শিয়ালের স্বপ্ন | আমার কথা
×

 

 

শিয়ালের স্বপ্ন

coSam ৮৭


বহুদিন আগের কথা। এক বনে ছিল এক চতুর শিয়াল। সে কোন এক ফাঁকে বাঘ কে মেরে হয়েছে বনের রাজা। এতে তার দাপট দেখে কে? রাজা হয়ে সে যেমন ইচ্ছে তেমন করেই বন রাজ্য চালাতে লাগল।

এতে যদিও কিছুদিন সে বীর বাহাদুরের মত চলছিল, কিন্তু পরবর্তীতে অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে রাজ্য চালানোতে বনের জন্তুরা উত্তেজিত হয়ে উঠল। পরিশেষে কিছু হিংস্র প্রাণী মিলে শিয়ালটাকে চিরতরে শেষ করে দিয়ে রাজা হওয়ার স্বাদ মিটিয়ে দিল।

শিয়ালটার ছিল একটা মেয়ে। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সে ভীষণ ভেঙ্গে পড়ল। এমন কি ভয়ে সে গর্ত থেকে বের হওয়া ত্যাগ করল। এভাবে কেটে গেল কয়েক মাস।

কিন্তু খেয়ে না খেয়ে কতদিন আর এভাবে চলে? তাই একদিন সে সাহস করে বেরিয়ে পড়ল গর্ত হতে। তারপর যেহেতু অন্য কোন প্রাণীর তার প্রতি আক্রোশ নেই,তাই সে বাহিরে বেরিয়ে এলে, কেউ তাকে কিছু বলল না।

এমন করে দু' একদিন ঘুরে ফিরে সে দেখল - বেশতো! কেউ তো তাকে কিছু বলে না! তখন তার মাথায় একটি বুদ্ধি এল। তাহলে বাবার মত আবার এ রাজ্যের ক্ষমতা নিতে হবে আমাকে। তারপর বাবা হত্যার প্রতিশোধ তো নিবোই, সাথে ক্ষমতার বলে ইচ্ছেমত যা পাবো, তা - ই খাবো।

ভাবতে দেরী হলেও মাঠে নামতে তার দেরী হল না। স্বগোত্রীয়দের সাথে পরামর্শ করে গাছের পাতায় সারা শরীর আবৃত করে একটা লাঠি ভেঙ্গে নিয়ে সাধু সন্যাসী সেজে সে অসংখ্য দুর্বল প্রাণীদের দ্বারে দ্বারে যেয়ে মায়া কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলল- আপনারা জানেন, আমার বাবা একজন ন্যায় নিষ্ঠাবান প্রাণী দরদী রাজা ছিলেন। তিনি কোন অন্যায় অবিচার সহ্য করতেন না। তাই বনের কিছু জুলুমবাজ প্রাণী আমার সরল -সোজা বাবাকে মেরে অন্যায়- অবিচার করার জন্য রাজ্যটা দখল করে নিয়েছে। আর আমাকে করেছে ইয়াতীম।

এরপর শিয়ালটা ফুলে উঠে বলল- কিন্তু আমি একা কোথায়? আপনারাই তো আমার সব। সুতরাং আপনারা আমার সহযোগী হলে, আমরা আবার এ রাজ্য ফিরে পাবো। তখন আমি বাবার স্বপ্নপূরণ করবো এবং আপনাদের সুখ-শান্তির  সকল ধরনের ব্যবস্থা নেব। বলুন,আপনারা কি আমাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত?

শিয়ালের কথায় ছোট-খাটো দুর্বল প্রাণীগুলো বলল- আমরা রাজী।

আর যায় কোথায় ? সকলের সমর্থন নিয়ে এক সময় শিয়ালটা কৌশলে আবার রাজ্যটা দখল করে নিলো। তারপর মনের মত করে বনরাজ্য পরিচালনা করতে লাগল।

ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকে সে এবং তার স্বগোত্রীয়রা অনেক দুর্বল প্রাণীকে খেয়ে সাবাড় করে ফেলল। এতে রাজ্যময় একটা অশান্তি সৃষ্টি হল। তখন গুটি কতক দুর্বল প্রাণী যারা ছিল, প্রাণ রক্ষার্থে বনের বড় বড় পশুদের কাছে যেয়ে কাতর কণ্ঠে অনুরোধ করে বলল- আপনারা আমাদের বাঁচান। নয়তো ভক্ষক রাণী শিয়াল ও তার স্বজাতিরা আমাদের খেয়ে ফেলবে। এ কথা শুনে পশুগুলো রাগত কণ্ঠে বলল- তোমাদের খেয়ে ফেলাই উচিত। কেন তোমরা তাকে ক্ষমতায় যেতে সহযোগিতা করলে?

তারা বলল - আমরা বুঝতে পারিনি যে, আমাদের দ্বারা কাজ সমাধা করে আবার আমাদেরকেই সে খাবে। তাই এবারের মত আমাদের রক্ষা করুন। আমরা আর এ রকম ভুল করবো না। পশুগুলো বলল -পরে তো তোমাদের সে কথা মনে থাকে না। তার মায়া কান্নায় এবং মনজুড়ানো ভাষণে গলে পড়ো। যা হোক, তোমরা যাও, আমরা দেখবো। তবে পরে নিমকহারামের মত ভুলে না যাও। তাই হবে বলে দুর্বল প্রাণীগুলো চলে গেল নিজেদের স্থানে। পরে বনের সমস্ত জন্তুমিলে শিয়াল গোষ্ঠীকে ধাওয়া করে ক্ষমতাহারা করল। আর ঘোষণা করল-ওদের আর ক্ষমতার মসনদে বসার সুযোগ দেয়া হবে না। তাই যেখানে ওদের পাওয়া যাবে, সেখানেই আক্রমণ করতে হবে।

এ সংবাদ শুনে সব শিয়াল পালিয়ে গেল। আর রাণী শিয়ালটা দূরে বসে আফসোস নিজ মাথার কেশ ছিড়তে লাগল এবং নতুন ফন্দি আঁটতে লাগল কিভাবে আবার ক্ষমতা পাওয়া যায়? কিন্তু ততক্ষণে হিংস্র পশুরা এসে তার ক্ষমতার স্বাদ চিরতরে মিটিয়ে দিল।

সূত্রঃ মুসলমানের হাসি  

পরবর্তী গল্প
পাট গাছ

পূর্ববর্তী গল্প
অতি লোভ

ক্যাটেগরী