রাসূলে আকরাম (সাঃ) এর জন্য আবাস নির্মাণ | আমার কথা
×

 

 

রাসূলে আকরাম (সাঃ) এর জন্য আবাস নির্মাণ

coSam ১৩৬


মসজিদে নববীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় মসজিদ সংলগ্ন স্থানেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পরিবার পরিজনের বাসস্থান হিসেবে কয়েকটি ছোট ছোট কামরা নির্মিত হয়। ইতোমধ্যে তিনি স্বীয় পরিবারবর্গকে নিয়ে আসার নিমিত্তে হযরত যায়দ বিন হারেসা (রাঃ) কে মক্কা শরীফে পাঠান। হযরত ফাতেমা (রাঃ) তখনও অবিবাহিতা। রোকাইয়া স্বামী হযরত ওসমান (রাঃ) এর সাথে আবিসিনিয়ায় অবস্থান করছেন। যয়নবকে তাঁর স্বামী আবূল আস আসতে দেয়নি। কেননা, তখনও আবূল আ'স ইসলাম গ্রহণ করেনি।

হযরত আয়েশা (রাঃ) এর আগেই তাঁর ভাইয়ের সাথে মদীনায় চলে এসেছিলেন।

মদীনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদ নির্মাণ, মুহাজিরদের বাসস্থান ও রুজি রোজগারের সমস্যা প্রভৃতির সমাধানের পর তিনি দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও কল্যাণের প্রতি মনোনিবেশ করেন। মদীনা নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখেও দেশের সেবায় এক কেন্দ্রে সমাবেশিত হতে পারে- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-ই দুনিয়ায় সর্বপ্রথম এ আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি মদীনার ইহুদী, পৌত্তলিক ও মুসলমানদেরকে একত্র করে এক সনদ লিপিবদ্ধ করেন এবং মদীনায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন গোত্রের বিক্ষিপ্ত জনমন্ডলীকে নিয়ে এক সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। লিখিত প্রতিজ্ঞা পত্রের ধারয়া সমূহ নিম্নে প্রদত্ত হল-

১। ইহুদীরাও মুসলমানদের সাথে এক উম্মত বা জাতি।

২। এ সনদের অন্তর্ভুক্ত কোন সম্প্রদায় শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে সকলে তা প্রতিহত করবে।

৩। এ সনদের অন্তর্ভুক্ত সম্প্রদায়ের কেউ কুরাইশদের সাথে গোপন সন্ধি সূত্রে আবদ্ধ হবে না, কেউ তাদের কোন লোককে আশ্রয় দিবে না, তাদের সকল সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজেদের যুদ্ধ ব্যয় বহন করবে।

৫। ইহুদী মুসলমানসহ সকল সম্প্রদায় স্বাধীনভাবে যার যার ধর্ম পালন করবে। কেউ কারো ধর্মীয় স্বাধীনতার হস্তেক্ষেপ করবে না।

৬। কোন অমুসলমানের অপরাধ তার ব্যক্তিগত অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। ব্যক্তির অপরাধের জন্য তার জাতি সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করা যাবে না।

৭। মুসলমানরা সাধারণতন্ত্রের অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি সর্বদা সদাচরণ ও স্নেহ পূর্ণ আচরণ করবে, তাদের মঙ্গলের চেষ্টা করবে। কোন প্রকারে তাদের অনিষ্টের সংকল্প পোষণ করবে না।

৮। উতপীড়িতকে রক্ষা করবে।

৯। প্রত্যেক সম্প্রদায়ই নিজেদের স্বত্ত্বাধিকারের মর্যাদা রক্ষা করবে।

১০। আজ হতে মদীনায় নরহত্যা বা রক্তপাত হারাম বলে গণ্য হবে।

১১। রক্তপণ পূর্ববত বহাল থাকবে।

১২। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এ নব প্রতিষ্ঠিত সাধারণতন্ত্রের প্রধান নির্বাচিত হবেন। সাধারণভাবে যেসব কলহ বিবাদের সমাধান সম্ভব নয়, তা তাঁর উপর ন্যস্ত হবে। আল্লাহর বিধানমতে তিনি সেসবের সমাধান করবেন।

১৩। আল্লাহর নামে এ এক চিরস্থায়ী প্রতিজ্ঞা, যে বা যারা এ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পত।

ধর্ম-বর্ণ বংশ নিয়ে মদীনাবাসীর মধ্যে যাতে কখনও আত্নকলহ বা গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত না ঘটে, পূর্বের ন্যায় রক্তপাত ঘটিয়ে যাতে দেশের মাটি কলংকিত করা না হয়, কুরাইশরা যাতে মদীনা আক্রমণের সুযোগ না পায়, সে উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ সনদপত্র তৈরী করেন। পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিবাসী এবং মক্কা মদীনার মধ্যবর্তী বিভিন্ন সম্প্রদায়কে উল্লিখিত সনদে স্বাক্ষর করতে উদবুদ্ধ করা হয়। ভাবী যুদ্ধ বিগ্রহের পথ যাতে রুদ্ধ হয়ে যায় তজ্জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) চেষ্টার কোন প্রকার ত্রুটি করেন নি।

পরবর্তী গল্প
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ইহুদীদের তর্ক

পূর্ববর্তী গল্প
আশুরার রোযা

ক্যাটেগরী