মৃত্যুর সময় শয়তানের মােকাবিলায় | আমার কথা
×

 

 

মৃত্যুর সময় শয়তানের মােকাবিলায়

coSam ১৩


ফেরেশতাদের সাহায্য-সহযােগিতা মানুষ অসহায় দুর্বল আবার দীর্ঘ দিনের অসুস্থতার কারণে শিরা-উপশিরা পর্যন্ত ক্ষত-বিক্ষত, আগে থেকেই বােধশূন্য ও বিবেচনাহীন এর উপর আত্মা কবজ ও মৃত্যুর তীব্র কষ্ট এ ভয়ানক অবস্থায় দুশমনের দল হামলা করে, আবার দুশমনের দলও দুশমনের বেশে নয়; বরং পিতা-মাতা, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বেশধারণ করে পরামর্শ দেয়, এসকল অবস্থা চিন্তা করলে মনে হয়, কোন মানুষই এ সংকটময় মুহূর্তে ঈমানের উপর অটল থাকতে পারবে না।

কিন্তু প্রবাদে আছে, ‘দুশমন চেহ কুনাদ চু মেহেরবা বাশাদ দোস্ত'। যখন বন্ধু মেহরবান হয় দুশমন তখন কী করবে? মৃত্যুকালীন মুহূর্তটা যেমন অত্যন্ত ভয়ানক ও বিপদসংকুল দৃশ্যে পরিপূর্ণ, তেমনি পরম দয়াময় আল্লাহ তা'আলার ঐ সময় মানুষের সাহায্যসহানুভূতির জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থাও প্রস্তুত করে রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ঘােষণা করেন : "যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতপর অবিচলিত থাকে, 

তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলে, তােমরা ভীত হইও না, চিন্তিত হইও না এবং তােমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও। আমরাই তােমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে। সেখানে তােমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তােমাদের মন চায় এবং সেখানে তােমাদের জন্য রয়েছে যা তােমরা ফমায়েশ কর।

এটা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ হইতে আপ্যায়ন।” আলােচ্য আয়াতসমূহের তাফসীরে সাহাবায়েকিরাম ও তাবেঈনদের থেকে ইস্তি কামত-এর একাধিক অর্থ করা হয়েছে। তবে সেসব তাফসীরের সবগুলাের সারকথা একই।

আর এ প্রসঙ্গে আবু বকর সিদ্দীক রা. বলেছেন : ইস্তিকামাতের মৃত্যুর পরের অনন্ত জীবন। ব্যাখ্যা হলাে ঈমান ও তাওহীদের উপর অটল এবং অবিচল থাকা। আর শিরক ও কুফরীতে লিপ্ত না হওয়া।

উল্লিখিত আয়াতের মালাইকা শব্দের একাধিক তাফসীর রয়েছে। কারাে কারাে মতে, ফেরেশতাগণ মৃত্যুর সময় মুমূর্ষ ব্যক্তির সাহায্যের জন্য নাযিল হবেন। কারাে কারাে মতে, কবরে অবতীর্ণ হবেন। আবার কারাে মতে, হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবেন। কিন্তু ইন কাছীর (রহ) সাহাবী ইব্‌ন আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণনা করে বলেন : ফেরেশতাগণ তাদেরকে মৃত্যুর সময় করে এবং যে সময় হাশরের ময়দানে পুনরুত্থিত হবে, সুসংবাদ প্রদান করবে।

উল্লেখ্য যে, এ মর্মে যত তাফসীর বর্ণিত উল্লিখিত তাফসীর সবগুলাের সমষ্টি এবং প্রকৃতপক্ষে এটাই বেশি নির্ভরশীল। অপর একটি প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থে এসেছে, ফেরেশতাগণ মৃত্যুমুখে পতিত ব্যক্তিকে সকল প্রকার সাহায্য করবেন।

এ সময় ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কীয় যত প্রকার চিন্তাভাবনার সম্মুখীন হােক না কেন, ফেরেশতাগণ তার সাহায্যে সহযােগিতায় এগিয়ে আসবেন, তার সকল প্রকার চিন্তা দূর করে দিবেন এবং সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও কষ্ট থেকে তাকে উদ্ধার করবেন।

পরবর্তী গল্প
মৃত্যুকালে শয়তানের ধোকা থেকে আত্মরক্ষার উপায়

পূর্ববর্তী গল্প
মৃত্যুর সময় শয়তানের চক্রান্ত

ক্যাটেগরী