর্ণ বলে ঈঙ্গিত করেছেন তা ছিল একটি বড় পিয়ালা। একটি চিলমছি, এক খানা থালা।

এর ভয়ে সালমানের মত লোক ক্রন্ধন করছিলেন। মৃত্যুর পর সালমানের সকল মাল সামানের মূল্য দাড়ায় ২০ দিরহাম। সালমান ফারসী (রাঃ) ৩৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স ছিল ৭৬ বা ৭৭ বছর।

সুত্রঃ ক্রিতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
শ্রমলব্ধ আয়ে জীবনযাপন ও আহার

পূর্ববর্তী গল্প
সালমান ফারসী (রাঃ) এর বাসগৃহ

ক্যাটেগরী