সম্প্রদায়ভেদে প্রাচীন আরবের ইতিহাস

ইতিহাসবেত্তারা আরবকে সম্প্রদায় ভেদে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। ১। আরবে বায়েদা, ২। আরবে আরিবা ৩। আরবে মুসতারাবা।

১। আরবে বায়েদাবনু কাহতানের আগেকার লোকেরা আরবে বায়িদা নামে পরিচিত ছিলেন। এ বায়িদা গোত্র সমূলে ধবংস হয়ে গিয়েছে।

২। আরবে আরিবাএরা ছিল রাজ বংশ। তারা দৈর্ঘ কাল বনু কাহতান, ইয়ামন ও তার আশে পাশে রাজত্ব করেছিল।

৩। আরবে মুসাতারাবাএরা বনু ইসমাইল ও বনু আদনান নামে পরিচিত। হেজাজ ও তার আশে পাশের এলাকায় তাদের বসবাস ছিল।

এ বিভক্তি অনুসারে দেখা যায় আরবে বায়িদা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল আদ ও ছামুদ। কিন্তু ইবনে আদী তাঁর রচিত তারখিএ কামেল গ্রন্থে হযরত ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আরবে আরিবার ইতিহাস এরামের যুগ হতে শুরু হয়। আদসামুদ, তসম, যদীস, আমালেক, আবীল, উমাইম, আবার জাছেম ও কাহতান। এ দশ জাতির সমন্বয়ে আরবে আরিবা অথবা এরাম নাম গঠিত।

অতএব আদ, ছামুদের পূর্বের লোকেরাই ছিলেন আরবে বায়িদা। আদে উলা বলতে হুদ (আঃ) – এর সম্প্রদায়কে বুঝায় না বরং এর বহু পূর্বেও তারা ছিল। হযরত হুদ (আঃ) আদকে ছনিয়া বা দ্বিতীয় আদ গোত্রে পাঠান হয়েছিল। তাদেরকে আদে এরাম বলা হয়। তসম ও যদীস বংশদ্বয় কাহতানের পূর্বে ছিল। ইয়ামামা ও বাহরাইনে তাদের বংশধররা দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করছিল। কিন্তু হিমইয়ারী সম্রাটরা তাদেরকে হত্যা করে সমূলে উতপাঠিত করে দেয়। আমালেকা গোত্র প্রথমে ইয়ামানে বসবাস করত। তখন ইয়ামনের উপর ইরানীদের প্রভাব বিস্তৃত ছিল। তারা আমালেকদের ইয়ামন হতে বের করে দেয়।

তখন তারা ফিলিস্তিনে আশ্রয় নেয়। হযরত মূসা (আঃ) মিশর হতে বনী ইসরাইলীকে নিয়ে সিরিয়া যাওয়ার পথে তাদের সাথেই মোকাবিলার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট হয়েছিলেন। কিন্তু ইসরাইলীরা এ আদেশ অমান্য করায় আল্লাহর নির্দেশে তারা মরু অঞ্চলে চল্লিশ বছর যাবত বন্দী জীবন কাটায়। উল্লেখিত দশ সম্প্রদায়ের অন্যান্য যে সব সম্প্রদায় ছিল তাদের নয় সম্প্রদায়ের ইতিহাস সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। কেবলমাত্র বনু কাহতানের কিছু নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এ কাহতানীদের মধ্যেই হিমইয়ার, ছাবা এবং তুব্বা বংশের রাজারা জন্মগ্রহণ করেন। নিম্নে তাদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হল।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।