মৃত্যুর সময় শয়তানের চক্রান্ত | আমার কথা
×

 

 

মৃত্যুর সময় শয়তানের চক্রান্ত

coSam ২১


মৃত্যুর সময় শয়তানের চক্রান্ত হাদীসের বর্ণনা হতে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : বান্দার অস্তিমকালে মৃত্যু যন্ত্রণা চলার সময় ইবলিস শয়তান উপস্থিত হয়ে উক্ত ব্যক্তির বাম পার্শ্বে উপবিষ্ট হয়ে বলে যে, হে আদম সন্তান! তুমি যদি এ কঠিন মৃত্যু কষ্ট হতে মুক্তি চাও তাহলে একাধিক সৃষ্টিকারীর অস্তিত্ব গ্রহণ কর অর্থাৎ শিরক কর। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এহেন কঠিন সময় ঈমান বাঁচানাে খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এ প্রসঙ্গে ইমাম আল-গাজ্জালী (রহ.) বলেন : মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে শয়তানের ধোকায় অনেক বান্দার ঈমান নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। ইবলিস শয়তানের উক্তরূপ ধোকা ও চক্রান্ত হতে আল্লাহর বী-রাসুলগণ ব্যতীত কারাে পক্ষে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করা খুবই কঠিন ব্যাপার।” একদা এক লােক ইমাম আজম আবু হানীফা (রহ.)-এর দরবারে হাজির হয়ে জানতে চেয়েছিলেন ; কোন আমলের দ্বারা ঈমান নষ্ট হওয়ার আশংকা অধিক। উত্তরে ইমাম আজম (রহ), বললেন : তিনটি বিশেষ কারণে মৃত্যুকালে ঈমান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। যেমন : ১. ঈমানের শােকর আদায় না করলে।

অর্থাৎ ঈমান গ্রহণের পরে তার জন্য আল্লাহ তা'আলার দরবারে কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করাই হলাে ঈমানের শােকর আদায় না করার শামিল। ২. জীবনের সর্বশেষ মুহূর্তকে ভয় না করলে। অর্থাৎ অস্থায়ী দুনিয়ার লােভের বশবর্তী হয়ে আল্লাহ্ তা'আলাকে অন্তকরণ হতে উঠিয়ে দেয়া।

ঈমানের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করা। ৩, আল্লাহু তা'আলার সৃষ্টি জীবসমূহের প্রতি জুলুম বা অত্যাচার করা। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্টিজীবসমূহের ভাল-মন্দের মালিক স্বয়ং তিনিই। বান্দা অন্য কোন বান্দার প্রতি জুলুম অত্যাচার করলে তারা জুলুমকারীকে অভিশাপ দিয়ে থাকে এবং এজন্যই মৃত্যুকালে জালিমের ঈমান শয়তানের চক্রান্তে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর একটি নির্ভরযােগ্য তথ্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, মানুষের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় তার হৃদপিণ্ডের ব্যাথায় এবং পানির পিপাসায় অত্যাধিক কাতর ও অস্থির হয়ে থাকে। এ দুরাবস্থার সুযােগ নিয়ে ইবলিস শয়তান ধোঁকা দেয়ার কাজে তৎপর হয়ে থাকে। এ সময় ইবলিস অতি শীতল এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে মৃত্যুপথ যাত্রীর সামনে এসে হাজির হয়ে গ্লাসটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাকে দেখিয়ে থাকে।

তা দেখে মৃত্যুবরণকারী লােকটি ইবলিসকে বলে : তুমি আমাকে় একটু পানি পান করাও। উত্তরে ইবলিস বলে : তুমি যদি স্বীকার কর যে, বিশ্বের কোন মালিক নেই, তাহলে আমি তোমাকে পানি পান করাতে পারি। এ জন্য রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন : যে মুসলমান মৃত্যু শয্যায় শায়িত তার কাছে থেকে তাকে কালেমা তালকীন কর এবং তাকে বেহেশতের সুসংবাদ দাও। কেননা, এ কঠিন সময়ে বড় বড় জ্ঞানী পুরুষ-মহিলা হতবুদ্ধি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হরে যায়। আর এ সময় শয়তান সুযোগ বুঝে মানুষের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে।

