রূহ কবজের পদ্ধতি | আমার কথা
×

 

 

রূহ কবজের পদ্ধতি

coSam ১৯


 রূহ কবজ করা একটি ভয়নক কাজ। এ কাজে মালাকুল মউত নিয়ােজিত। হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, মুকাতিল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আল্লাহু তা'আলা আজরাঈল (আঃ) এর জন্য সপ্তম আসমানে, কোন কোন বর্ণনায় এসেছে চতুর্থ আসমানে সত্তর হাজার খুটির উপর নূরের একটি সিংহাসন তৈরি করেছেন।

তার শরীরে চারটি পাখা সারা শরীরে সকল প্রাণির সংখ্যানুপাতে চোখ ও জিহ্বা রয়েছে। হাদীসের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন : মালকুল মউতের ডানে, বামে, উপরে, নীচে এবং সামনে ও পেছনে ছয়টি মুখ রয়েছে। উপস্থিত সাহাবাগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সা.! ছয়টি মুখ কেন? রাসূলুল্লাহ সা, বললেন : ডান পাশের মুখ দিয়ে পাশ্চাত্যের আর বাম পাশের মুখ দিয়ে প্রাচ্যের,

পেছনের মুখ দিয়ে পাপী দের আর উপরের মুখ দিয়ে আকাশবাসীর এবং নীচের মুখ দিয়ে দৈত্য-দানবের রূহ কবজ করেন।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ), আরাে বলেন : আজরাঈলের চারটি মুখ রয়েছে। মাথার উপরের মুখ দ্বারা নবী ও ফেরেশতাদের আত্মা, সামনের মুখ দ্বারা মুমিন বান্দাদের আত্মা, সামনের মুখ দিয়ে মু'মিনের, পেছনের মুখ দ্বারা দোযখীদের এবং পদতলস্থ মুখ দৈত্য-দানব, জ্বিন ও শয়তানের আত্মা কবজ করে থাকেন।  

তার একটি পা দোযখের উপস্থিত পুলসিরাতের উপর অপরটি জান্নাতে অবস্থিত সিংহাসনের উপর।” হাদীসের অপর এক নির্ভরযােগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আজরাঈলের দেহ এত বড় যে, পৃথিবীর সকল নদী-নালা, সাগর-সমুদ্রের সব পানিও যদি তার মাথায় ঢেলে দেয়া হয়, তবুও এক ফোটা পানি মাটিতে গড়িয়ে পড়বে না। তার সামনে পৃথিবীর আত্মসমূহ এতই ছােট, যেন বিভিন্ন খাদ্যে পরিপূর্ণ একটি থালা। 

তার সামনে রেখে দেয়া হয়েছে এমন আর তিনি যেখান থেকে যা এবং যতটুকু ইচ্ছা খেতে পারেন। প্রখ্যাত সাহাবী কা'ব (রাঃ)  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আল্লাহু তা'আলা স্বীয় আরশের নিচে একটি বৃক্ষ সৃষ্টি করে রেখেছে। উক্ত বৃক্ষে জীবিত মানুষের সংখ্যানুপাতে পাতা সৃষ্টি করে রেখেছেন। তার প্রত্যেকটি পাতায় মানুষের নামসমূহ আলাদাভাবে লিখে রেখেছেন। যে সময় যে মানুষের হায়াত শেষ। অবস্থায় পৌছানাের চল্লিশ দিন বাকী থাকে, তখন সে বৃক্ষ থেকে উক্ত লােকের নাম ও ঠিকানা লিখিত পাতাটি মালাকুল মউতের সামনে পড়ে যায়। সাথে সাথে মালাকুল মউত অনুভব করেন যে, অমুক ব্যক্তির রূহ কবজ করার আর মাত্র চল্লিশ দিন বাকি রয়েছে। তখন হতে মালাকুল মউত এ ব্যক্তির রূহ কবজ করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

 কাজেই ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর চল্লিশ দিন পূর্বেই তাঁর মৃত্যুর খবর আসমানে প্রচারিত হতে থাকে। যদি ঐ লােকটি পৃথিবীতে চিন্তাহীনভাবে আরাম আয়েসের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে, তার জন্য আফসােস! মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তি কিংবা পৃথিবীর অন্য কোন মানুষের পক্ষেও তা অনুধাবন করা সম্ভব নয় যে, সে আর কতদিন পৃথিবীতে বসবাস করার সুযােগ অর্জন করবে। এ ছাড়া ঐ লােকটি চল্লিশ দিন পর্যন্ত যে, কত অপরাধের কাজে লিপ্ত হবে, তার হিসাব কে রাখবে? ঐ ব্যক্তি নিজেও জানে না যে, তার মৃত্যু আসন্ন, সে কী করছে, কোথায় তার গন্ত ব্য স্থান, হয়তাে বা ঐ সময়ের মধ্যে সে সমস্ত অপরাধের কাজ করে ফেলেছে। 

বিভিন্ন প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযােগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মালাকুল মউতের অনেক সাহায্যকারী ফেরেশতা রয়েছে, তারা মালাকুল মউতের পক্ষ হয়ে মানুষের রূহ কবজ করে থাকেন। হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, সকল প্রকার চতুষ্পদ জন্তু জানােয়ার আল্লাহ্ তা'আলার যিকিরে সর্বদা নিয়ােজিত থাকে। যে সকল চতুষ্পদ জানােয়ার যখনই আল্লাহ্ তা'আলার যিকির হতে বিরত থাকবে, সাথে সাথে আল্লাহ্ তা'আলা ঐ সকল চতুষ্পদ জানােয়ারকে জান কবজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন।

পরবর্তী গল্প
প্রত্যেক প্রাণির রূহ কবজ করার নির্ধারিত স্থান

পূর্ববর্তী গল্প
শবে বরাত-এর আমলসমূহ

ক্যাটেগরী