মৃত্যুর সময় মুমিনের অবস্থা | আমার কথা
×

 

 

মৃত্যুর সময় মুমিনের অবস্থা

coSam ২৯


হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : যে সময় কোন লােকের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পরলােক যাত্রা করার সময় নিকটবর্তী হয়ে থাকে, সে সময় আসমান হতে সূর্যের মত আলােকজ্জ্বল চেহারা বিশিষ্ট একদল ফেরেশতা বেহেশতী কাফন ও সুগন্ধি সাথে নিয়ে যমীনে অবতীর্ণ হয়ে মৃত্যুপথযাত্রীর দৃষ্টি সীমার মধ্যে উপবিষ্ট হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। অতপর মালাকুল মউত তার মস্তকের পাশে বসে বলতে থাকে, হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহ তাআলার রহমত ও সন্তুষ্টির জন্য অতি শীঘ্র বাইরে চলে আস।

তখন ঐ ব্যক্তির আত্ম স্বেচ্ছায় বের হয়ে থাকে এবং তার মুখ হতে পানির ফোটা পড়তে থাকে। তারপর তারা ঐ ব্যক্তির আত্মাকে উক্ত বেহেশতী কাফনের ভিতরে লেপটিয়ে রাখেন। আর তখন তা হতে বেহেশতী মেশকের সুঘ্রাণ বের হতে থাকে। 

তারপর ফেরেশতাগণ যখন আত্মাকে নিয়ে আসমানে গমন করতে থাকে, তখন আসমানের ফেরেশতাগণ বলতে থাকে। এত উৎকৃষ্ট সুবাস কোথা থেকে বের হচ্ছে। এর উত্তরে ফেরেশতাগণ বলে : অমুকের পুত্র অমুকের রূহ তহতে এ সুবাস বের হচ্ছে। তখন উক্ত ফেরেশতামন্ডলী তাকে উত্তম নামে সম্বােধন করে থাকে।

যখন ফেরেশতাগণ আত্মা সহকারে প্রথম আকাশের শেষ সীমায় পৌছে যায়, তখনই সপ্তাকাশের সকল দরজাসূহ এর শুভাগমনে খুলে যায় এবং প্রতিটি আসমানের কতক ফেরেশতা তার সম্বর্ধনার উদ্দেশ্যে সামনে এগিয়ে যায়।

এ প্রকারে সপ্তম আসমানে আরােহন করা মাত্রই আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে উচ্চঃস্বরে বলা হয়ে থাকে : হে ফেরেশতামন্ডলী! তার আমলনামা ইল্লীয়্যিন নামক স্থানে জমা রেখে দাও এবং উক্ত ব্যক্তির রূহকে তার দেহের সাথে মিলিয়ে দাও। যেহেতু তাকে মাটি হতেই সৃষ্টি করেছি এবং তাকে এ মাটিতেই ফিরিয়ে নেব এবং এ মাটি হতেই তাকে পুনরুত্থান করব।

এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন : “আমি তােমাদেরকে এ মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছি, দ্বিতীয়বার এ মাটির ভিতরেই তােমাকে ফিরে যেতে হবে এবং সর্বশেষ এ মাটির মধ্য থেকেই তােমাদেরকে পুনরুত্থান করিয়ে হাশরের ময়দানে হাযির করব।” এরপর আল্লাহ্ তা'আলার আদেশ অনুযায়ী ফেরেশতাগণ উক্ত আত্মাকে কবরে অবস্থিত তার দেহের সাথে মিশে দেয়।

তারপর মুনকার-নকীর ফেশেতাদ্বয় তথায় আগমন করে মৃত ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞেস করবে : হে আল্লাহর বান্দা! আপনি বলুন তাে আপনার প্রতিপালক কে? আপনার নবী কে? এবং আপনার ধর্মের নাম কী? অতপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দিকে ইঙ্গিত করতঃ বলবে যে, হে আল্লাহর বান্দাহ এ মহাপুরুষ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? তখন মুমিন বান্দা সকল প্রশ্নের সঠিকভাবে উত্তর দিবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা অতি নিকট হতে উচ্চঃস্বরে ইরশাদ করবেন : হে ফেরেশতাদ্বয়! আমার মুমিন বান্দা সঠিক ও সত্য কথা বলেছে।

সুতরাং তাকে বেহেশতী পােশাক পরিয়ে দাও এবং বেহেশতী বিছানা বিছিয়ে দাও, যাতে তার কবরের মধ্যে বেহেশতী সুগন্ধি আসতে পারে। আর তার চোখের দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও।” আতা খােরাসানী (রহঃ) বলেন : যে বান্দা যমীনের কোন জায়গায় সিজদা করে, সে জায়গা কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন : কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলেন :তাদের জন্য আসমান ও যমীন কাঁদেনি, এ আয়াতের অর্থ কী? তিনি জবাব দিলেন : হ্যা, আসমান যমীন কাঁদে, যত মাখলুক আছে সবার জন্যই। আসমানের দুটি দরজা আছে। এক দরজা দিয়ে মানুষের রিযিক দেয়া হয়। 

আর অপর দরজা দিয়ে তার সর্ম উপরে চলে যায়। অতএব, মু'মিন যখন ইন্তিকাল করে, তখন তার জন্য নির্ধারিত আসমানের উভয় দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং তার জন্য ক্রন্দন করতে থাকে।

এমনকি যে যমীনে সে নামায পড়ত সে যমীন তার নামাযের স্থান না দেখে এবং আল্লাহর যিকির শুনতে না পেয়ে তার জন্য কাঁদতে থাকে। যেহেতু ফিরআউনের জাতির এমন কোন ভাল কাজ ছিল না, যা আসমানে যাবে, তাই এ দরজা তাদের জন্য কাদেনি।

পরবর্তী গল্প
বারযাখী জীবন মৃত্যু থেকে হাশর পর্যন্ত ও কবর

পূর্ববর্তী গল্প
মুমূর্ষ ব্যক্তির সাথে ফেরেশতাদের কথােপকথন

ক্যাটেগরী