সত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রাঃ) | আমার কথা
×

 

 

সত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রাঃ)

coSam ৩৪


কিশোর সালমান ফারসী (রাঃ)-সত্যের সন্ধানে সম্পদ ও মর্যাদা সম্পন্ন পিতৃ সংসার, মাতা-পিতার প্রিয় সান্নিধ্য ত্যাগ করে ইস্পাহান হয়ে সিরিয়ার দামেস্কে পৌঁছেন। যদিও বিফল হননি কিন্তু তার মনজিলে মকসুদ ছিল বহু দূরে! সিরিয়ার দামেস্কে দ্বিতীয় বিশপের সান্নিধ্যে তার ধর্ম চর্চা এবং দ্বীন সাধনা ভালোই চলছিল।

দ্বিতীয় বিশপের জীবন সায়াহ্নে সালমান (রাঃ) তাঁর কাছে পরবর্তী গুরুর সন্ধান কামনা করেন। বিশপের অস্তিম নির্দেশে সালমান (রাঃ) সিরিয়া থেকে ইরাকের মাওসিলে আরেকজন দ্বীনদার তৃতীয় পাদ্রী গুরুর সান্নিধ্যে আসেন।

মাওসীলের তৃতীয় পাদ্রীর অন্তিম অবস্থায় তারই নির্দেশে নাসিবীন নামক শহরে আরেকজন দ্বীনদার পঞ্চম পাদ্রীর আশ্রয়ে আসেন। নাসিবীনের পাদ্রীর অস্তিম নির্দেশে সালমান (রাঃ) আম্মুরীয়ায় আসেন অন্য এক দ্বীনদার চতুর্থ পাদ্রীর সন্নিধানে।

সালমান (রাঃ) খাটি দ্বীনের সন্ধানে তার দীর্ঘকাল পরিভ্রমণের কাহিনী মৃত্যু পথযাত্রী আম্মুরিয়ার পাদ্রীর নিকট বর্ণনা করে তার মৃত্যুর পর সত্যের সন্ধানে সালমান (রাঃ) কোথায় কোন দ্বীনদার ব্যক্তির নিকট যাবেন এই নির্দেশ আম্মুরিয়ার পাদ্রীর নিকট কামনা করেন।

আম্মুরীয়ার পাদ্রী সালমানকে হযরত ঈসার পর ইব্রাহীমী ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত নতুন নবীর আগমণের সু-সংবাদ দেন।

এ নবীর নিষ্ঠা, সততায়, নেককার লোকেরা হবে তার প্রতি মোহিত এবং মুগ্ধ। পাদ্রী আরও বলেন যে, এ নবী দুই মরুভূমির মধ্যবতী খেজুর বৃক্ষ সুশোভিত দেশে হিজরত করবেন। তার তিনটি আয়াত বা চিহ্নেরে উল্লেখ তিনি করেন। (১) পরবর্তী নবীর দুই কাধের মধ্যখানে নব্যূয়তের মোহর থাকবে। (২) তিনি সাদকা দ্রব্য খাবেন না তো তিনি (৩) হাদিয়া গ্রহণ করবেন। আম্মুরীয়ার দ্বীনদার পাদ্রীর মৃত্যুর পর সালমান (রাঃ) পশুপালনে মনোযোগী হন। তিনি প্রচুর বকরী ও গাভীর মালিক হন।

এ সময় আরবের বালব গোত্রের একদল বণিক আম্মুরীয়া হয়ে স্বদেশ ভূমি আরবে প্রত্যাবর্তন করতেছিল।

তাদের গন্তব্যস্থানের খবর পেয়ে সালমান (রাঃ) তাকে তাদের সঙ্গে নেয়ার প্রস্তাব দিলেন এবং তার সকল বকরী গাভীগুলো এবং এমন কি তার শেষ কপর্দক পর্যন্ত দানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। বণিকদল সন্তষ্ট হয়ে সালমানের গাভী ও বকরীর পালসহ তাকে গ্রহণ করল। তাকে ভ্রমণ পথে খুবই আদর, যত্ন ও আপ্যায়ণ করল।

 কিন্তু ওয়াদি-উল কুরা নামক স্থানে এসে তারা স্বমূর্তীতে আবির্ভূত হল। তারা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর নিকট সালমানকে দাস হিসেবে বিক্রয় করে দিল। ওয়াদি-উল কুরা নামক স্থানটি ছিল মদীনা ও সিরিয়ার মধ্যবতী অঞ্চলে। আম্মুরীয়ার পাদ্রী সালমানকে নতুন নবীর হিজরতের স্থানের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন ওয়াদি-উল কুরায় সালমান সেরূপ স্থানের কিছু নমুনা পেলেন। দাস জীবন সত্বেও সন্তোষবোধ করতে লাগলেন এ আশায় যে, তিনি হয়তো নতুন নবীর আবির্ভাব স্থানের নিকটে এসে পৌছেছেন। সালমান (রাঃ) নিষ্ঠার সঙ্গে দাস হিসেবে এক নিষ্ঠুর ইয়াহুদীর সেবায় নিয়োজিত রইলেন বহুকাল।

সর্বশেষে এই ইয়াহুদী সালমানকে ইয়াসরিবের বনু কোরাইজা গোত্রের আরেকজন ইয়াহুদীর নিকট বিক্রয় করে দিল। সালমানের নতুন মালিক ছিল পূর্বতন ইয়াহুদীর আত্মীয়। নতুন মালিকের সঙ্গে সালমান (রাঃ) ইয়াসরিবে (মদীনায়) এসে পৌছলেন। মদীনার ভূ-প্রকৃতি দেখে সালমান (রাঃ) অত্যন্ত আনন্দিত ও অভিভূত হয়ে গেলেন। এ মরুদ্যানটি ছিল বহু ধরনের খেজুর এবং পামতাল বৃক্ষ শোভিত। এরূপ একটি নগরীর বর্ণনাই আম্মুরীয়ার বিশপ সালমান (রাঃ) দিয়েছিলেন।

এ স্থান সমন্ধে সালমান (রাঃ) বলেন “আল্লাহ্‌র কসম ! মদীনার ভূ-প্রকৃতি দেখিয়া আমি ইহা চিনতে পারিলাম। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মিল যে ইহাই সেই দেশ যাহার সম্পর্কে পাদ্রী আমাকে ধারণা দিয়াছিল”। (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৪- খণ্ড-২য় ভাগ, পৃঃ ৯৯)। এ সময়ে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) নবী হিসেবে মক্কায় আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ্‌র দ্বীন প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। এ খবর যদি সালমান (রাঃ) জানতে পারতেন, তবে দাসত্ব বন্ধন মুক্ত করে হয়তো মক্কায় চলে যেতেন।

কিন্ত দাসত্বের শৃঙ্খল এবং বোঝা এত মজবুত এবং ভয়াবহ ছিল যে, এ সম্পর্কে কোন কিছু অবহিত হওয়ার অবকাশ বা সুযোগ তার ছিল না।

মদীনায় সালমান রোঃ) তার ইয়াহুদী মালিকের খেজুর বাগানে পরিচর্যায় লিপ্ত হলেন। এর মধ্যে আল্লাহ্‌র রাসুল মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনার উপকষ্ঠে কুবায় তশরিফ এনেছেন ।

সুত্রঃ ক্রীতদাস থেকে সাহাবী

পরবর্তী গল্প
মহানবীর কুবায় আগমন

পূর্ববর্তী গল্প
ন্যায় বিচার

ক্যাটেগরী