রোমের বাদশাহর সিদ্ধান্ত | আমার কথা
×

 

 

রোমের বাদশাহর সিদ্ধান্ত

coSam ১৩৫


আবূ সুফিয়ানের সাথে কথোপকথনের পর রোম কায়সার মক্কাবাসীদের লক্ষ্য করে বলেন দেখ, আমি প্রথমেই তোমাদের নুবূয়তের দাবীদার লোকটির বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি, তোমরা জানালে তিনি আরবের সম্ভ্রান্ত উচ্চ বংশজাত। নবী রাসূল ও মহাপুরুষরা চিরকালই উচ্চ এবং সম্ভ্রান্ত বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।

তোমরা বলেছ, তাঁর পূর্বপুরুষরা কেউ রাজা ছিল না। এমন হলে হয়ত বলা যেত পূর্বপুরুষের রাজ্য উদ্ধারের জন্য তিনি নবুয়ত দাবীর আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, কাজেই এ ধরনের সন্দেহ করাও হবে অমূলক। তোমরা বলেছ, তাঁর পূর্বে কেউ এমন কথা বলেনি বা এমন দাবী করেনি। তাই তিনি অন্যের অনুকরণে নবূয়তের দাবী উত্থাপন করেছেন, এমন মন্তব্য করারও সুযোগ নেই। তোমরা বলেছ গরীব দুঃখী নিঃস্ব এবং নব্য যুবক শ্রেণীই তাঁর ভক্ত অনুসারী, নবী রাসূলদের বেলায় চিরকাল এমনটাই হয়ে আসছে,

তোমরা ষ্পষ্টই স্বীকার করেছ নবুয়তের দাবীদার ব্যক্তি জীবনে কখনও মিথ্যা বলেনি। সুতরাং চিন্তার বিষয় যে লোক জীবনে কখনও মানুষের সাথে মিথ্যা বলেনি, সে কেমন করে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলবে। তোমরা স্বীকার করেছ, কেউই তাঁর দ্বীন ত্যাগ করে ফিরে আসে না, মনে রেখ, এটা সত্য দ্বীনের মহিমা মাহাত্মই বটে।

ঈমানের মহানন্দ একবার অন্তরের অন্তস্থলে প্রবেশ করলে এমনটাই হয়ে থাকে। তোমরা বলছ যুদ্ধবিগ্রহে তাঁর হয় পরাজয় দুই হয়ে থাকে। এটা নবী রাসূলের পরীক্ষা। তোমরা বলছ, তিনি জীবনে কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেননি, এটা নবীরাসূলেরই পরিচয়বাহী নিদর্শন। নবী রাসূলরা কখনো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন না। তোমরা বলছ, তিনি নামায, যাকাত, সচ্চরিত্রতা, আত্মীয়বর্গের সাহে সদ্ব্যবহার সদাচারের শিক্ষা দেন।

তবে জেনে রাখ তোমাদের এ কথাগুলো সত্যই হয়ে থাকলে আলোচ্য নবুয়তের দাবীদার আল্লাহর রাসূল-যীশু (ঈসা) প্রতিশ্রুতি ভাববাদী। আমিও তাঁর জন্য প্রতীক্ষ্যমানই ছিলাম। তবে তিনি যে তোমাদের দেহস আরবে আবির্ভূত হবেন তা ভাবতে পারিনি। সাধ্যে কুলালে সর্বপ্রকার কষ্ট ক্লেশ করে আমি তাঁর সমীপে উপস্থিত হতাম এবং তাঁর পা ধুয়ে দিয়ে ধন্য হতাম।

সিংহাসনে এবং সাম্রাজ্য তাঁর করতলগত হবে। এর পর সম্রাটের আদেশক্রমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পত্র উড়ে উপস্থিত সকলে শুনান হয়।

আবূ সুফিয়ান বলেন, মুহাম্মদের পত্র পঠিত হলে দরবারে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাই তাঁদের মাঝে কথাবার্তা কিছুই বুঝতে পারিনি। তখন সম্রাটের আদেশক্রমে আমরা দরবার হতে বের হই। সে দিনই আমার সুদৃঢ় আস্থা জন্মেছিল, মুহাম্মদকে জগতে আর কেউ বাধা দিয়ে রাখতে পারবে না, তিনি অবশ্য জয়ী হবে।

পরবর্তী গল্প
ক্বাযা ওমরাহ আদায়

পূর্ববর্তী গল্প
রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবার

ক্যাটেগরী