যমীনের উপর খিলাফত

আল্লাহ পাকের আহকামের প্রচার ব্যতীত হযরত ইদ্রীস (আঃ) তৎকালীন লোকদেরকে শহরী জীবন যাপনের পন্থার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায় ও এলাকা হতে শিস্য সংগ্রহ করেন। তাদেরকে শহরী জীবন ব্যবস্থা এবং এর বিধান ও নিয়ম পদ্ধতি শিক্ষা দেন। শিস্যগণ তাঁর সংশ্রবে থেকে পূর্ণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পর স্ব স্ব সম্প্রদায়ে ফিরে গিয়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদের লোকদিগকে শহরী জীবন যাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করে শহরী নিয়ম পদ্ধতিতে জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তুলতেন। তখন তাদের প্রচেষ্টায় এ ধরনের প্রায় ২০০ শহর গড়ে উঠেছিল।

হযরত ইদ্রীস (আঃ) বিভিন্ন এলাকার লোকদের জন্য তাদের পরিবেশ অনুযায়ী তাদের সরল ও সোজা জীবন যাপনের উপযোগী পৃথক পৃথক বিধান ও নিয়ম পদ্ধতি চালু করেছিলেন। তিনি মিসরকে ৪টি এলাকায় বিভক্ত করেন। প্রত্যেক এলাকায় একজন করে শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। প্রত্যক শাসনকর্তার প্রতি এ নির্দেশও জারী করেন যেন, আল্লাহ পাকের নিকট হতে ওহীর মাধ্যমে যে বিধান প্রাপ্ত হয়েছে তা সমস্ত আইন কানুনের উপর প্রধান্য পাবে। সর্ব প্রথম তিনি যে চারজন শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন তারা হলেনঃ ১। ইলাবেস ২। সাওস ৩।ইসকিলিবুস ও ৪। চতুর্থ ব্যক্তির নাম কেউ কেউ বলেন যাওস আমুন আবার কেউ কেউ বলেন ইলাবেস আমুন তৃতীয় এক পক্ষের অভিমত অনুসারে তার নামে বায়স লুন।

 জ্ঞান ও দায়িত্বের দিকে লক্ষ্য করে হযরত ইদ্রীস (আঃ) জনসাধারণকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছিলেন। ক। জ্যোতিষী খ। বাদশা বা শাসনকর্তা গ। সাধারণ প্রজা। তাদের দায়িত্ব  অনুসারে তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করেছিলেন। জ্যোতিষীদের মর্যাদা ছিল সর্বোচ্চ। কারণ নিজেদের কর্তব্য ও দায়ীত্ব ব্যতীত শাসনকর্তা ও সাধারণ প্রজাদের ব্যপারেও জবাবদিহী করা তাদের দায়িত্বে ন্যাস্ত ছিল নিজেদের দায়িত্বের ও কর্তব্যের এবং প্রশাসনিক বিষয়ের জবাবদিহী করা।

সাধারন প্রজাদের মর্যাদা ছিল সর্ব নিম্নে। কারণ তারা শুধু নিজেদের ব্যপারে দায়িত্বশীল। পদমর্যাদা নির্ধারণে বংশ গৌরব বা সম্প্রদায়ের বিশেষত্বের দিকটি বিবেচিত হত। আল্লাহ পাক তাকে আসমানে উঠায়ে ন্যের পূর্ব পর্যন্ত এভাবে তিনি শরীয়তের আলোকে জীবন যাপনের বিধান সমূহ প্রচার করেছেন।

উল্লেখিত শাসণকর্তা চতুদ্বয়ের মধ্যে ইসকিলিবুস খুব কর্মপটু ও সুদৃঢ় মনোবলের অধিকারী ছিলেন। হযরত ইদ্রীস (আঃ) এর প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ও ভক্তি ছিল। তিনি হযরত ইদ্রীস (আঃ) এর নীতি বাক্য সমুহের যথাযথ সংরক্ষণ করেছিলেন। হযরত ইদ্রীস (আঃ)কে আসমানে উঠায়ে নেয়ার পর তিনি খুবই ব্যথীত ও দুঃখিত হলেন।

যে যে জিনিস হযরত ইদ্রীস (আঃ) প্রথম করেছেনঃ

১। হযরত আদম আঃ এর পর হযরত ইদ্রীস (আঃ) প্রথম নবী ও রাসূল যার প্রতি আল্লাহ পাক ৩০টি ছোট ছোট আসমানী কিতাব অবতরন করেছেন।

২। হযরত ইদ্রীস (আঃ)কে সর্বপ্রথম জ্যোতিষ বিদ্যা ও অংক শাস্ত্রের শিক্ষা দান করেছেন।

৩। হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্ব প্রথম কলম দ্বারা লেখার প্রচলন করেন।

৪। হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্ব প্রথম কাপড় সেলাই করার কার্য আবিষ্কার করেন।

৫। হযরত ইদ্রীস (আঃ) সর্ব প্রথম জিনিস পত্র ওজন করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

৬। হযরত ইদ্রীস (আঃ) অস্ত্র শস্ত্র প্রস্তুত করে বনু কাবিল সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন।

আরো পড়তে পারেন

দুঃখিত, কপি করবেন না।