রিসালাত – শেষ পর্ব | আমার কথা
×

 

 

রিসালাত – শেষ পর্ব

coSam ১৩৩


রিসালাত – তৃতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যেমন হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর যুগে তথাকার লোকজন প্রত্যকটি নক্ষত্রকে এক একটি দেবতা বলে জানত। তন্মধ্যে সূর্যকে সবচেয়ে বড় দেবতা বলে মনে করত। কেননা, সূর্যে আলো এবং তাপ উভয় রয়েছে। আর পৃথিবীতে অগ্নিকে সূর্যের বিকল্প ধারণা করে তারা অগ্নি পূজা করত। সুতরাং অগ্নি তাদের কাছে মূল জিনিস। হযরত ইবরাহিম (আঃ)-কে অগ্নিতে নিক্ষেপের ঘটনার মাধ্যমে তাদেরকে প্রদর্শন করালেন যে তাদের কাছে সর্বাধিক প্রভাবশালী বস্তু অগ্নিও হযরত ইবরাহিম (আঃ)-এর কাছে প্রভাবহীন ও কর্মহীন। বরং অগ্নি সেখানে হযরত ইবরাহিম (আঃ)-কে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেয়ার কথা সেখানে তাকে পরম শান্তিতে অবস্থান করার ব্যবস্থা করে দিল। অগ্নি হতে অক্ষত দেহে বের হয়ে তিনি ঘোষণা করলেন তার জীবনের পরম শান্তি তিনি আগুনের ভিতর পেয়েছেন। এত অধিক শান্তি আর কখনও পাননি। সমস্ত দুনিয়া তাঁর ঘোষণা শুনে স্তম্ভিত।

তদ্রূপ হযরত মূসা (আঃ)-এর যুগে মিশরবাসী যাদুকর বিদ্যায় তারা নিজেদেরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত। আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আঃ)-কে এমন এক মোজেজা দান করলেন যা মিশরের সত্তর হাজার সেরা যাদুকরের যাদুকরীর সমস্ত উপকরণ গিলে নিঃশেষ করে ফেলল হযরত ঈসা (আঃ)-এর যুগে পদার্থবিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের চর্চা খুব বেশী হচ্ছিল। এমনকি তাদের এমনও চিকিৎসক ছিল যারা দাবী করত যে, রোগের এ ঔষধ। এটা ব্যতীত অন্য কোন ঔষধ হতেই পারে না। তারা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিজেদেরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করত। আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আঃ)-কে অনুরূপ মোজেজা দান করলেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তারা যতই উন্নতির কথা বলুক না কেন জন্মাদ্ধ ভাল করার এবং মৃত মানুষকে জীবিত করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। আল্লাহ পাক হযরত ঈসা (আঃ)-কে উভয় ক্ষমতা দান করলেন। তদুপরি তিনি বিনা ঔষধেই এটা করতেন এ জন্য তার মুখের কথাই যথেষ্ট। তারা হযরত ঈসা (আঃ)-এর কার্য দেখে হতবাক। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের উন্নতির দর্প ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।

কিন্তু এরপর ও এ হতভাগ্য সম্প্রদায় তাঁর আহবানে সাড়া দিল না। তারা নিদর্শনসমূহ দেখে অবজ্ঞার সুরে অস্বীকার করল তাকে প্রকাশ্য যাদুকর বলে অপবাদ দিতে থাকল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

فَلَمَّا جَاءَهُم بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَـٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ

অর্থঃ অতঃপর যখন তিনি নিদর্শনসমূহ নিয়ে তাদের কাছে আসলেন তখন তারা বলল যে, এটা তো সুস্পষ্ট যাদুকরী প্রভাব। (সূরা সাফঃ আয়াত-৬)

রিসালাত – প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
হযরত যাকারিয়া (আঃ) - পর্ব ১

পূর্ববর্তী গল্প
রিসালাত – পর্ব ৩

ক্যাটেগরী