শাহ সাহেবের মুরাকাবা

এক শহরের এক শাহ সাহেব আগমন করেছিলেন। তার অভ্যাস ছিল, যখনই কেউ তাকে দাওয়াত করতো তিনি মুরাকাবায় বসতেন। মুরাকাবা করার পর কাউকে বা বলে দিতেন, “আমি মুরাকাবায় দেখলাম, তোমার আমদানী হালাল নয়”। কাজেই দাওয়াত কবূল করতে পারছি না।”

আবার কাউকে বা বলতেন, “আমি মুরাকাবায় দেখলাম তোমার আমদানী হালাল”।

এর ফলে সারা শহরে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়লো যে শাহ সাহেব কখনও হারাম রোজগারের খাদ্য গ্রহন করেন না। মুরাকাবা করে সব অবগত হতে পারেন কার আমদানী করা খাদ্য কিরুপ। একজন খাঁটি বুযুর্গ এসেছেন এ শহরে!

কিন্তু কিছু লোক ছিল বেশ সতর্ক। তারা চিন্তা করলো শাহ সাহেবের মুরাকাবা পরীক্ষা করে দেখবে। কারণ এটাও তো হতে পারে যে তিনি শুধু মাত্র দাওয়াত প্রদানকারীর প্রকাশ্য হাব-ভাব দেখে অনুমান করে নেন যে এ লোকটি ধনী, সুতরাং ধনী লোকের আমদানীতে গড় বড় থাকে। আর এ লোকটি গরীব, সুতরাং গরীবের ঘরে খাটুনির খাদ্যকে হারাম বলে সন্দেহ করা যায় না। অতএব শাহ সাহেবকে পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।

এদদিন এ লোকগুলো এক বেশ্যার কাছে গিয়ে বললো, “তোমার রোজগারের কিছু টাকা থেকে কয়েক দিনের জন্যে আমাদেরকে কিছু টাকা ধার দাও”!

বেশ্যাটা তার সদ্য রোজগার করা কিছু টাকা তাদেরকে দিয়ে দিল।

তারা সে টাকা এক গরীব লোককে দিয়ে বললো, “এ টাকা দিয়ে ভাল করে খাবার আয়োজন করে শাহ সাহেবকে দাওয়াত কর”।

গরীব লোকটি ভালো ভালো খাবার রান্না করে শাহ সাহেবের কাছে গিয়ে বললো, “হুযূর, আজ আমার দাওয়াত কবূল করুন”।

শাহ সাহেব তার অভ্যাস অনুসারে মুরাকাবা করতে বসলেন।

মুরাকাবা শেষ হলে মাথা তুলে বললেন, সুবহানাল্লাহ! তোমার রোজগারে নূর দেখা যাচ্ছে! নিঃসন্দেহে এটা হালাল! তোমার দাওয়াত কবূল করলাম।

লোকগুলো বুঝতে পারলো শাহ সাহেবের মুরাকাবাটি ভূয়া। সুতরাং প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

অতঃপর যখন তিনি সে বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খেলেন তখন লোগগুলো বললো, শাহ সাহেব, আবার একটু মুরাকাবা করে দেখুন তো, যে খাবারগুলো খেলেন তা হালাল ছিল না হারাম ছিল?

শাহ সাহেব আবার মুরাকাবায় বসলেন। মুরাকাবা থেকে মাথা তুলে এবার বললেন, মাশা-আল্লাহ! এ খাবার একেবারে নূরে ভর্তী! এগুলো খেয়ে আমার দেমাগ তাজা হয়ে গেছে, চারদিকে শুধু নূর আর নূর দেখতে পাচ্ছি।

লোগগুলো আর বসে থাকতে পারলো না। জুতা খুলে মেরে দিল শাহ সাহেবের পিঠে। বেটা মিথ্যাবাদী, ধোকাবার-তোর মুরাকাবার ধরণ আমরা জেনে ফেলেছি। তুই আল্লাহর বান্দাদেরকে ধোকা দিয়ে বেড়াস? কত ধনী লোকের মনে কষ্ট দিয়েছিস? কত মানুষকে পেরেশান করেছিস? যে খাবারগুলো খেয়েছিস সেগুলো ছিল বেশ্যার রোজগার আর তুই সেগুলোতে নূর দেখতে পেয়েছিস?

সত্যি, পরীক্ষাটি খুব চমতকার ছিল। কিন্তু এরূপ পরীক্ষা করতে কয়জন পারে? অধিকাংশ লোকই এ সকল ধোকাবাজদের ধোকায় পড়ে দুনিয়া এবং আখেরাত উভয়ই বরবাদ করে দেয়।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।