লোকমান হাকিম – পর্ব ১

লোকমান হাকিম – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত লোকমান হাকীমের নির্ভরশীল কোন পরিচয় জানা যায় না। ইমাম মুহাম্মদ (র) এর বর্ণনায় এবং জামেউত্তাওয়ারীখ নামক গ্রন্থের বর্ণনায় যতদূর জানা যায় হযরত লোকমান এককালে ছিলেন হাবশী গোলাম। তার পিতার নাম ছিল বাউর। নওবা নামক এক জনপদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে তিনি শামদেশের এক ধনবান ব্যক্তির অধীনে গোলামী জীবন-যাপন করেন।

গোলামী জীবন থেকে আজাদ হয়ে হযরত লোকমান আল্লাহর অপার অনুগ্রহে অফুরন্ত শিক্ষা-দীক্ষা ও হিকমত অর্জন করেন। শামদেশে তার শিক্ষা ও হিকমতের অসংখ্য নজীর স্থাপন করে তিনি ফিলিস্তিন গমন করে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই জীবন-যাপন করেন এবং রমলাতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

অন্য এক বর্ণনায় জানা যায় লোকমান হাকিম ছিলেন হাবশী সম্প্রদায়ের লোক। তার বর্ণ ছিল কাল, দৈহিক গঠন ছিল অত্যন্ত মোটা এবং পদদ্বয় ছিল বেশি ভারী। তিনি প্রায় তিন হাজার বছর জিবীত ছিলেন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায় হযরত লোকমান হাকিম ছিলেন হযরত দাউদ (আঃ) এর যামানার লোক এবং হযরত দাউদ (আঃ) তার দ্বারা বহু উপকৃত হয়েছেন, একদিন হযরত দাউদ (আঃ) আগুনে বিগলিত না করেই লৌহ দ্বারা হাত দিয়েই একটি বর্ম তৈরি করে ফেলেন। এটা দেখে লোকমান হাকিম কিছুই বলেনি। কারণ তিনি নিজেই আল্লাহ প্রদত্ত ভাণ্ডার পরিণত হয়েছিল।

গোলামী জীবন-যাপন থেকে আজাদীর পর একদিন হযরত লোকমান শয্যায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, এমন সময় মহান আল্লাহ প্রেরিত একজন দূত এসে তাঁকে সালাম জানিয়ে বলেন, হে লোকমান! মহান আল্লাহ আপনাকে দুনিয়াতে বিরাট বাদশাহী দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একথা শুনে হযরত লোকমান বললেন, বাদশাহী করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। কারণ, জনসাধারণের যথোচিত ব্যবস্থা করতে না পারলে আল্লাহর দরবারে আমাকে লজ্জিত ও অপমানিত হতে হবে। আবার আল্লাহর পছন্দীনীয় শাসন ব্যবস্থা চালাতে গেলে আমি মানুষের কাছে অভিশাপের পাত্র হয়ে দাঁড়াব।

ফেরেশতা এ যুক্তিপূর্ণ কথা শুনে তার দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে বিদায় নিলেন। এর কিছুদিন পর আল্লাহ এলহামযোগে হযরত লোকমানকে জানালেন, হে লোকমান! আমি তোমাকে নবূয়ত ও হিকমত এর যে কোন একটির জন্যে নির্দিষ্ট করেছি। এখন তুমি এর কোনটি পছন্দ কর। নবূয়তের দায়িত্ব অত্যন্ত ভারী বিবেচনা করে হযরত লোকমান হিকমতই পছন্দ করে নিলেন। আর একরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হযরত লোকমানের বক্ষে আসমানী হেকমতের ভাণ্ডার প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হল। ফলে তাঁকে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট হাকীম তথা সুক্ষ্ম জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেচনা এবং বিচক্ষণতার বাদশাহ করা হল।

হযরত লোকমান হাকিমের রেখে যাওয়া লাখ লাখ জ্ঞানগর্ভ হিকমতের মধ্যে এখানে তার গোলামী জীবন থেকে আরম্ভ করে সামান্য কয়েকটির উদাহরণ উপস্থাপন করা হলঃ

(ক) একদিন লোকমান হাকীমের বাল্যবন্ধু তাঁকে জিজ্ঞেস করল, বন্ধু! কিভাবে তুমি এ মর্যদার অধিকারী হলে? হযরত লোকমান হাকিম জবাব দিলেন বিশেষ স্বভাবে আমি এটা মহান আল্লাহর কাছ থেকে লাভ করেছি।

(১) আমি কোন দিন মিথ্যা কথা বলিনি।

(২) কখনো আমি কারও আমানত খিয়ানত করিনি।

(৩) কারও সাথে আমি কখনও অযথা কথায় সময় বিনষ্ট করিনি।

(খ) হযরত লোকমান হাকীম তা মুনীবের দু’টি গোলাম ছিল। একদিন মুনীবের কিছু খাদ্য দ্রব্য অপর গোলাম চুরি করে খেয়ে ফেলেছে। মুনীব তখন উভয় গোলামকে সন্দেহ করতে লাগল। হযরত লোকমান হাকীম মুনীবকে পরামর্শ দিলেন যে, আপনি আমাদের উভয়কে গরম পানি পান করিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন, যে আপনার খাদ্য ভক্ষণ করছে, বমির সাথে তার মুখ দিয়ে এ খাদ্যর কিছু না কিছু অংশ অবশ্যই বের হয়ে আসবে। মনিব তাই করল, দেখা গেল দ্বিতীয় গোলামটির বমির সাথে সে খাদ্য দ্রব্যের কিছু অংশ বের হয়ে এসেছে। এ ঘটনায় মনীব হযরত লোকমান হাকীমের জ্ঞানের খুবই প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আজাদ করে দিলেন। এ ঘটনাটি হযরত লোকমান হাকীমের জীবনের প্রথম হিকমত।

লোকমান হাকিম – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।