রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবার | আমার কথা
×

 

 

রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবার

coSam ২১৬


হোদায়বিয়ার সন্ধির পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের শাসকদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে দূত মারফত পত্র প্রেরণ করেন। এ ধারায় রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবারে হযরত দেহইয়া কালবী (রাঃ)-কে ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত পত্রসহ পাঠান। এ সময় আবূ সুফিয়ান একটি কাফেলাসহ সিরিয়ায় অবস্থান করছিলেন।

হযরত দেহইয়া কালবী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর পত্র রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে হস্তান্তর করলে তিনি এ বিষয়ে আরও বেশি জানার জন্য আবূ সুফিয়ানকে দরবারে ডেকে পাঠান। রোম সম্রাট আবূ সুফিয়ানকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সম্পর্কে যতটি প্রশ্ন করে, সে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে সত্য রাসূল, আবূ সুফিয়ানের কথাবার্তা থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। আবূ সুফিয়ান রোম সম্রাটের বিশ্বাস নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মি'রাজের ঘটনা উত্থাপন করে। তখন দরবারে উপস্থিত প্রাদ্রী বলে উঠল- আলোচ্য রাতের ঘটনা সম্পর্কে আমি সবিশেষ অবগত আছি।

প্রতি রাতেই আমি মসজিদের সব দরজা বন্ধ করে শুতে যেতাম। ঘটনার রাতে বহু চেষ্টা করেও আমি মসজিদের একটি দরজা বন্ধ করতে পারিনি। মনে হল যেন কেউ ভারী কিছু চাপা দিয়ে রেখেছে। যে, জন্য দরজা নাড়ান সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ দিন থেকে মসজিদের বাইরে একটি বন্ধ কড়া ছিল। সকালে কাড়াটিতে ছিদ্র এবং আশপাশে জানোয়ার বাধার চিহ্ন দেখতে পেলাম। আমি লোকজনকে বললাম, নিশ্চয়ই কোন নবীর জন্য মসজিদের দরজা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তাই শত চেষ্টা সত্ত্বেও দরজা বন্ধ করা হয়নি। কাজেই প্রতীয়মান হয়, এ রাতে তিনিই এখানে আগমণ করেছেন এবং নামায পড়ছেন। পাদ্রীর কথা শুনে সম্রাট উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন- হে লোক সকল! হযরত ঈসা (আঃ) এর পরে যে রাসূলের কথা তোমরা শুনছিলে, ইনিই সে রাসূল। আলোচনা ঘটনার মধ্যদিয়ে মি'রাজের ঘটনার প্রতিপন্ন হয়।

পরবর্তী গল্প
রোমের বাদশাহর সিদ্ধান্ত

পূর্ববর্তী গল্প
পারস্য রাজের দরবারে ইসলামের দাওয়াতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর

ক্যাটেগরী