লোকমান হাকিম – পর্ব ৩

লোকমান হাকিম – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

(ঘ) একদিন মনীব হযরত লোকমান হাকীমকে একটি বকরী যবেহ করে সর্ব উৎকৃষ্ট দু’টুকরা গোশত ভুনা করে দিতে আদেশ করলেন। আদেশক্রমে হযরত লোকমান হাকীম একটি বকরী যবেহ করে জিহ্বা এবং দিল ভুনা করে মনীবকে খেতে দিলেন। মনীব তা তৃপ্তি সহকারে আহার করলেন। অন্য একদিন মনীব আদেশ করলেন, “হে লোকমান! আজ একটি বকরী যবেহ করে সর্ব নিকৃষ্ট দু’টুকরা গোশত আমাকে ভুনা করে এনে দাও। হযরত লোকমান হাকীম একটি বকরী যবেহ করে আজও সে জিহ্বা এবং গুর্ন্দাই ভুনা করে সর্বোৎকৃষ্ট এবং নিকৃষ্ট হতে পারে। হযরত লোকমান হাকিম জবাব দিলেন! যে কোন জীবের যবান এবং দিলই (অর্থাৎ গুর্দা) হল দেহের মধ্যে প্রধান বস্তু। যার যবান ও দিল এ দুটি বস্তুই সর্বোকৃষ্ট ও সর্ব নিকৃষ্ট। এ জন্যেই জীবকুল ভাল মন্দ দু’প্রকার হয়ে থাকে।

(ঙ) মনীব হযরত লোকমান নির্দেশ দিলেন অমুক ক্ষেতে তিল বপন কর।

আদেশানুসারে হযরত লোকমান হাকীম যব বপন করলেন। কিছু দিন পর মনীব ফসল দেখতে গিয়ে দেখলেন, তিলের পরিবর্তে সমস্ত জমিন গাছে পরিপূর্ণ। মনীব হযরত লোকমান হাকীমকে ধমক দিয়ে বলেন, কিহে! তোমাকে বলেছি তিল বপন করতে, আর তুমি বপন করেছ যব। এ খামখেয়ালীর জন্যে তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

হযরত লোকমান হাকীম উত্তরে দিলেন, জনাব! আমি জানতাম জমিনে যব বপন করলে তাতেই তিল হয়। তার কথা শুনে মুনীব হেসে বলেন, আমি তোমাকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেছিলাম, আসলে তোমার মত মূর্থ বোকা দ্বিতীয়টি নেই। যব গাছে তিল জন্মাবে কেমন করে? এ আশা করা তো অবান্তর, নেহায়েত বোকামী।

এবার হযরত লোকমান হাকীম বলেন, জনাব! আমার এরুপ আশা করার অন্যতম কারণ হল, আমি দেখেছি, আপনি অনবরত পাপের কাজই করে চলেছেন, আর মনে প্রভু, আল্লাহ থেকে কামনা করছেন সর্বোত্তম ফল বেহেশত। যদি আপনার জন্যে এ আশা পোষণ করা সম্ভব হয়, তবে যব বপন করে তিলের আশা করাটা অন্যায় হল কোথায়? মুহূর্তে মনীবের সমস্ত ভ্রান্তি দূর হল। তিনি হযরত লোকমান হাকীমের জ্ঞানের গভীরতা দেখে তখনই তাঁকে গোলামীর জিঞ্জির থেকে আজাদ করে দিলেন।

(চ) হযরত লোকমান হাকীমের সর্ব কনিষ্ট পুত্র আইকাকে স্বীয় ব্যবসা বাণিজ্যে সুনিপন করে গড়ে তোলার উদ্দেশে প্রথম তাঁকে এক বৈদেশিক ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা অর্থ আদায়ের জন্যে প্রেরণ করতে মনস্থ করলেন।

এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। অতএব, হযরত লোকমান হাকীম পুত্রকে ধর্ম সম্পর্কীয় কিছু হিদায়েত প্রদান করলেন, পবিত্র কোরআনের ভাষায়ঃ

অর্থঃ হে আমার প্রিয় পুত্র আল্লাহর সাথে শরীক করো না। (যেহেতু) শরীক বড়ই অন্যায়।

অর্থঃ হে আমার প্রিয় পুত্র! নামায কায়েক কর এবং মানুষকে নেক কাজের জন্যে আদেশ কর। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ কর। আর সর্বাবস্থায় ধৈর্যাবলম্বন কর, মানুষের দিকে অহঙ্কারীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। যমীনের উপর সগর্বভরে চলো না। নিশ্চয় আল্লাহ অহঙ্কারী ও বিলাসীদেরকে ভালবাসেন না।

লোকমান হাকিম – পর্ব ৪ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।