শত্রুর অনিষ্ট থেকে মুক্তিলাভ | আমার কথা
×

 

 

শত্রুর অনিষ্ট থেকে মুক্তিলাভ

coSam ১১৬


শায়েখ আবূ ইয়াজিদ (রঃ) বলেন, একবার আমরা কতিপয় ব্যক্তি ছফরে বের হলাম। আমাদের সাথে একজন নেককার গ্রাম্য লোকও ছিল। আমরা পথ চলতে চলতে একটি বিরাট পরিখার নিকট এসে উপস্থিত হলাম। ঐ বিশাল পরিখাটিতে অসংখ্য বড় বড় বৃক্ষ ছিল। আমদের সাথের সেই গ্রাম্য লোকটি প্রাচীন নিদর্শন দেখে অনেক কিছু বলতে পারত। সে পরিখার নিকট দাঁড়িয়ে বলল, এতে মানুষের অস্তিত্ব আছে। আমরা তাতে নেমে অপর প্রান্তের দিকে দ্রুত এগুতে লাগলাম। কিছুদুর যাবার পর তিনজন পরই তিনজন সসস্ত্র ব্যক্তি আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়াল। আমরা থমকে দাঁড়ালাম এবং চিন্তা করতে লাগলাম, এখন কি করা যায়? এমন সময় সে গ্রাম্য লোকটি সকলকে লক্ষ্য করে বলল তোমরা চিন্তা করছ? তোমরা কি আল্লাহ্‌র পথে বের হওনি? আমরা বললাম হ্যাঁ! সে বলল, যদি আল্লাহ্‌র পথে বের হয়ে থাক, তবে আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে আমার পেছনে পেছনে চল এবং কেউ ডানে-বামে ফিরে দেখবে না।

অতঃপর আমরা তার পেছনে পেছনে চললাম। আমরা যাত্রা করামাত্র ডাকাতরা পথের উপর হতে সরে আমাদের পাশাপাশি চলতে লাগল। কিন্তু কিছুক্ষণ পথ চলার পর তারা আমাদের পেছনে পড়ে গেল এবং আমরা সামনে এগিয়ে গেলাম। সাথীদের মধ্যে আমি ছিলাম সবার পেছনে। কিছুক্ষণ পর আমি পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ডকাতরা বর্শার অগ্রভাগ আমাদের দিকে তাক করে একেবারে আমাদের নিকটে চলে এসেছে। সাথে সাথে আমি সবাইকে সতর্ক করলাম, ডকাতরা আমাদেরকে ধরে ফেলেছে। এতক্ষণ গ্রাম্য লোকটি নিচের দিকে তাকিয়ে পথ চলছিল, আমার কথা শুনে সে পেছনের দিকে তাকিয়ে বলল,

হে আল্লাহ্‌! এই শয়তানের অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে রক্ষা কর। আমি তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, আমি এখন কি করব জান? সে বলল কি করবে? আমি বললাম, এখন চাশতের সময়। আর নফল নামায জামায়াতের সাথেও আদায় করা যায়। আমি এখন তোমাদেরকে নামায পড়াব এবং আল্লাহ্‌ চাহেতো এর বরকতে ডাকতরা দূরে সরে যাবে। লোকটি বলল, হে আবূ ইয়াজিদ! এ মূহুর্তে ডকাতদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আমি বললাম, যদি তুমি তার ব্যবস্থা করতে পার, তবে তো ভাল। সাথে সাথে দাঁড়িয়ে ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা ডাকাতদের প্রতি ইশারা করে বলল, সেখানে আছ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাক। তার এ কথা বলার সাথে সাথে ডকাতরা যে যেখানে ছিল সেখানেই পাথর হয়ে দাড়িয়ে রইল। কেউই এক চুল পরিমাণ নড়াচড়া করতে পারল না।

এবার আমরা আবার পথ চলতে শুরু করলাম। যখন আমরা নিরাপদ দূরত্বে  সরে এসে একটি গিরিপথে প্রবেশ করলাম তখন সেই গ্রাম্য লোকটি দূরে ডাকাতদের দিকে ইশারা করে বলল, দেখ ডাকাতরা এখনো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে, সে আরো বলল, আমি আল্লাহ্‌র শপথ করে বলছি, যদি আমাদের অন্তরে আল্লাহ্‌র ভয় না থাকতো তবে তাদেরকে এ অবস্থায় রেখেই চলে যেতাম। কিন্তু আমি কস্মিন কালেও এরূপ করব না, বরং আমি তাদের জন্য দোয়া করছি। আয় আল্লাহ্‌। ঐ ডাকাতদেরকে এ ঘটনা হতেই শিক্ষা গ্রহণ করে তওবা করার তাওফিক দান করুণ। অতঃপর সে ডাকাতদের প্রতি ইশারা করে বলল, যাও, তোমাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হল। আমরা স্পষ্ট দেখতে পেলাম, লোকটি একথা বলার সাথে সাথে ডাকাতরা মাটিতে বসে পরস্পরের সাথে কথা বলতে লাগল। অতঃপর যারা যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকে চলে গেল।

অপর এক ঘটনার বিবরণ দিয়ে আবুল আব্বাস ইবনে আরিফ (রঃ) বলেন, একদা আমি দেখতে পেলাম, এক মসজিদে এক বুজুর্গ ব্যক্তি বাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে আছেন। এ সময় এক ইঁদুর এসে বুজুর্গের জ্বলন্ত বাতি টেনে নিয়ে যেতে লাগল। বুজুর্গ ঘুম থেকে জেগে ইঁদুরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ফাসেক! তুমি আল্লাহ্‌র জমীনে এমন কাজ করছ যে, এর ফলে কোন দুর্ঘটনা ঘটালে অবশেষে আমাকেই দায়ী করা হবে।

বর্ণনাকারী বুজুর্গ বলেন, আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম, কিছুক্ষণ পর ইঁদুরটি পূনরায় সে বাতির নিকট এলে বুজুর্গ আবারো তাঁকে বাধা দিলেন। কিন্তু এবার বুজুর্গের বাধা উপেক্ষা করে ইঁদুর বাতি নিয়ে টানাটানি শুরু করলে বুজুর্গ ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠলেন হে ইঁদুর! তুমি ঐ বাতির আগুনে পতিত হও। সাথে সাথে ইঁদুরটি কুপির আগুনে পড়ে মৃত্যুবরণ করল।

পরবর্তী গল্প
দুই পাদ্রী ও এক মুসলমান

পূর্ববর্তী গল্প
এক মহিলা চোরের সংশোধন

ক্যাটেগরী