শাহ সাহেবের প্রভাবে জ্বিনদের স্কুল ভবন এলাকা ত্যাগের কাহিনী | আমার কথা
×

 

 

শাহ সাহেবের প্রভাবে জ্বিনদের স্কুল ভবন এলাকা ত্যাগের কাহিনী

coSam ২০০


শাহীওয়াল জেলার এক মডেল স্কুলে একদল জ্বিন আস্তানা স্থাপন করেছিল। কোন বালক যদি ভুল করে স্কুলের আশেপাশে পেশাব করতো, তাহলে তারা সে বালকের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলতো। অনেক ছেলে রাতে বসে কাঁদতো। জ্বিনদের অত্যাচারে ছাত্র শিক্ষক সবাই সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতো। ছাত্রদের এ রকম দূরবস্থার কথা এক মুরিদের মাধ্যে শাহ সাহেব জানতে পারেন। মুরিদ এ সমস্যা সমাধানের জন্য শাহ সাহেবের হস্ত ক্ষেপ কামনা করে। শাহ সাহেব বলেন, ঠিক আছে আমি একদিন স্কুলে যাবো। আশাকরি আল্লাহ কল্যাণকর কোন পথ বের করে দেবেন।

একদিন হঠাৎ শাহ সাহেব স্কুলে এলেন। ছাত্ররা লেখাপড়া ব্যস্ত ছিল। মুরিদ গিয়ে প্রধান শিক্ষককে শাহ সাহেবের আসার কথা জানালো। প্রধান শিক্ষক ভয় পেয়ে বলল, আগে আমরা অনেক আলেম এনেছি কিন্তু এতে অত্যাচার আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। দয়া করে আপনি এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের জীবন আরো অতিষ্ঠ হয়। শাহ সাহেব বললেন, প্রথম কথা হচ্ছে আপনাদের অনুরোধ নয় আমি এসেছি নিজের ইচ্ছায়। যতো বিপদ হোক সমস্যা হোক আমার হবে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন এক সমান নয় তেমনি সব মানুষ এক রকম নয়। সব মানুষের বৈশিষ্ট   এক রকমের নয়। ইনশাল্লাহ আমি সব জ্বিনদের তখান থেকে বের করবো।

শাহ সাহেব স্কুলের সব ছাত্রকে একত্রিত করে বললেন, তোমরা আজ স্কুলে সব জায়গায় পেশাব করবে কোনো যায়গা বাকি রাখবে না। এতে ছাত্ররা রাজি হলো না কারণ আগে থেকেই ভয়ে ভেয় ছিল। তারা বলল, জ্বিন রাতে আমাদের ঘুমাতে দেয় না। শাহ সাহেব বললেন, আমি এখানে আছি। জ্বিনেরা জানে তোমরা কার আদেশে পেশাব করছো। যদি তারা ক্ষতি করে তবে প্রথমে আমার ক্ষতি করবে। শাহ সাহেবর কথা শুনে কয়েকজন ছাত্র পেশাব করতে রাজি হলো। ৫ জন ছাত্র পেশাব করতেই শাহ সাহেব তাঁদের নিষেধ করলেন। বললেন, কাজ হয়ে গেছে।

স্কুলে থাকা জ্বিনদের নেতা শাহ সাহেবের কাছে এসে অনুনয়  বিনয় করে বলল শাহ সাহেব এসব ছেলের সামনে আমাদেরকে অপমান করবেন না। শাহ সাহেব বলল, এতই যদি মান সম্মানের ভয়, তবে এ স্কুলে ভবন ছেড়ে তোমরা অন্য কোথাও চলে যাও। তারা কয়েকদিন সময় চাইল। এক পর্যায়ে বলল ৭দিনের মধ্যে আমরা এ জায়গা ছেড়ে চলে যাবো। আর কখনো এখানে আসব না। শাহ সাহেব এক ঘণ্টা সময় দিলেন। এক ঘন্টার মধ্যে তারা স্কুল ছেড়ে চলে গেল। শাহ সাহেব বললেন, কেউ যদি পথে ঘাটে বা বাড়িতে কোন ছাত্রের ক্ষতি করে, তবে তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।

এক ঘণ্টা পর শাহ সাহেব প্রধান শিক্ষককে বললেন, সব জ্বিন স্কুল ছেড়ে চলে গেছে। এখন থেকে ছেলেরা যেখানে ইচ্ছা পেশাব করতে পারবে। প্রধান শিক্ষক বললেন, জ্বিনদের অত্যাচার ছাত্রদের জন্য একটা পেশাবখানা তৈরি করতে পারি না। একদিন তৈরি করাই পরদিন সব ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। শাহ সাহেব বললেন, এখন যেখানে ইচ্ছা  পেশাবখানা লেট্রিন তৈরি করুন আর কোন সমস্যা নেই। জ্বিনদের সাথে শাহ সাহেবের কথা বলা অন্য কেউ শুনতে পায় নি জ্বিন্দের কথাও শাহ সাহেব ব্যতিত অন্য কেউ শুনতে পায় নি।

পরবর্তী গল্প
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ততা

পূর্ববর্তী গল্প
মিশরের বিখ্যাত কারী আবদুল বাছেতের মুখে শোনা কোরআনের প্রভাবের একটি অসাধারণ কাহিনী

ক্যাটেগরী