প্রখ্যাত আলিম ও আল্লাহর ওলী হাসান বসরী (রেহ.) বর্ণনা করেন : যখন আল্লাহ্‌ তা'আলা আদম ও হাওয়া আ. (আ:) কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন, সাথে সাথে শয়তানও উৎসব পালন করার জন্য পৃথিবীতে অবতরণ করে এবং বলতে থাকে : যখন আমি মানুষের পিতা-মাতাকে ধোকা দিয়ে ফেলেছি, তাদের সন্তান  তো তাদের থেকেও দুর্বল সুতরাং তাদেরকে প্রলুব্ধ করা কোন কষ্টের কাজ নয়।

ইবলিসের এ ধারণা সম্পর্কে মহান আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেছেন : “আর তাদের উপর ইবলিস তার অনুমান সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। পরে তাদের মধ্যে মুমিনদের একটি দল ব্যতীত সকলেই তার পথ অনুসরণ করল ।” এ প্রেক্ষিতে ইবলিস বলল : আমিও যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের আত্মা বাকী থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের থেকে আলাদা হব না।

তাদেরকে মিথ্যা অঙ্গীকার ও আশা আকাঙ্কা দিয়ে ধোকা দিতে থাকব । এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন : আমার ইজ্জত ও জালালের কসম, আমিও মানুষের তাওবাহ কবুল. করা বন্ধ করব না, যতক্ষণ সে মৃত্যুর নিকটবর্তী পৌছে। সে যখন আমাকে ডাকবে আমি তার ফরিয়াদ কবুল করব। যখন আমার কাছে চাইবে আমি তাকে তা দিব। যখন আমার নিকট গোনাহ মাফের প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব। এ প্রসঙ্গে ইমাম আল-গাজ্জালী (রহ) বলেন : মানুষের মুমূর্ধু অবস্থায় যে সময় আত্মা কবজের কন্টে বড় বড় জ্ঞানী ব্যক্তির জ্ঞানও অচল হয়ে যায়, তখন মানুষের সবচেয়ে বড় দুশমন শয়তান শিষ্যদেরকে নিয়ে মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে পৌছে।

এ সকল শয়তান মুমূর্ষ ব্যক্তির বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙক্ষী এবং সৎ, নিষ্ঠাবান লােকদের আকৃতিতে এসে তাকে বলতে থাকে, আমরা তােমার আগে মৃত্যুবরণ করেছি, মৃত্যুর উত্থান-পতন সম্পর্কে তােমার চেয়ে আমরা বেশি অবগত। এখন তােমার মৃত্যুর পালা এসেছে, আমরা তােমার শুভাকাজী সুহৃদ হিসেবে পরামর্শ   দিচ্ছি : তুমি ইয়াহুদী ধর্ম গ্রহণ কর, সেটিই উৎকৃষ্ট ধর্ম। যদি মুমূর্ষ ব্যক্তি তাদের কথা না মানে, তখন অপর এক শয়তানের দল অন্যান্য বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্ষীর আকৃতি ধারণ করে হাজির হয়ে বলে : তুমি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ কর।

কেননা তা ঐ ধর্ম যা মূসা আ.-এর ধর্ম রহিত করে দিয়েছে। শয়তান এভাবে প্রত্যেক ধর্মের বাতিল আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ মুমূর্ষ ব্যক্তির অন্তরে বদ্ধমূল করতে থাকে। ফলে যার ভাগ্যে সঠিক ধর্ম ইসলাম থেকে ফিরে যাওয়া লেখা থাকে। সে ঐ সময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণ করে। তাই এ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ্ তা'আলা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে মানুষের জন্য দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন :হে আমাদের প্রভু! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লনে উৎসাহিত করাে না এবং তােমার নিকট থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছু দানকারী।” অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, এ সময় জিব্রাঈল (আঃ) এসে বলেন : হে অমুক! তুমি কি আমাকে চিনতে পারনি, আমি জিব্রাঈল। 

আর এরা হলাে তােমার দুশমন শয়তান, তুমি তাদের কথা শােনবে না। স্বীয় দ্বীনে হানিফ ও শরীয়াতে মুহাম্মাদীর উপর অটল থাক। ঐ সময়টা মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্য এমন মধুর হয় যে, কোন বই তার চেয়ে অধিক প্রফুল্লতা দানকারী ও আরামদায়ক হয় না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা'আলা ঘােষণা করেন : “যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে রয়েছে সুসংবাদ।"

পরবর্তী গল্প
মৃত্যুর সময় শয়তানের মােকাবিলায়

পূর্ববর্তী গল্প
আয়েশা রাযি প্রাথমিক অবস্থা (জন্ম থেকে বিবাহ পর্যন্ত)

ক্যাটেগরী