রাসূল (সাঃ)-কে বিষপ্রয়োগে হত্যার প্রচেষ্টা | আমার কথা
×

 

 

রাসূল (সাঃ)-কে বিষপ্রয়োগে হত্যার প্রচেষ্টা

coSam ১৬৭


দীর্ঘ ২১ দিন অবরোধ করে রাখার পর ইহুদীদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে খায়বার অবরোধের অবসান হয়। মুসলমানরা বিজয় লাভ করে। মুসলমানদের খায়বার বিজয়ের পর ইহুদীরা বশ্যতা স্বীকার করলেও কোন কোন ব্যক্তি মুসলমানদের ক্ষতি এমনকি রাসূল (সাঃ)-এর প্রাণনাশের প্রচেষ্টায়ও তৎপর ছিল।

ইহুদী বীর মারহাবের ভাই সালামের এক স্ত্রীর নাম ছিল জয়নব।সে হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছিল। কিন্তু সে তার অন্তরের জ্বালা চেপে রেখে বাইরে ভাল মানুষের বেশ ধারণ করেছিল। একদিন সে বকরীর গোশত রান্না করে রাসূল (সাঃ) তাঁর কতিপয় সাহাবীকে আপ্যায়নের জন্য দাওয়াত করল। এ মহিলা গোশতের সাথে ভয়ঙ্কর বিষ মিশিয়ে রেখেছিল। সৌহার্দ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার খাতিরে রাসূল (সাঃ) তাঁর কতিপয় সহচরসহ এ মহিলার গৃহে দাওয়াত রক্ষার জন্য উপস্থিত হলেন। তাঁদের সামনে খানা পেশ করা হল। রাসূল (সাঃ) এক টুকরা গোশত উঠিয়ে মুখে দিলেন।

সাথে সাথে গোশতের টুকরাটা বলে উঠল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার সাথে বিষ মিশ্রিত আছে, আপনি আমাকে ভক্ষণ করবেন না। রাসূল (সাঃ) তৎক্ষণাৎ টুকরাটি ফেলে দিলেন এবং সাথে সাথে সাহাবীদেরকে এ গোশত খেতে নিষেধ করলেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ জনৈক সাহাবী পূর্বেই কিছু গোশত আহার করে ফেললে বিষক্রিয়ায় তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।

অতঃপর এ মহিলাকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করা হল, তুমি এ গোশত বিষ মিশিয়ে খেতে দিলে কেন? মহিলা বলল, তা আপনি কি করে বুঝতে পারলেন? রাসূল (সাঃ) বলেন, আমার সম্মুখস্থ গোশতই তা বলে দিল। এবার মহিলা বলল, আপনি সত্য নবী কিনা তাহা পরীক্ষা করে দেখার জন্যই আমি এরূপ করেছিলাম। এখন বুঝতে পারলাম আপনি সত্যিই আল্লাহর নবী। ইহুদী রমণী রাসূল (সাঃ)-এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল। রাসূল (সাঃ) ব্যক্তিগতভাবে তাকে ক্ষমা করলেও যেহেতু সে গোশত ইচ্ছাকৃতভাবে বিষপ্রয়োগ করেছে এবং জনৈক এ নিরাপরাধ সাহাবী তা ভক্ষণ করে মৃতুবরণ করেছেন, তাই এ গুরুতর অপরাধের জন্য এ মহিলাকে প্রাণদণ্ডের আদেশ দান করা হল।

পরবর্তী গল্প
খাইবারের যুদ্ধ

পূর্ববর্তী গল্প
খায়বার অভিযানের সময় মক্কাবাসীদের মনোভাব

ক্যাটেগরী