শিশু বুজুর্গ | আমার কথা
×

 

 

শিশু বুজুর্গ

coSam ১৫৩


শায়েখ আবু আব্বাস মাস্রুক বলেন, বসরাতে এক ব্যক্তি তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিল। আমি লক্ষ্য করলাম লোকটি মাছ ধরে একটি পাত্রে রাখছে আর সেই শিশুটি তার অলক্ষে পাত্র হতে মাছ নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর লোকটি সে পাত্রের দিকে তাকিয়ে দেখল, তাতে একটি মাছ ও নেই। শিশুকে জিজ্ঞেস করলে সে বলল, আব্বাজান, আপনি কি জানেন না যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে মাছ আল্লাহর জিকির হতে গাফেল থাকে সেই মাছটিকেই বড়শিতে আটকায়। নাবালেগ শিশুর কচি মুখে আল্লাহর নবীর এ বাণী শুনে লোকটির চোখে পানি এসে পড়ল। সাথে সাথে সে মাছ ধরা বন্ধ করে বাড়িতে চলে গেল।

হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) রাতের অন্ধকারে মদিনার অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে জনগণের সুখ দুঃখের খোঁজ খবর নিতেন। এক রাতে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে এক গৃহের দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তিনি শুনতে পেলেন। ঘরের গৃহিণী তার শিশু কন্যাকে বলছে, ভোর হওয়ার আগেই দুধে পানি মিশিয়ে নাও। বালিকাটি উত্তর দিল, আম্মাজান! আপনি কি আমীরুল মুমিনীনের ঘোষণা শুনতে পাননি। সে জিজ্ঞেস করল খলীফা কি ঘোষণা দিয়েছেন? বালিকা বলল, খলীফা ঘোষণা করেছেন যদি কেউ দুধে পানি মিশায় তবে আইনতঃ তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। মাতা বলল, তুমি নির্ভয়ে পানি মিশাও, খলীফা তোমাকে দেখছেন না। বালিকা উত্তর দিল আল্লাহর কসম! আমি কখনো এরূপ অন্যায় করতে পারব না। কারণ খলীফা আমাদেরকে না দেখলেও আল্লাহ তায়ালা তো সবকিছু দেখছেন।

পরে বালিকার এ উত্তর শুনে হযরত ওমর (রাঃ) অত্যন্ত খুশী হলেন এবং পরবর্তীতে তিনি এই বালিকাকে নিজ বংশের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে দিলেন। এই বিদেশী বালিকার উদরেই হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজীজ জন্ম গ্রহণ করেন।

পরবর্তী গল্প
স্রষ্টার সাথে মিলনের আশায়

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত সাররী সাকতীর নামায

ক্যাটেগরী