রিসালাত – পর্ব ১ | আমার কথা
×

 

 

রিসালাত – পর্ব ১

coSam ১১৪


রিসালাত – শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মের পূর্বে বনী ইসরাইলীরা এমন কোন খারাপ কাজ ছিল না যাতে তারা লিপ্ত হয়নি। ঈমানী ও আমলী উভয় ধরণের গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার কেন্দ্র করেনি। বনী ইসরাইলীরা। এমনকি তারা তাদের প্রতি প্রেরিত নবীদের হত্যা করতেও দ্বিধা করেনি। এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল হযরত ঈসা (আঃ)-এর নবুয়ত লাভের সামান্য কিছু সময় পূর্বে।

তার নবুয়ত লাভের পূর্বে ইহুদীরা শিরকী কুপ্রথা তাদের দ্বীন ও মাযহাবের অংশ বলে গণ্য করত। ধোকাবাজি, হিংসা, বিদ্বেষ; দুশমনি প্রভৃতি অপকর্ম করে নিজকে লজ্জিত তো মনে করতই না বরং এসব কাজ করতে নিজকে গৌরবান্বিত ও ধন্য মনে করত। তাদের আলেম ও পাদ্রীরা জাগতিক লোভলালসার বসবর্তী হয়ে আল্লাহর কিতাব পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলেছিল। তাদের অবস্থা এমন ন্যাক্কারজনক ছিল যে, তারা অর্থের বিনিময়ে হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল পর্যন্ত করতে কোন ত্রুটি করত না।

এমনি এক অন্ধকারচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে হযরত ঈসা (আঃ)-এর আগমন ঘটে। তিনি এসেই ঘোষণা করে দিলেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল। সাথে সাথে পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গেল। তিনি ইহুদীদের পাদ্রী সাধারণ লোক, এমন কি সম্রাটের কাছে পর্যন্ত সত্যের পয়গাম শুনাতে থাকেন। তিনি সর্বসাধারণকে বলেন- হে মানুষ! আল্লাহ আমাকে রাসূল হিসেবে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। তোমাদের হিদায়েত এবং তোমাদের সেবা করার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছে। আমি মহান রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য আলো নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। তোমাদের সামনে আল্লাহ পাকের বিধান সম্বলিত কিতাব তৌরাত রয়েছে। তোমরা নিজেদের অপকর্মের কারণে তা পিছনে ফেলে দিয়েছে।

সে গ্রন্থস্থিত বাণী পরিত্যাগ করেছে। আমি সে গ্রন্থের সত্যতা প্রতিপাদন করছি। আর এর সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ইঞ্জিল সহ আগমন করেছি। এ কিতাব হক ও বাতিলের মধ্যে ফয়সালা করবে। মিথ্যা ও সত্যের পার্থক্য করবে। আমি যা বলছি মনোযোগ দিয়ে শুন!

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর। দ্বীন ও দুনিয়ার কামিয়াবীর এটাই একমাত্র পন্থা। কিন্তু তারা হযরত ঈসা (আঃ)-এর আহবানে সারা দেয়নি। বরং তাকে যাদুকর বলে অপবাদ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِن بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ ۖ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ۗ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ

অর্থঃ এবং নিঃসন্দেহে আমি মূসাকে কিতাব দান করেছি এবং তার পিছনে রাসূলদের প্রেরণ করেছি। ঈসা ইবনে মারইয়ামকে উজ্জ্বল মোজেজা দান করেছি এবং তাকে পবিত্র আত্মা (জিবরাইল) দ্বারা সাহায্য করেছি। তবে কি যখন তোমাদের কাছে আল্লাহর কোন রাসূল এমন সব আহকামসহ আগমন করেছিলেন যা পালন করতে তোমাদের অন্তর চায় না তখন তো তোমরা অহংকার করেছিলে। তারা এও বলত যে, আমাদের অন্তরে পর্দাবৃত এবং কুফরী করার কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি লানত করেছেন। এজন্য তাদের কম লোক ঈমান এনেছে। (সূরা বাকারাঃ আয়াত-৮৭-৮৮)

রিসালাত – পর্ব ২ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
রিসালাত – পর্ব ২

পূর্ববর্তী গল্প
হযরত লোকমান হাকীম সম্পর্কে কোরআনুল কারীম

ক্যাটেগরী