লোকমান হাকিম – পর্ব ২

লোকমান হাকিম – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

(গ) হযরত লোকমান হাকীমের অন্য এক বনি ইসরাঈল বংশীয় ধনী মনীব একদিন তার এক বন্ধুর সাথে নদীর তীরে বসে পাশা খেলা খেলতে শুরু করল। বাজীটি ছিল, খেলা সে পরাজিত হলে তাঁকে একশ্বাসে নদীর সমস্ত পানি পান করতে হবে। তাতে যদি সে অক্ষম হয়, তবে তার সমস্ত ধন-দম্পদ বিজয়ীকে দিতে হবে। অনেকক্ষন ধরে পাশা খেলা চলল।

শেষ পর্যন্ত হযরত লোকমান হাকীমের মনীবই পরাজিত হলেন। এখন বিজয়ী বন্ধু বলেন, হয় তুমি নদীর সমস্ত পানি পান কর, নতুবা তোমার সমস্ত ধন-সম্পদ আমাকে অর্পন কর। হযরত লোকমান হাকীমের মনীব খুবই চিন্তায় পড়ে গেলেন। কি করবেন স্থির করতে না পেরে অবশেষে বিজয়ী বন্ধু থেকে এ বলে সময় নিলেন যে, আগামীকাল আমি অবশ্যই তোমার সাথে প্রদত্ত ওয়াদা পূর্ণ করব। আজকের মত আমাকে সময় দাও। বিজয়ী বন্ধু বলেন, কাল যদি তা না কর, তবে অবশ্যই আমি শক্তি প্রয়োগ করে তোমার ধনসম্পদ হস্তগত করব।

হযরত লোকমান হাকীমের মনীব ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে রাতে না খেয়েই শুয়ে পড়লেন। সারারাত নিদ্রা এল না। পরদিন হযরত লোকমান হাকীমের মনীবের চেহারা দেখে বুঝতে পারলেন, নিশ্চয় মনীব কোন কঠিন দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তিনি মনীবকে বলেন, আপনার মনে কি অশান্তি রয়েছে, আমাকে খুলে বলুন। মনীব সমস্ত ঘটনা তার কাছে খুলে বলেন।

হযরত লোকমান হাকীম ঘটনা শুনে হেসে উঠে বলেন, এ সামান্য ব্যাপারে আপনি এত চিন্তিত কেন? দেখবেন, ইনশাআল্লাহ আমি অতি সহজে এর সুন্দর সমাধান করে দেব, যাতে আপনি বিপদ মুক্ত হয়ে যাবেন। হযরত লোকমান হাকীম যখন মনীবের সাথে এসব কথাবার্তায় রত, ঠিক সে মুহূর্ত তার লোভী বন্ধুটি এসে হাজির হল।

তাঁকে দেখে হযরত লোকমান হাকীম বলে উঠলেন, নদীর কিনারে উপস্থিত হয়ে হযরত লোকমান হাকীম মনীব বন্ধুকে লক্ষ্য করে বলেন, দেখুন! আমার মনীব এ নদীর সবটুকু পানি পান করার পূর্বে আপনাকে কয়েকটি কাজ করে দিতে হবেঃ

(১) গতকাল নদীর যে পানি পান করার জন্য বাজী হয়েছিল, স্রোতে সব পানি তখন অন্যত্র চলে গেছে, এখন ঐ বাজীকৃত পানিই আবার নদীতে এনে দেন, তখন আমার মনীব ঐ পানিই পান করে নিঃশেষ করবেন।

(২) আর যদি বলেন এখন যে আপনি আছে, তাই পান করতে হবে, তাহলে আপনি এখনই নদীর উভয় দিকের স্রোত বন্ধ করে দিন, যাতে এক ফোঁটা পানি আর নদীতে আসতে না পারে। তা না হলে কিয়ামত পর্যন্ত পানি পান করলেও তো নদীর পানি নিঃশেষ হবে না, কারণ যথই পানি পান করবে সদা বাহিত স্রোত নদী পূর্ণ করে দিবে ।

হযরত লোকমান হাকীমের এসব কথা শুনে মনীব বন্ধু ভীষন চিন্তায় পড়ে গেলেন, যার সমাধান সে কিছুতেই করতে পারবে না। এ দিকে সুক্ষ্ম বুদ্ধি দ্বারা মনীবের ধন-সম্পদ রক্ষা করায় মনীব সে মুহুর্তেই হযরত লোকমান হাকীমের গোলামী আজাদ করে দিলেন।

লোকমান হাকিম – পর্ব ৩ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।