যাতুর রেখা অভিযান ও অভিযানের কারণ - প্রথম পর্ব | আমার কথা
×

 

 

যাতুর রেখা অভিযান ও অভিযানের কারণ - প্রথম পর্ব

coSam ১৪৩


যাতুর রেখা নামকরণের কারণ সম্পর্কে হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সাঃ)-এর সাথে এক যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। আমাদের প্রতি ছয় জনের একটু উট ছিল। একজনের পর তাতে আরোরণ করে পথ অতিক্রম করতাম। এভাবে পথ চলার কারণে আমাদের পা জখম, এমনকি নখগুলো পড়ে যাবার উপক্রম হয়। তখন নেকড়ে দ্বারা পায়ের জখম স্থানে পট্টী বেঁধেছিলাম, তাই এ অভিযানের নাম যাতুর রেখা হয়। এ অভিযানের আরও অনেক নাম রয়েছে। যেমন- গাযওয়ায়ে মোহারেব, গাযওয়ায়ে বনী সা'লাবা, গাযওয়ায়ে বনী আনসার এবং গাযওয়াতুল আআ'জীব।

ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের মতে এ অভিযান হিজরী চতুর্থ সনে, ইবনে সা'দ ও ইবনে হিব্বানের মতে পঞ্চম হিজরী সনের মহররম মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম বায়হাকীর রেওয়ায়াতে যাতুর রেখা অভিযান দু'দফা হয়েছে।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার আসকালানী যাতুর রেখা অভিযান পরিখা বা খন্দক যুদ্ধের পরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। যুক্তিস্বরূপ তিনি বলেন, পরিখার যুদ্ধে সালাতুল খাওফ পড়া হয়নি। আর এটা সিদ্ধান্তকৃত যে, সালাতুল খাওফের বিধান যাতুর রেখা অভিযানকালে নাযিল হয়েছে। সুতরাং যদি যাতুর রেখা অভিযান পরিখার যুদ্ধের পূর্বে হত, তা হলে অবশ্যই রাসূল (সাঃ) পরিখার যুদ্ধে নামায কাযা না করে বরং সালাতুল খাওফ আদায় করতেন। ইমাম বুখারী যাতুর রেখা অভিযান হিজরী সপ্তম সনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

অভিযানের কারণ

রাসূল (সাঃ) বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, বনু গাতফানের শাখা গোত্র বনু মোহাবের ও বনু সালাবা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সৈন্য সমাবেশ করেছে। এ সংবাদ পেয়ে তিনি মদীনার শাসনভার হযরত আবুযর গিফারী (রাঃ)-এর উপর ন্যস্ত করে প্রায় সাতশ সৈন্য নিয়ে যাতুর রেখা অভিযানে বের হন। এ যাত্রায় রাসূল (সাঃ) মুসলিম মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে বহু কষ্টে এ স্থানে উপনীত হন। এর কারণ মুসলিম বাহিনীর বাহন স্বল্পতা। প্রতি ছয় জনের জন্য মাত্র একটি বাহন ছিল। এখানে উভয় দল মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে।

এদিকে যোহরের নামাজের সময় হয়ে গেছে। মুসলিম মুজাহিদরা নামাজে দণ্ডায়মান হন। কাফেররা নামাজে মুসলিম বাহিনীর নিমগ্নতা দেখে ভাবল মুসলিম বাহিনীর উপর নামাজের মধ্যে আক্রমণ পরিচালনা করাই অতীব ফলপ্রসূ হবে। তারা দেখল যে, মুসলমানরা নামাজে এতই নিমগ্ন হয় যে, অন্য কোন দিকে তাদের কোন খেয়াল থাকে না। এ ধারণার বশবর্তী হয়ে কাফের বাহিনীর একজন বলল এ ওয়াক্তে নামায তো গেল। আমরা আসরের নামাযরত অবস্থায় মুসলমানদের উপর হামলা করব। কেননা, আসরের নামায তাদের নিকট সন্তান সন্তুতি এবং যাবতীয় সহায় সম্পদ হতে অধিক প্রিয়।

মুসলিম বাহিনী আসরের নামাজে নিমগ্ন হলে কাফেররা তাদের উপর আক্রমণ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে রইল-এদিকে আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আঃ) মারফত কাফেরদের এ ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে নামায আদায়ে সবিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন। সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা সালাতুল খাওফ (ভীতিকালীন) নামাজের বিধান এবং তা আদায়ের রীতি পদ্ধতি সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেন-

وَإِذَا كُنتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِّنْهُم مَّعَكَ وَلْيَأْخُذُوا أَسْلِحَتَهُمْ فَإِذَا سَجَدُوا فَلْيَكُونُوا مِن وَرَائِكُمْ وَلْتَأْتِ طَائِفَةٌ أُخْرَىٰ لَمْ يُصَلُّوا فَلْيُصَلُّوا مَعَكَ وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ ۗ وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُم مَّيْلَةً وَاحِدَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن كَانَ بِكُمْ أَذًى مِّن مَّطَرٍ أَوْ كُنتُم مَّرْضَىٰ أَن تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ ۖ وَخُذُوا حِذْرَكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا

অর্থঃ আর আপনি যখন তাদের মুজাহিদ বাহিনী মধ্যে থাকবেন, অতঃপর তাদের নামায কায়েম করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাদের একদল আপনার সাথে নামাজের জন্য দাঁড়ান থাকবে এবং (অপর দল শত্রুর মোকাবিলায়) স্বীয় অস্ত্র গ্রহণ করবে। যখন তারা প্রথম দল সিজদা করে অবসর হবে তখন তারা তোমাদের পিছনে দুশমনের মোকাবিলায় চলে যাবে এবং যে দ্বিতীয় দল নামায পড়েনি তারা আসবে। অতঃপর তারা আপনাদের সাথে নামায পড়বে এবং এসব লোক প্রথম দল সতর্কতা ও অস্ত্র গ্রহণ করবে। কাফেররা বাসনা ও আকাঙ্ক্ষা করেছে যে তোমরা স্বীয় অস্ত্র ও মাল-সামান হতে নামাজের অবস্থায় যখন অসতর্ক হবে তখন আকস্মৎ একবারে তোমাদের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়বে। (সূরাঃ নিসাঃ আয়াতআংশ-১০২)

যাতুর রেখা অভিযান ও অভিযানের কারণ - শেষ পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পরবর্তী গল্প
যাতুর রেখা অভিযান ও অভিযানের কারণ - শেষ পর্ব

পূর্ববর্তী গল্প
যী-কারাদ অভিযান

ক্যাটেগরী